বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাককে শ্রদ্ধা : ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

খন্দকার মোশতাকের প্রতি ‘শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসূচক’ বাক্য ব্যবহার করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ ক্ষমা চেয়ে পার পাচ্ছেন না। এই ভুলের শাস্তি হিসেবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গত ১৭ই এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের অন্য মন্ত্রীদের পাশাপাশি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোশতাকের অবদানের কথা উল্লেখ করে তার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। সভায় উপস্থিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড.মুহাম্মদ সামাদসহ অনেকেই এর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন।

বক্তব্যে খন্দকার মোশতাকের নাম নিলেও তাকে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ। খন্দকার মোশারফের নাম নেওয়ার বিষয়টি ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তবে বিষয়টি সেখানে থেমে থাকেনি। তার এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা আসতে থাকে চারদিক থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে আসে প্রতিবাদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে এই শিক্ষকের অব্যাহতি চেয়ে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দেয় ছাত্রলীগ। সব মহলে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভা ডাকা হয়। সেখানে অধ্যাপক রহমত উল্লাহকে সকল প্রকার অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. এএসএম মাকসুদ কামালকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, প্রফেসর রহমত উল্লাহর বিষয়ে প্রথমে নিন্দা প্রস্তাব দেয়া হয় সিন্ডিকেট সভায়। পরে তাকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামালকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আর রহমত উল্লাহর কাছে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। রহমতউল্লাহকে তদন্ত কমিটির কাছে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।