বাংলালিংকের দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

প্রসবের পর দেখতে সুন্দর ও নাদুসনুদুস হওয়ায় শখের বশে নাম রাখা হয় ‘বাংলালিংক’। গত সাড়ে চার বছরে ওজন হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কেজি। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির চেষ্টা চলছে। দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। তবে বাজার দরেই বিক্রি করা হবে।

প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশাল আকৃতির ষাঁড় দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

শুক্রবার বিকালে বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের বাওইটোনা গ্রামে ব্যাংকার জহুরুল ইসলাম জুয়েলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামার প্রায় ফাঁকা। বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড় খামারে আগতদের দেখে উচ্চশব্দে চিৎকার (হাম্বা হাম্বা) করতে থাকে। ষাঁড়ের কাছে দেখভালকারী জুয়েলের মেজো ভাই বাবলু সরকার এসে শরীরে হাত দিলেই শান্ত হয়।

খামারি জুয়েল জানান, দেখভাল করার তেমন কেউ না থাকায় অধিকাংশ গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি বিদেশি পাঁঠা আছে। এসব শিগগিরই বিক্রি করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে বাড়ির অনেক পুরাতন অস্ট্রেলিয়ান হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গাভি একটি ষাঁড় প্রসব করে। বাচ্চাটি দেখতে অনেক সুন্দর ও নাদুসনুদুস হওয়ায় নাম রাখা হয় বাংলালিংক। গত কয়েক বছরে ষাঁড়টি প্রায় ১৫শ কেজি ওজন হয়। একে নিজ জমিতে চাষাবাদ করা নেপিয়ার ঘাস, খড় ও ভুষি খেতে দেওয়া হয়। প্রতিদিন খরচ প্রায় ৫০০ টাকা। কখনো কোনো ক্ষতিকারক ইঞ্জেকশন বা মোটাতাজা করার চেষ্টা করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বাংলালিংককে লালন পালন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এবার কোরবানির ঈদে আট দাঁতের ষাঁড়টি (বাংলালিংক) বিক্রির চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে কোনো হাটবাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাবেন না। স্থানীয় পশু চিকিৎসক বলেছেন, ষাঁড়ের ওজন হবে প্রায় ১৫শ কেজি। তাই দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। এরপরও বর্তমান বাজার দর অনুসারে বিক্রি করা হবে। যদি বগুড়ায় বিক্রি না হয় তাহলে বাংলালিংককে ঢাকা বা চট্টগ্রামে নিয়ে যাবেন।

অন্যদিকে বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার জিয়াম হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড় পালন করেছেন। আট ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার এ ষাঁড়ের নাম দিয়েছেন ‘হিরো আলম’। সাড়ে তিন বছর বয়সী ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৯০০ কেজি। দাম চাইছেন আট লাখ টাকা। হিরো আলমকে দেখতেও তার বাড়িতে মানুষ ভিড় করছেন।

জিয়াম জানান, তিনি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, ঘাস, খৈল, ভুষি, চালের কুড়া, ভুট্টাসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান। নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার রাখা, ভ্যাকসিন দেওয়া ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। তার বিশ্বাস কোরবানির আগেই হিরো আলমকে সাত লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের নয়ানা মাঝপাড়া গ্রামে ব্যবসায়ী জাফিরুল ইসলাম জাফু শখের বশে বাড়িতে ষাঁড় পালন করে থাকেন। তিনি এ বছর হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান ও শাহীওয়াল জাতের ষাঁড় পালন করেছেন। শখের বশে নাম দিয়েছেন লালু ও কালু। খাবারের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিদিন তার ৬০০ টাকার খাবার দিতে হয়। তাই দুটির দাম চাইছেন ১৪ লাখ টাকা। তবে তিনি কিছু কম হলেও বিক্রি করবেন।

বগুড়া জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ১২ উপজেলায় ৪৬ হাজার ১৫ জন খামারি মোট চার লাখ ২৭ হাজার ২৯৫টি গবাদিপশু কোরবানির উপযোগী করেছেন। এ বছর জেলায় কোরবানি ঈদে পশুর চাহিদা রয়েছে তিন লাখ ৫৯ হাজার ৩৭টি। এ হিসাবে জেলায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে ৬৭ হাজার ৯২০টি।