বিগ ডেটাঃ প্রথাগত ডেটার ‌উপরের সংস্করন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই তাঁর বিভিন্ন ডেটা পয়েন্ট এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমানে ডেটা তৈরি করছে। মাঝে মাঝে ব্যবসায়সমূহ এক্সেল শীট, অ্যাক্সেস ডেটাবেজ এবং অন্যান্য অনুরূপ সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই ডেটাগুলি পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ডেটা যখন এই ধরনের সরঞ্জামগুলির মধ্যে ফিট করতে পারেনা, এবং নিবিঢ় ম্যানুয়েল প্রক্রিয়াকরনের কারনে মানুষের ত্রুটির ঘটনা গ্রহনযোগ্য সীমার উপরে বৃদ্ধি পায় তখনই বিগ ডেটা এবং বিশ্লেষন সম্পর্কে চিন্তা করার সময় আসে।

আমরা আর শিল্প যুগে নেই, যেখানে সম্পদ এবং অগ্রগতি প্রাথমিকভাবে উৎপাদন থেকে উদ্ভূত হয়। পিটার ড্রাকার ১৯৫০ এর দশকে বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই নতুন যুগে, জ্ঞান নতুন রাজধানী হয়ে উঠবে, এবং সেই শিক্ষা সমাজে এর ভূমিকার ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাবে।

জ্ঞানের জন্য তথ্য প্রয়োজন। আবার জ্ঞানের জন্য ডেটাও প্রয়োজন। ডেটা থাকার অর্থ জ্ঞান থাকা নয়, তবে ডেটা ছাড়া জ্ঞান অর্জন করা যায়না। জ্ঞান হল তথ্য ব্যাখ্যা করার এবং ব্যবহার করার দক্ষতা। জনগন, কর্পোরেশন, সরকার এবং অন্যান্যদের ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ডেটা অপরিহার্য।অতীতে, তথ্য সংগ্রহ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ ছিল।ডিজিটাল সংযোগের জন্য একটি ইউনিফাইড গ্লোবাল প্লাটফর্ম হিসাবে ইন্টারনেটের উথ্থান মানব এবং মেশিন উৎপাদিত ডেটার অনেক বৈচিত্রময় নতুন উৎস সরবরাহ করেছে। এই উৎসগুলি প্রায়ই ‘‘বিগ ডেটা’’ নামে পরিচিত, যেগুলি বানিজ্যিক লেনদেন, দূরবর্তী চিত্র, সেন্সর পরিমাপ, ভূ-স্থানিক অবস্থান, ওয়েব সামগ্রী এবং অনলাইন ব্যবহারকারী কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করে।

বিগ ডেটাকে ঐতিহ্যগত/প্রথাগত/সনাতনী ডেটার উপরের সংস্করন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বর্তমানে বিগ ডেটা এমন একটি ধারনা যা একাডেমিয়ার তুলনায় ব্যবসায়ে অনেক বেশি আকর্ষন রয়েছে বলে মনে হয়।বিগ ডেটা বিশ্লেষনের বেশিরভাগ কাজ বানিজ্যিক বা শিল্প খাতে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে কোম্পানিগুলি ডেটা সংগ্রহ করে এবং তারপর কিছু আর্থিক সুবিধার জন্য এটি বিশ্লেষন করে। বিগ ডেটাকে আগে ‘‘থ্রি ভি’স” দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হলেও বর্তমানে প্রায়শই এটিকে ‘‘ফাইভ ভি’’স” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে- ভলিউম বা আয়তন, ভ্যালোসিটি বা বেগ, ভ্যারাইটি বা বৈচিত্র, ভ্যারিয়েবিলিটি বা পরিবর্তনশীলতা, এবং ভ্যালু বা মান।

বিগ ডেটা উথ্থানের অর্থ এই নয় যে, প্রথাগত ডেটা বাদ দিতে হবে। দু’য়ের মধ্যে কোনটিকে বেছে নেবে তা সংস্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের চাহিদার উপর নির্ভর করবে। প্রতিটি সংস্থার বিগ ডেটা প্রক্রিয়াকরনের জন্য নিজস্ব ডেটা প্রয়োজনীয়তার সেট থাকে, যেমন- আবহাওয়া ডেটা, কনট্রাক্ট তথ্য, শ্রমডেটা, আর্থিক প্রতিবেদন তথ্য, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ডেটা, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার বিষয়ে ডাক্তারদের নোট প্রক্রিয়াকরন, চুক্তি ইত্যাদি।

বিভিন্ন বৈশ্বিক সরকারি সংস্থার দ্বারা ব্যহৃত কৌশল হল বিগ ডেটা উৎস এবং ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত ডেটা সেটগুলি থেকে প্রাপ্ত পরিপূরক তথ্যগুলিকে পদ্ধতিগতভাবে একত্রিত করা, যাতে তদন্তাধীন সমস্যাটির একটি সমৃদ্ধ, আরো গতিশীল এবং আরো ভাল দৃষ্টি নিবদ্ধ পরিসংখ্যানগত চিত্র তৈরি করা যায়। এটি শুধুমাত্র বিদ্যমান পরিসংখ্যানগত পণ্যগুলির বাজারের খরচ এবং সময়কে কমানাই নয়, বরং নতুন অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করে পরিসংখ্যানগত ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান তথ্যের চাহিদা পূরন করে এমন উদ্ভাবনী সমাধান সরবরাহ করাও অন্যতম উদ্দেশ্য।

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিগ ডেটা হল একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা ছাত্র, শিক্ষক এবং নীতি নির্ধারকদের জন্য তথ্য জানাতে, নিযুক্ত করতে, এবং দুর্দান্ত সুযোগ দিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।শিক্ষা ক্ষেত্রে বিগ ডেটার জন্য আগ্রহ দু’টি বিভাগঃ ১. প্রশাসনিক, শিক্ষাগত, এবং গুণমান- উন্নতি প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত শিক্ষা ডেটা; ২. লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম, অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্ম, শেখার উপাদান এবং ক্রিয়াকলাপ, শিক্ষার উদ্দেশ্য, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং অন্যান্য উপকরনগুলির সমন্বয়ে গঠিত কোর্সের তথ্য, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার এবং ইন্টারঅ্যাকশনের জন্য এবং এগুলো থেকে উৎপাদিত ডেটা।

মোটকথা- বিগডেটা অ্যাপ্লিকেশনগুলি স্বাস্থ্য সেবা, মিডিয়া এবং বিনোদন, উৎপাদন, শিক্ষা, ব্যাংকিং, পরিবহনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। বিগ ডেটা বিশ্লেষনের ব্যাপক গ্রহনের পেছনে চালিকা শক্তি হল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সম্ভাব্য সুবিধা। বিগ ডেটা ব্যবহার করা ব্যবস্থাপকগন অন্তদৃষ্টির পরিবর্তে প্রমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। তবে শিক্ষাবিদরা তাদের গবেষনায় বিগডেটা গ্রহন এবং একীভূত করতে ধীরগতি দেখিয়েছেন। প্রথাগত ডেটার পাশাপাশি এটির উপরের সংস্করন হিসেবে বিগ ডেটা বর্তমান সময়ে এক বিরাট বিস্ময়কর উদ্ধাবন হিসেবে পরিগণিত।

লেখকঃ গবেষক, কলামিষ্ট এবং সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং, কুমিল্লা। ইমেইলঃ mdmoinuddinchowdhury.2012@gmail.com