ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ঢাকা ডায়নামাইটস, ঢাকা প্লাটুন, মিনিস্টার ঢাকা, ঢাকা ডমিনেটর্স, দুর্দান্ত ঢাকা, ঢাকা ক্যাপিটালস-১১ বছরে এক ঢাকাই দল খেলেছে সাতটি নামে। বরিশাল ও সিলেটও প্রায় একই গল্পের অংশ। মালিকানা বদল হলেই দল বদলে গেছে নাম, রং আর পরিচয়। এবার সেই চক্র ভাঙতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবির সহসভাপতি ও বিপণন বিভাগের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন জানালেন, এবার থেকে আর ইচ্ছেমতো দলের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একবার অনুমোদিত নামেই ফ্র্যাঞ্চাইজি চলবে বছরের পর বছর। ‘একদিন দল হয় ঢাকা ক্যাপিটাল, পরদিন ঢাকা রাইডার্স-এটা ঠিক নয়,’ বলেছেন শাখাওয়াত, ‘আমরা চাই, নামটা যেন একটি ব্র্যান্ড হয়ে থাকে। পাঁচ–দশ বছর পরেও সেই নামই থাকুক। নাম পরিবর্তন আর করা যাবে না, আমরা এটিকে ট্রেডমার্ক করে দিচ্ছি।’
দ্বাদশ বিপিএলের জন্য অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠান। তারা নিজেদের পছন্দের দল ও নাম উল্লেখ করে ইওআই জমা দিয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের জন্য আবেদন পড়েছে দুটি করে।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-রংপুর রাইডার্সের টগি স্পোর্টস, ঢাকা ক্যাপিটালসের চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস, কুমিল্লা ফাইটার্সের ফার্স্ট এসএস এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের জন্য এস.কিউ স্পোর্টস ও ট্রায়াঙ্গেল সার্ভিসেস, খুলনার জন্য মাইন্ড ট্রি লিমিটেড ও রূপসী কনক্রিট প্রোডাক্টস, রাজশাহীর জন্য নাবিল গ্রুপ ও দেশ ট্রাভেলস, বরিশালের জন্য আকাশবাড়ি হলিডে অ্যান্ড রিসোর্টস, সিলেট ইউনাইটেডের জন্য জে এম স্পোর্টস এবং নোয়াখালির জন্য বাংলা মার্ক।
সবশেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালও এবারের তালিকায় নেই। বরিশালের ফ্র্যাঞ্চাইজি অন্য কেউ পেলে বদলে যেতে পারে দলের নাম। বিপিএলের সফলতম দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও এবার থাকছে না। তাদের জায়গায় নতুন নামে আসতে পারে কুমিল্লার দল।
শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অনেকে অনেক নামে দল চেয়েছেন। যেমন ফরচুন বরিশাল এখন অন্য নামে আবেদন করেছে। ভবিষ্যতে এসব নাম বোর্ড নির্ধারণ করবে, কেউ চাইলেই পরিবর্তন করতে পারবে না।’
বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানালেন, নতুন কাঠামোর লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখা। ‘আমরা চাই, যারা বিনিয়োগ করবে তারা যেন কয়েক বছরের মধ্যেই লাভবান হয়। তবেই তারা লিগে টিকে থাকবে,’ বলেন তিনি।
সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শুরু হবে বিপিএলের নতুন আসর। প্লেয়ার্স ড্রাফটের সম্ভাব্য সময় ১৭ নভেম্বর। নতুন নিয়মে এবার হয়তো স্থিতিশীল পরিচয়ে ফিরবে বিপিএলের দলগুলো, যেখানে ‘ব্র্যান্ড’ নামটাই হবে স্থায়ী পরিচয়।