‘বিবৃতি প্রদানকারীরা নবমী পর্যন্ত আমাদের খোঁজ রাখেননি, পাহারা দিয়েছেন এমপি বাহার’

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

‘পূজা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন, নানামুখী কথা এখনো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ কুমিল্লা সদর আসনের এমপি বাহাউদ্দিন বাহারকে নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, ব্যঙ্গ করেছেন এবং মিডিয়াতেও বক্তব্য দিয়েছেন। সে সব বিবৃতি প্রদানকারী বা ব্যঙ্গকারীদের কেউ-ই শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমী পর্যন্ত আমাদের খোঁজ রাখেননি। আসেননি পূজামণ্ডপেও। অথচ যাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, তিনি তাঁর (সদর আসনের এমপি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার) নেতাকর্মীদের দিয়ে আমাদের পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। পূজার শুরু থেকে নবমী পর্যন্ত এই নির্বাচনী এলাকার (সদর আসন) সকল ইউনিয়ন ও নগরীর অধিকাংশ মন্দিরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ছুটে গিয়েছেন। এটাই বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার পরীক্ষিত একজন কর্মীর প্রমাণ এবং অসাম্প্রদায়িক নেতার উদাহরণ। তিনি হচ্ছেন আমাদের এমপি বাহার।’
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের হযরতপাড়া এলাকার নমসুদপাড়ায় দ্বিতীয় মুরাদপুর যুবসংঘ পূজামণ্ডপে এভাবেই অকপটে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস চন্দ্র দাস। শুধু তিনি-ই নন, ওই পূজামণ্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দাস ও কোষাধ্যক্ষ ঝন্টু চন্দ্র দাসও এমপি বাহারের অসাম্প্রদায়িক বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে একই কথা বলেন। তারা বলেন, কে কি বলল, তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও এমপি বাহার ভাই আমাদের পূজামণ্ডপে এসে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তাঁর (এমপি বাহার) সহযোগিতায় বিগত সময়ের ন্যায় আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করছি। তিনি আমাদের উৎসব দেখতে এসেছেন, আমরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছি।
জানা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৩ দিন ধরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ে ছুটে যান কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তাদের প্রিয় নেতাকে। কেউ কেউ তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শঙ্খ বাজানো ও উলু ধ্বনিতে মণ্ডপজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। এসময় সকলের স্লোগান ছিল একটাই ‘হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই, কুমিল্লাতে বাহার ভাই’। গত ৩ দিনে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রতিটি মণ্ডপে ছিল একই দৃশ্য।
জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া দত্তবাড়িতে আয়োজন করা হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের। শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের লক্ষ্যে মহাঅষ্টমীর দিন গত রবিবার সন্ধ্যায় এ মণ্ডপে যান সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এসময় ওই এমপির কাছে ছুটে গিয়ে রাখাল চন্দ্র শীল ও গোবিন্দ চন্দ্র শীলসহ অন্যান্যরা হাসিমুখে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গণ করেন। পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ফুটে ওঠেছে সম্প্রীতির অনন্য এক মেলবন্ধন। এসময় শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাত বছরের শিশু নিহা তার মায়ের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলেন এমপির। যা নজর কেড়েছে উপস্থিত সকলের। রাখাল চন্দ্র শীল (৭০) বলেন, আমরা দীর্ঘ বছর ধরে বাহার ভাইকে দেখে আসছি। তিনি এমপি আছেন বলেই আমরা নিরাপদে আছি। বাহার ভাইয়ের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা আমাদের মণ্ডপ পাহারা দেয়। দেশের অন্য এলাকার কথা জানি না, আমাদের এলাকায় বাহার ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা ভালো আছি, শান্তিতে বসবাস করছি। একই কথা বললেন গোবিন্দ চন্দ্র শীল (৬৫)। তিনি বলেন, কে কি বলল, তাতে আমাদের কিচ্ছু আসে যায় না। বাহার ভাইকে সরাসরি দেখলে উৎসব পালনে আমাদের সাহস আর আনন্দ-উচ্ছ্বাস হাজারোগুণ বেড়ে যায়। দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আমতলী এলাকার পূজামণ্ডপে গেলে স্থানীয় এমপিকে বরণ করতে ছুটে আসেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ফুল নিয়ে ছুটে আসেন বৃদ্ধ বেনু চন্দ্র শীলসহ অন্যান্যরা। স্মৃতি ধরে রাখতে অন্যান্যদের সাথে তুলে রাখেন ছবি। বেনু চন্দ্র শীল বলেন, পূজা নিয়ে আমাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ এলাকায় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে রয়েছে সম্প্রীতি। আমাদের মণ্ডপে এমপি সাহেব এসেছেন, এতে আমরা খুব খুশী হয়েছি। উনার আগমন আমাদের উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এর আগে কালির বাজার ইউনিয়নের হরিদাস বাবাজির আখড়া সংঘে গিয়ে বৃদ্ধা বাসনা দেবনাথসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এসময় তারা আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আশ্বাস দেন।
সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর হযরতপাড়া নমসুদপাড়া এলাকার দ্বিতীয় মুরাদপুর যুবসংঘে গিয়ে কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা ও আদর্শ সদর উপজেলার রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা শেফালী রানী দেবনাথ (৬০) এর সাথে। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের পূজামণ্ডপে এমপি মহোদয় এসেছেন, আমরা খুব খুশী হয়েছি। আমরা সকলে তাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করেছি। সোমবার রাতে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া এলাকায় যান এমপি বাহার। সেখানে সনাতনধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত হন ৯২ বছরের বৃদ্ধ নিরোদ বিহারী দে। তিনি বলেন, পূজাসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে পবিত্রতা বজায় থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পূজামণ্ডপে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, সম্প্রীতির নগরীতে অনন্য উদাহরণ কুমিল্লা জেলা। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য নির্বাচনের আগে আমাদের বাহার ভাইকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হচ্ছে। যা আমাদের কাম্য নয়। এ নগরীতে আমরা হিন্দু-মুসলিম একসাথে মিলেমিশে থাকতে চাই।
এদিকে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগরী ও আদর্শ সদর উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছিল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের এমপি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাতের শারদীয় শুভেচ্ছা সম্বলিত ফ্যাস্টুন। উৎসবের আনন্দে একাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সকলেই। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব।