ভাই ভাই পিঠার দোকান

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

ব্যস্ত নগরজীবনে যারা পিঠা তৈরি করতে সময় পান না, তারা হরহামেশাই ভিড় করেন পাড়া-মহল্লা কিংবা বিভিন্ন রাস্তার পাশের পিঠার দোকানগুলোতে। রাস্তার পাশের টঙ দোকানে বসেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। শুধু রাস্তার পাশেই নয়, রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে হরেক রকমের পিঠার দোকান রয়েছে।

যারা রাজধানীর কচুক্ষেত বাজারে এসেছেন তারা জানেন, বাজারের বিপরীত পাশে সারি সারি পিঠার দোকান। সেখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাই ভাই পিঠার দোকান’। এই দোকানে তিন ধরনের পিঠা পাওয়া যায়। ঐ দোকানের স্বত্বাধিকারীর নাম মো. খোকন। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তাদের দোকানটি প্রায় ২০ বছর ধরে চলছে। আগে তাদের বাবা সিদ্দিক এই দোকানটি চালাতেন। বাবার মৃত্যুর পর চার ভাই মিলে এই দোকানটি পরিচালনা করেন।’

কী কী পিঠা পাওয়া যায়:
ভাই ভাই পিঠার দোকানে গরমকালে পাওয়া যায় চিতই পিঠা এবং তেলের পিঠা। শীতকালে এই দুই পিঠার সঙ্গে যোগ হয় ভাপা পিঠা। সন্ধ্যা থেকেই এসব দোকানে ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে কিনে বাসায়ও নিয়ে যান।  প্রতি পিস চিতই পিঠা আগে পাঁচ টাকা করে বিক্রি হতো, এখন আরো পাঁচ টাকা বেড়ে এর দাম হয়েছে ১০ টাকা।

২২ আইটেমের ভর্তা পাওয়া যায় এই দোকানে

২২ আইটেমের ভর্তা পাওয়া যায় এই দোকানে

কী কী ভর্তা পাওয়া যায়:
ভাই ভাই পিঠার দোকানের নানা-পদের ভর্তা প্রধান আকর্ষণ। এই দোকানে গরমকালে ১৮ আইটেমের ভর্তা থাকে আর শীতকালে থাকে ২২ আইটেমের ভর্তা। ভর্তাগুলো হলো- কবুতরের মাংসের ভর্তা, খাসির মাংসের ভর্তা, মুরগির মাংসের ভর্তা, মুরগির ডিমের ভর্তা, লইট্টা শুঁটকি ভর্তা, ধুনিয়া পাতা ভর্তা, ইলিশ মাছের ভর্তা, কাচকি মাছ ভর্তা, মলা মাছের ভর্তা, পুঁটি মাছের শুঁটকি ভর্তা, ডাল ভর্তা, চ্যাপা শুঁটকি ভর্তা, সরিষা ভর্তা, কালো জিরা ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা। আর এর মধ্যে স্পেশাল ভর্তাগুলো হলো- কবুতরের মাংসের ভর্তা, ইলিশ মাছের ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা।

এই দোকান থেকে প্রতিদিন আয় হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা

এই দোকান থেকে প্রতিদিন আয় হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা

খোকন আরো জানান, তারা এই দোকান থেকে প্রতিদিন আয় করে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। আবার শীতকালে আলাদা। শীতকালে তাদের আয় গরমকালের থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়। শীতকালে তাদের এই পিঠার দোকানে চুলা থাকে ৪২টি, আর এখন আছে ১৪টি। তাদের মাসিক আয় সাড়ে তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত। তাদের এই আয় দিয়ে চার ভাইয়েরই খুব ভালোভাবে সংসার চলে।