ভারতীয় গরুর আগমনের শংকায় শংকিত কুমিল্লার গরু ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ঈদ উল আজহা সন্নিকটে। প্রস্তুত হচ্ছে কোরবানীর হাট গুলো। কিন্তু ভারতীয় গরুর আগমনের শংকায় শংকিত কুমিল্লার গরু ব্যবসায়ীরা
সূত্র মতে, কুমিল্লা জেলার প্রায় ১০৫ কিলোমিটার এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত। এছাড়াও পাশের জেলা গুলোতেও আছে সীমান্তের কিছু অংশ। এই সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়েই প্রতিবছর অবৈধভাবে অবাধে কোরবানির পশু কুমিল্লাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে খামারিদের খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে হয় নিজের গবাদি পশু। লোকসানের ভার কাঁধে নিয়ে ফিরতে হয় ঘরে।

কুমিল্লা নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ড লক্ষ্মীনগর এলাকার খামারী জুয়েল আহমেদ বলেন, তিনি দেশীয় খাবারে পালন করেছেন অন্তত ৩৫ টি গরু। আড়াই লাখ টাকা থেকে ১২ লাখ টাকার গরু আছে তার ফার্মে। জুয়েল মনে করেন ভারতীয় গরু কুমিল্লায় প্রবেশ করলে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ব্যহত হবে।

একই কথা বললেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মাঝিগাছা এলাকার খামারী শফিউল আলম। তিনি বলেন সীমান্ত যদি কড়াকড়ি না থাকে তাহলে আমরা খামারীরা এবার বড় লোকসান গুনতে হবে। এমনিতেই গত বছরের লোকসানের ক্ষত এখনো শুকায়নি।

কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় গত বছর ৩৬৩ হাটে কোরবানির গরু বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৪২ পশু। সে বছর উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ১১ হাজার ৬২৫ টি। চলতি বছর আসন্ন ঈদুল আজহায় ৩৩ হাজার ৯৩০জন খামারি পশু পালন করেছেন। এবছর পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ২ লাখ ৪৮ হাজার পশুর।
এছাড়াও এবছর ১০হাজার ৪৩২ কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

জেলার খামারিদের সংগঠন ডেইরি এসোসিয়েশন কুমিল্লা জেলার সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা একটি বছর পশু পালন করে স্বপ্ন দেখি। আর চোরাইভাবে ভারতীয় গরু আমাদের স্বপ্নকে পিষে দেয়। এই ব্যাপারে যদি প্রশাসন কঠোর অবস্থানে না থাকে তাহলে আমরা শেষ। অনেক নতুন উদ্দ্যোক্তা আছে। তারা ধার-দেনা করে খামার করেছে। স্বপ্ন দেখেছে। তারা নি:স্ব হয়ে যাবে।

ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, শুধু ভারতীয় গরু প্রবেশ করলেই ক্ষতির সম্মুখিন হবে তা নয়। সড়কে চাঁদাবাজি, বেশি দামে টোল আদায়, পরিবহনে বেশি ব্যয় ও ছিনতাইয়ের কারণেও অনেক খামারি প্রতি বছর নিঃস্ব হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত এমন কোন ঘটনা এবছর ঘটেনি। তবে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই যেন প্রভাবশালীরা খামারিদের কোন ক্ষতি না করতে পারে সেদিকে নজর দিতে।

এদিকে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জেলা জুড়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের একটি স্থায়ীসহ উপজেলা ও পৌরসভার মিলিয়ে মোট ৭৫টি স্থায়ী ও ৩৭৯ টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই গরু দেশে প্রবেশ ঠেকাতে এবার কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষনিক মাঠে থাকবে। হাট ও সড়কেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে। আমরা চাঁদাবাজিসহ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি।

কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, কুমিল্লা অংশ দিয়ে কোন অবৈধ পশু প্রবেশ করতে পারবে না। আমরা নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছি। কোরবানির ঈদে কুমিল্লা ১০ বিজিবির অন্তর্ভূক্ত এলাকা দিয়ে যেন কোন পশু প্রবেশ না করতে পারে তার জন্য আমাদের নিরাপত্তা কঠোর থাকবে।