ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ১১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় # সহকারি শিক্ষকের পদ৭৮ শূণ্য রয়েছে ৩৪টি

কুমিল্লার লালমাই উপজেলা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

কুমিল্লার লালমাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে করে বিদ্যালয়গুলোর প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
জানা যায়, লালমাই উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৭টি। এই ৬৭টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকার কথা ৬৭ জন। কিন্তু এর মধ্যে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪জন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৪জন ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৮জন প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বদলি ও অবসরজনিত কারণে বাকি ১১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। যে কারণে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চালানো হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এছাড়া ৩৪টি বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে সহকারী শিক্ষকের পদও। তবে বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
লালমাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আল সাদেক বলেন, “শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদানে অসুবিধা হয় তা ঠিক কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলে পাঠদানে কোনো সমস্যা হয় না। কারণ এটি পাঠদানের সাথে সম্পর্কিত নয় এটা একটা অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ফলে এ নিয়োগ এখন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে চলে গেছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সহকারী শিক্ষকদের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা প্রমোশন অনেক লম্বা প্রক্রিয়া হওয়ায় দীর্ঘদিন এ পদ শূন্য রয়েছে। আশা করছি অচিরেই প্রধান শিক্ষকের শূন্য থাকা পদগুলো পূরণ হবে।”
অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় শিক্ষক শূন্যতাসহ নানাবিধ সংকটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছে অভিভাবকরা। শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এমন অবস্থায় দ্রুত শূন্য পদে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবিড় তত্ত্বাবধান বাড়াতে না পারলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংকট চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য তাদের।