ভয় দেখিয়ে সর্বনাশ, ৭ মাস পর বলল ‘পেটের বাচ্চা মেরে ফেল’

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

চাঁদপুর প্রতিনিধি  : কদিন ধরেই মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখছিলেন মা। মনে সন্দেহ হলে হাসপাতালে নিয়ে করান পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কিন্তু রিপোর্টে আসে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। তাও সাত মাসের। এরপরই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাত মাস আগে প্রতিবেশী মিঠু ধর্ষণ করলেও হত্যার ভয়ে কাউকে কিছু বলেননি কিশোরী মেয়ে।

মেয়ের অন্তঃসত্ত্বার খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা। বিচার চেয়ে জানান সালিশদারদের। কিন্তু দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা চালান তারা। এমনকি পেটের বাচ্চাও মেরে ফেলার জন্য বলেন।

ঘটনাটি চাঁদপুরের মতলব উত্তরের। অভিযুক্ত মিঠু উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের হাসেম প্রধানের ছেলে। তার দুই সন্তান রয়েছে। তবে অন্তঃসত্ত্বার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পলাতক রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, সাত মাস আগে ওই কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন মিঠু। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হত্যার হুমকিও দেন তিনি। এজন্য কাউকে বলেননি ভুক্তভোগী কিশোরী। সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে মায়ের সন্দেহ হয়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন মেয়েটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েন মা। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিচার চেয়ে স্থানীয় লোকজনসহ অভিযুক্তের পরিবারকে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর মা জানান, মিঠুর এক আত্মীয় প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া নানা ধরনের হুমকিও দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, মেয়েটির বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের বিষয়টি নিয়ে সালিশ হয়েছে। মানিক ও জামালসহ গ্রাম্য সালিশদাররা দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা করেন। আর মেয়ের পেটের বাচ্চা মেরে ফেলতে বলেছে। এখন আমরা কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।

জামাল প্রধান বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করে মেয়েটিকে চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছি। বর্তমানে মিঠু প্রবাসে রয়েছেন। তিনি দেশে এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।