মনোহরগঞ্জে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

যাচাই করে ডেফিনেটলি ব্যবস্থা নেবো -পুলিশ সুপার
মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

# পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ
#নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরারা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে চাঁদাবাজি করে -এলাকাবাসী
#সব ভিডিও আমার কাছে আছে -অভিযোগকারী
# ১২ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে বের করেছি -ব্যবসায়ী
# এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা -ফাঁড়ি প্রধান
# পূর্বে এমন অভিযোগ হয়নি -ওসি মনোহরগঞ্জ
# যাচাই করে ডেফিনেটলি ব্যবস্থা নেবো -পুলিশ সুপার

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী বলছেন, পুলিশ ফাঁড়ির সকল সদস্য সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে চাঁদাবাজি করায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করে না।

 

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৩ মে মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক অজয় চক্রবর্তী হুমকি ধামকির মাধ্যমে ৮জন ব্যক্তি থেকে প্রায় লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায় করেছেন।

এছাড়াও ফাঁড়ির সদস্যরা, নিয়মিত ভাবে অটোরিকশা থেকে চাঁদা উঠানো, মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা, ফসলি জমির মাটি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়, বাজারের ব্যবসায়ীদের থেকে মাসিক টাকাও উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।
স্টেশন রোডের মানিক ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী মো. মানিক বলেন, গত ২৭ বছর এখানে আমার দোকান। আমার ছেলে এবার মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করেছে। গত ৩ মে মামলার ভয় দেখিয়ে তাকে ফাঁড়িতে আটকে রাখে। পুলিশকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে নিয়ে এসেছি। এরপর দালালদের টাকাসহ আমার মোট ১৫ হাজার টাকা গেছে।


লিখিত অভিযোগকারী মনোহরগঞ্জের পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা জমির উদ্দিন বলেন, পুলিশের আতঙ্কে মানুষ অতিষ্ট। নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির সকল পুলিশ মিলে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে। যাদের থেকে চাঁদা নিয়েছে সে সব ভিডিও আমার কাছে আছে। আমি লিখিত অভিযোগ করেছি ডিসি ও এসপি বরাবর।

কাটুনিপাড়া গ্রামের ইলেকট্রনিক্স ম্যাকানিক্স মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশ আমাকে কল দিয়ে ফাঁড়িতে নিয়েছে। জিজ্ঞাসা করেছে, চুরির মালামাল কিনেছি কিনা? আমি বলছি, না। তখন ছেড়ে দিয়েছে, কোন টাকা দিতে হয়নি। অন্যদেরটা বলতে পারবো না।

নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক অজয় চক্রবর্তী

অভিযোগের বিষয়ে নাথেরপেটুয়া ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক অজয় চক্রবর্তী বলেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা। ৩ মে ২০২৪ তারিখে চুরির ঘটনায় মালামালও রিকভারি হয়েছে। যাদের ফাঁড়িতে এনেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই আনা হয়েছে। যারা চুরি করেছে, তাদের চালান করেছি। বাকীদের ছেড়ে দিয়েছি, মুক্তিপন বা কোন টাকা আমরা আদায় করিনি। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মনোহরগঞ্জ থানার ইনচার্জ মোঃ হানিফ সরকার বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি আমি জানি না। এ ফাঁড়ির সদস্যদের বিষয়ে পূর্বে এমন অভিযোগ হয়নি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) বলেন, লিখিত অভিযোগ যেহেতু হয়েছে। একদিন পর আমার হাতে কপি আসবে। যাচাই করে ডেফিনেটলি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।