মুরগিতে ১০, ডিমে ২ টাকা লোকসান গুনছেন খামারিরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

রাজশাহীতে ডিমের দামে ধস নেমেছে। প্রতি পিস ডিমে ৩-৪ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে খামারিদের। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম নেমেছে ৮ টাকায়। অথচ একটা ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৯ টাকা ৯১ পয়সা। সে হিসেবে বর্তমানে খামারিরা প্রতিপিসে ২ টাকা লোকসান গুনছেন।

এদিকে বাজারে ১৬৫ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হলেও খামার পর্যায়ে দাম ১৩০-১৩৫ টাকা। ফলে খামারিরা মুরগিতে লোকসান গুনছেন ১০-১৫ টাকা।

খামারিরা বলছেন, করোনাকালে লেয়ার মুরগির এক হালি ডিম ২৪-২৫ টাকায় বিক্রি হতো। এখন নেই করোনা, নেই নিষেধাজ্ঞা কিন্তু আছে অদৃশ্য সিন্ডিকেট।

নগরীর সাহেব বাজার কলাপট্রির পাইকারি ডিম বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম মিঠু বলেন, ডিমের দাম একবারেই কমে গেছে। লস দিয়ে খামারিরা ডিম বিক্রি করছেন। ইচ্ছে হলেই তো আর মুরগি বিক্রি কিংবা ব্যবসা বাদ দেওয়া যায় না। প্রতি ১০০ লাল ডিম পাইকারি ৮৫০ টাকা, সাদা ৮০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। লাল কেনা ৮২০ টাকা ও সাদা ৭৭০ টাকা।

স্বাভাবিক অবস্থায় লাল ডিম ৩৬ টাকা হালি ও সাদা ৩৪ টাকা হালি বিক্রি হয়ে থাকে বলে জানান পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। ফলে আগের তুলনায় ডিমের এক হালিতেই নেই ১০-১১ টাকা। এ অবস্থায় মাথায় হাত খামারিদের।

নগরীর চন্দ্রিমা এলাকার লেয়ার মুরগির খামারি রুবেল হক বলেন, ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে। মুরগির খাবারের টাকাই জুটছে না। খাবারের সঙ্গে ওষুধ রয়েছে। নানান খরচ করে ডিমের আবার দাম নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ বেড়ে হয়েছে ১৪৫ টাকা ৬৫ পয়সা। খরচ বাড়লেও বাড়েনি ডিম-মুরগির দাম।

রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ডিম কাঁচা মালের মধ্যে পড়ার কারণে সঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে ডিমের বাজারে এখন দাম কম। কিন্তু পোল্ট্রি খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টার দাম বেড়েছে।

এছাড়া সয়াবিন মিল ৩৭ টাকা থেকে ৭০ টাকা, চালের কুড়া ২১ টাকা থেকে ৩৬ টাকা, পোল্ট্রি মিল ৫৪ টাকা থেকে লাফিয়ে হয়েছে ৮০ টাকা।