মুরাদনগরে খুতবায় মাইক ব্যবহার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

কুমিল্লার মুরাদনগরে জুমার নামাজে খুতবায় মাইক ব্যবহার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই মেম্বারের(ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় গ্রুপের ১৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুরুন্ডি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম ও বর্তমান মেম্বার সবুজ মিয়ার সমর্থকরা খুতবায় মাইক ব্যবহার নিয়ে এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন আছে। ঘটনার পর থেকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে ওই এলাকা।

সংঘর্ষের সময় উভয় গ্রুপ টেঁটা, লাঠি ও লোহার পাইপ ব্যবহার করে। মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন সাবেক মেম্বার নূরুল ইসলাম গ্রুপের আটজন। অপর দিকে বর্তমান মেম্বার সবুজ মিয়ার ছয় সমর্থক আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে নূরুল ইসলামকে পরাজিত করে সবুজ জয়ী হন। আট মাস আগে ইউপি নির্বাচন হলেও তাদের মধ্যে গ্রুপিং বিদ্যমান। ইতোপূর্বে সামান্য বিষয় নিয়ে কাথা কাটাকাটি হলেও শনিবার সংঘর্ষের কারণ খুতবায় মাইক ব্যবহার নিয়ে। কুরুন্ডি গ্রামে তিনশ গজের ব্যবধানে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ রয়েছে। জুমার নামাজে খুতবা পড়ার সময় মাইক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি উঠে। এই বিষয়ে শুক্রবার বিকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান বাহার খানের মধ্যস্থতায় একটি সালিশ হলেও সমাধানে আসতে পারেনি। এরই জেরে শরিবার সকালে কথা-কাটাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে মাদ্রাসা ও বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করেন তারা।

অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার নূরুল ইসলাম ও বর্তমান মেম্বার সবুজ মিয়ার ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান বাহার খান বলেন, নির্বাচন থেকেই দুই মেম্বারের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। গতকাল বিকালে স্থানীয় ভাবে বসে সমাধান করতে পারিনি। আজ আমি এলাকায় নেই। শুনছি তারা মারামারি করেছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি খুতবার সময় মাইক ব্যবহান নিয়ে মতো বিরোধ হেেয়ছে সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম ও বর্তমান মেম্বার সবুজ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন আছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।