মুরাদনগরে বিয়ে বাড়িতে বকশিস নিয়ে সংঘর্ষ : আহত ২০

বিয়ে সম্পন্ন না করেই ফিরে যান বর
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর।।

বিয়ে বাড়ির খাওয়া দাওয়া শেষে বরের হাত ধুইয়ে দেয়ার বিনিময়ে বকশিস নেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত: ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বিয়ে সম্পন্ন না করেই বরপক্ষ কনের বাড়ি থেকে ফিরে গেছে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার(১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৮নং ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি গ্রামের আমির হোসেন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন হাজী বাড়িতে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বর মোঃ সাদেক হোসেন (২৬) দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের পশ্চিমপাড়া পাইঞ্জত মুূন্সী বাড়ির মোঃ ইসমাইল মূন্সীর পুত্র এবং কণে মোসাঃ সোনিয়া আক্তার (১৮), মুরাদনগর উপজেলার ১৮ নং ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি গ্রামের মোঃ শানু মিয়ার কণ্যা । বর এবং কণেপক্ষ পূর্ব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে গত রোববার (১৬ অক্টোবর) পারিবারিক ভাবে বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

রবিবার দুপুরের পর বরযাত্রী কনের বাড়িতে গেলে, গেইটের সালামি নিয়ে প্রথমে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। পরে খাওয়া দাওয়া শেষে বরের হাত ধোয়ানোর টাকা নিয়ে আবারও দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষ হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। সংঘর্ষের কারনে বিয়ে সম্পন্ন না করেই ফিরে যান বরযাত্রী।

কণের বড় ভাই মোঃ গিয়াস উদ্দিন মুরাদনগর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, বর পক্ষ ১৫০ জন বরযাত্রী নিয়ে আসার কথা থাকলেও তারা ১৬০ জন বরযাত্রী নিয়ে আসেন। তাদের খাওয়াদাওয়া শেষ করার পর বরের হাত ধোয়ার বকশিসের দরকষা-কষিতে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এসময় বরপক্ষের আঘাতে কণে সনিয়া আক্তার, মোঃ সোহেল মিয়া, সানাউল্লাহ, মোঃ শিপন মিয়াসহ ৮/১০জন মারাত্মক আহত হয়।

এ ব্যপারে বরের ভাই মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা বিয়ে বাড়ির গেইটে আসার পর গেইটের বখশিসের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। আমরা পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকার পরে আরো ৫শত টাকা দিলে কণে পক্ষের লোকজন গেইটের চেয়ার-টেবিল ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমাদের অপমান করেন।

বরযাত্রী ১৩০ কথা থাকলেও আমরা ১২০ জন গিয়েছি। তারপরও খাবার দেয়ার ক্ষেত্রে বরপক্ষের লোকদের খাবার দিতে পারে নাই। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বরের শেরোয়ানী ছিড়ে ফেলে, আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে কিছু লোক আহত করেন।

এবিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বিয়ে বাড়িতে বকশিস নিয়ে উভয় পক্ষের মারামারির অভিযোগ পেয়েছি, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ###