লাকসামে পাচারের সময় অপহৃত ৬ মাদ্রাসা ছাত্র উদ্ধার, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

মানব পাচারকারী চক্রের কবল থেকে কুমিল্লার লাকসামে বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়ুয়া ৬ শিশু ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রটির দুইজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার (১৪ মে) সকালে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আবদুল্লাহ আল মাহফুজ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পাশের নাঙ্গলকোট উপজেলার দামুরপাড় গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে মো. মোবারক হোসেন (৫০) এবং কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে ইমন খান ওরফে জিলন রায়হান (২৭)।
রবিবার বিকেলে ওসি মো.আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শনিবার (১৩ মে) বিকেলে লাকসামের জংশন এলাকার আজমিরি হোটেলের সামনে থেকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য মো.মোবারক হোসেন ও ইমন খান জিলন রায়হানকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কবল থেকে চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারের ফজলুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মো.আবু সাঈদ (১৩), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি আমলনগর এলাকার মেহেরাজ হোসেন (১৪), ঢাকা মুগ্ধার মারকাজুল কওমি মাদ্রাসার ছাত্র মো. শরিফুল ইসলাম (১২), চট্টগ্রামের অলংকার মোড়ের দারুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মো.ইমাম হাসান (১৫), চৌদ্দগ্রামের গুণবতী এলাকার জামিয়া ফারুকিয়া এমদাদুল উলূম মাদ্রাসার ছাত্র মো.তামিম হোসেন (১৫) এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার মো.ফাহিমকে (১৫) উদ্ধার করা হয়। মানব পাচারকারীরা বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে এই কোমলমতি শিশুদের নিয়ে আসে বলে জানান ওসি।
মো.আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, চক্রটির দুই সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- আটককৃত মোবারক হোসেন ও ইমন খানসহ মানব পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা পঞ্চগড়, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মাদ্রাসা টার্গেট করে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করে প্রথমে নিজেদের কব্জায় নেয়। এরপর তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণসহ শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কার্যসিদ্ধি করে। আমরা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। তাদেরকে কীভাবে পাচার করা হতো সেগুলো তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.হাবিবুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত শিশু আবু সাঈদের পিতা মো.শাহীন খান এ ঘটনায় বাদী হয়ে চক্রের আটককৃত ২ সদস্যসহ অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করে মানবপাচার দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিদের কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।