লাকসাম পৌরসভা বিএনপি’র সম্মেলন – কুমিল্লার পর এবার ব্যর্থ হলো লালমাইয়েও : পরে করলেন ক্যামেরা ট্রায়াল

লাকসাম সম্মেলন না করতে পারার ব্যর্থতা নিয়ে চৈত্রী কালামের পদত্যাগ করা উচিত -খোকন
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

কর্নেল আজিম গ্রুপের বাধাঁর মুখে লাকসাম পৌরসভা বিএনপি লাকসাম সম্মেলন করতে না পেরে গত দুই জুলাই কুমিল্লা নগরীর নজরুল এভিনিউস্থ একটি রেস্তোরায় সম্মেলন করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। খবর পেয়ে মুহুর্তেই চলে আসে আজিম গ্রুপের কিছু নেতা। পরে পন্ড হয়ে যায় চৈতী কালাম সমর্থিত লাকসাম পৌরসভার গোপন সম্মেলন। এরপর বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই আবারো চৈতী কালামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত লাকসাম পৌর বিএনপি লাকসাম ছেড়ে এসে লালমাই উপজেলার আজবপুর ও গৈয়ারভাঙ্গা গোপনে সম্মেলন করার চেষ্টা করে কতিপয় অনুসারীদের নিয়ে। কিন্তু এখানেও আজিম গ্রুপের সতর্ক উপস্থিতি ও পুলিশ জেনে যাওয়ায় সম্মেলন না করেই চলে যেতে বাধ্য হয় পৌর বিএনপির নেতৃত্বকে।

পরে তারা  অতি গোপনে সদর দক্ষিনের একটি  হোটেলে ব্যানার টানিয়ে ছবি উঠিয়ে সম্মেলন হয়েছে বলে নিজ নিজ স্থানে চলে যায়। বৃহস্পতিবার  বিকেলে লাকসাম পৌরসভা ও উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলে এ কথা জানা যায়। তবে এ কথা অস্বীকার করে লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন মিলন বলেন, আমরা লাকসাম হোটেলেই করছি কিন্তু হোটেলের নাম বলতে পারব না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে এক বছর আগে। কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করবে। কিন্তু কর্নেল আজিম গ্রুপের আধিপত্যের কারণে লাকসামে তারা সম্মেলন করতে সাহস পায়নি।

কারণ, লাকসামে সম্মেলন করতে হলে হয় আজিম গ্রুপের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের ভাগ দিতে হবে নতুবা তারা সম্মেসলন পন্ড করে দিবে। এই আশংকা থেকে চৈতী কালামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত লাকসাম পৌর সভা বিএনপি তাদের অনুগত নেতাকর্মী নিয়ে গত ২ জুলাই কুমিল্লা নগরীর একটি হোটেলে এই সম্মেলন আয়োজন করলেও পুলিশ ও আজিম গ্রুপের সমর্থকদের বাঁধার কারণে তা পন্ড হয়ে যায়।

এবার একেবারেই গোপনে কালাম সমর্থিত লাকসাম পৌর বিএনপি পাশর্^বর্তী লালমাই উপজেলার আজবপুর গ্রামের মোরশেদ আলমের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সকালে সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই খবর চলে যায় আজিম গ্রুপ ও লালমাই থানা পুলিশের কাছে। ফলে কালাম অনুসারীরা মোরশেদ আলমের বাড়িতে ব্যানার নিয়ে পৌঁছার আগেই এখানে চলে আসে পুলিশ। ফলে দ্বিতীয় বারের মত পন্ড হয়ে যায় লাকসামের বাহিরে গিয়ে পৌর বিএনপির সম্মেলন করার আশা। এর পর তারা তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নেয় একই উপজেলার গৈয়ারভাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে। কিন্তু সেখানেও পুলিশ আগেই সতর্ক থাকায় তারা সম্মেলন করতে পারেনি।

এ বিষয়ে আজবপুর গ্রামের মোরশেদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়িতে বিএনপির কোন সভা হয়নি। পুলিশ এসে চেক করে গেছে। গৈয়ারভাঙ্গায় আনোয়ারের বাড়িতেও নাকি পুলিশ গিয়েছিল বলে জেনেছি। তবে গৈয়ারভাঙ্গার আনোয়ার বিএনপির সভা কিংবা পুলিশ আসার কথা স্বীকার করেননি।

এ দিকে চৈতী কালাম অনুসারী হিসেবে পরিচিত লাকসাম পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মনির আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজকের কাউন্সিল সম্পর্কে আমি মোটেই অবগত নই। তবে গতরাতে আমাকে পৌর ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক নেতা ফোন করে বলেছেন আজ নাকি কাউন্সিল হবে, তাদেরকে সকাল বেলায় প্রস্তুত থাকতে বলেছেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন মিলন”। ওয়ার্ড নেতাদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়ে আমি সাথে সাথে একাধিকবার মিলন ভাইকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু মিলন ভাই আমার ফোন রিসিভ করেন নি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সম্ভবত ১০টার পর আমাকে ফোন ব্যাক করে মিলন ভাই বললেন, “আমরা কোন কাউন্সিল করছিনা, করলে তোকে জানাবো” যদিও গণমাধ্যমে মিলন ভাই বলেছেন আজ নাকি সম্মেলন হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, কর্নেল আজিম অনুসারী হিসেবে পরিচিত লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তাজুল ইসলাম খোকন বলেন,আজ বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে লজ্জ্বা লাগছে চৈতী কালামের নতজানু রাজনীতি দেখে। উনার যদি লাকসাম সম্মেলন করার সাহস না থাকে তাহলে কর্নেল আজিম ভাইকে বলত যে ভাই, আমাদের সম্মেলনটা সফল করে দেন। আমরা করে দিতাম। সম্মেলন লাকসাম শহরের কিন্তু তারা একবার যায় কুমিল্লা শহরে আবার যায় লালমাই উপজেলায়। যার নিজ বাড়িতে সম্মেলন করার ক্ষমতা নাই সে আবার বাহিরে গিয়ে কিভাবে সম্মেলন করবে। লালমাইয়ের দুই জায়গায় ধাওয়া খেয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার বাঙলা বাজার নামের এক রেষ্টুরেন্টে গিয়ে তার কিছু নেতাকর্মীদের সামনে আর মঞ্চে বসিয়ে ছবি উঠিয়ে দ্রুত চলে আসে। এটা কি বিএনপির সম্মেলন হলো। লাকসাম শহরে সম্মেলন না করার ব্যর্থতার কারণে চৈতী কালামের উচিত আজই বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা।

অপরদিকে, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব ও চৈতী কালামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আবুল হোসেন মিলন বলেন, আমরা লালমাইয়ের আজবপুর ও গৈয়ারভাঙ্গা সম্মেলন করতে চাইছি এ কথা যারা বলছে তারা সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলছে। আমরা আজ ( বৃহস্পতিবার) লাকসাম শহরে একটি হোটেলে সম্মেলন করছি। হোটেলের নাম জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মিলন বলেন, নামটা বলব না ভাই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, কুমিল্লা নগরীর সভা পন্ড হওয়ার কথা পত্রিকায় দেখে তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তারা অস্বীকার করেছিল। এখন আবার  আজকে আপনার থেকে জানলাম এবারো লাকসাম না করে লালমাই সম্মেলন করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে খোঁজ খবর নিচ্ছি।