শাহজালাল মাজারে হাফপ্যান্ট পরে আর নয়

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার দরগাহ গেটের ভেতরে আর হাফপ্যান্ট পরে প্রবেশ করা যাবে না। মাজারের ভেতরে হাফপ্যান্ট পরে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মাজার কর্তৃপক্ষ।

মাজারের প্রবেশের মূল ফটক ও পেছনের প্রবেশমুখে কয়েকটি সাইনবোর্ডে টাঙানো হয়েছে সতর্কীকরণ নোটিশ।

দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতাওয়াল্লি সরেকওম ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, সারা বছরই শাহজালালের মাজার জিয়ারতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আসেন। বিদেশি পর্যটকরা প্রায় সময়ই হাফপ্যান্ট পরে মাজারে আসছেন। এতে মাজারের আদব ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। তাই মাজার এলাকায় হাফপ্যান্ট পরে না ঢুকতে নিষেধাজ্ঞামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

মাজার কর্তৃপক্ষের দেওয়া এ নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল করিম কিম বলেন, মাজারের পবিত্রতার বিষয়টি মাথায় না রেখে খেয়ালখুশি মতো পোশাক পরে ঘোরাফেরা করেন। এ অবস্থায় মাজার কর্তৃপক্ষের এ নোটিশ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনকাল ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালালের হাতে বিজিত হয় সিলেট অঞ্চল। ১৩৪০ সালে হজরত শাহজালাল মৃত্যুবরণ করলে তাকে সিলেট শহরের দরগাহ এলাকায় সমাহিত করা হয়। বর্তমানে মাজার এলাকায় শত শত জালালি কবুতর, পুকুরভর্তি গজার মাছ ছাড়াও শাহজালালের ব্যবহৃত তলোয়ার রক্ষিত আছে।

হযরত শাহজালালের (রহ.) দরগায় প্রতি শুক্রবার লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দরগাহের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে ছোট ঝরনা। একসময় এ ঝরনায় সোনালি কই মাছ, মাগুর মাছ দেখা যেত। মক্কার পবিত্র জমজম কূপের সঙ্গে এ ঝরনার সংযোগ বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

দরগাহের আঙিনায় জালালি কবুতরের ঝাঁক দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কথিত আছে, হযরত শাহজালালের (রহ.) সময় থেকে এসব কবুতর দরগাহ এলাকায় রয়েছে। দরগাহের একতলা ঘরের ভেতর বড় বড় তিনটি ডেকচি রয়েছে।

জনশ্রুতি আছে, এসব ডেকচির প্রত্যেকটিতে সাতটি গরুর মাংস ও সাত মণ চাল একসঙ্গে রান্না করা যায়। ডেকচিগুলোও মনোযোগ দিয়ে দেখেন ভক্তরা। অনেকে আবার এখানে মানত হিসেবে টাকা-পয়সা দান করেন।

শাহজালালের মাজার চত্বরের উত্তরদিকে পাথর বাঁধানো পুকুর ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে সবসময়। এ পুকুরে বড় বড় গজার মাছ রয়েছে। এগুলো মারা গেলে দরগাহ এলাকায় এগুলোকে কবর দেওয়া হয়।

দরগাহে শাহজালালের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র দর্শনার্থীদের দেখার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যবহৃত তলোয়ার, কাঠের তৈরি খড়ম, হরিণের চামড়া দিয়ে নির্মিত নামাজের মোসল্লা, তামার নির্মিত প্লেট এবং বাটি।