সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে ছাত্রলীগের আন্দোলন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন

কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ে (কুবি) প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশ। রোববার প্রধান ফটক সংলগ্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন শেষেই বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ভাষ্কর্যের সামনে প্রক্টরের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার’ করা হচ্ছে দাবি করে প্রতিবাদে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা।
কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের ব্যানারে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। মানববন্ধনে তাঁরা ‘প্রক্টর রানা এক আতঙ্কের নাম’, ‘দায়িত্ববান প্রক্টর চাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’ এমন বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়ান। এসময় যোগ্যব্যক্তি থাকার পরও কার স্বার্থে আইন ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে-এমন বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেন তাঁরা। এছাড়া প্রক্টরের বিভিন্ন ব্যঙ্গচিত্র হাতে দাঁড়াতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ মার্চ ৭২ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ২০ জন অধ্যাপক রেখে সহকারী অধ্যাপক হয়েও আইন ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের পদ ভাগিয়ে নেন কাজী ওমর সিদ্দিকী ওরফে রানা। কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ন্যূনতম সহযোগী অধ্যাপক হতে হবে। প্রক্টরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংঘর্ষে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠতে থাকে।
শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে প্রক্টরের পদত্যাগের পাশাপাশি দুই ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ওই দু’জনসহ আরও এক ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, হত্যা মামলার আসামি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আজীবনের জন্য ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা ও সার্বক্ষণিক নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি করেন তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে অভিন্ন দাবিতে উপাচার্য বরাবর ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর সই সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, তাঁরাও চান শিক্ষার্থীরা ন্যায় বিচার পাক। তবে প্রক্টরের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ আশা করেন না তাঁরা।
প্রক্টরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উসকে দিচ্ছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী; তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির পথে বাধা বলেও মানববন্ধনে দাবি করেন প্রক্টর সমর্থিত শিক্ষকরা।