সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বাজারভিত্তিক গবেষণা দরকার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বৈশ্বিক বাজারে প্যাকেজিং শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় বাংলাদেশে প্লাস্টিক খাতে বড় ধরনের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশ নতুন বৈদেশিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিতকরণ এবং বাজারভিত্তিক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলমান ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।

সেমিনার দুটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে প্লাস্টিক প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (পিপিবিপিসি), এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)।

প্রথম সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সহকারী অধ্যাপক ড. ওয়াসেল বিন শাদাত। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে প্যাকেজিং শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ যথাযথ প্রস্তুতি নিলে এ খাতে বড় ধরনের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বৈদেশিক বাজারে প্রবেশ সম্ভব। তবে পণ্য চিহ্নিতকরণ ও বাজারভিত্তিক গবেষণার অভাব রপ্তানিতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দ্বিতীয় সেমিনারে গ্রিন ওয়াচ কনসালট্যান্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. এলিয়াস হোসেন বলেন, দেশের প্লাস্টিক শিল্প মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তানির্ভর হওয়ায় রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, সহজ অর্থায়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি সতর্ক করেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

উভয় সেমিনারেই সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্প উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকরা অংশগ্রহণ করে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এই মেলায় চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ডের প্রায় ৮০০টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী, প্লাস্টিক মোল্ড, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।