সৌদিতে ছেলের মৃত্যু কুমিল্লায় কান্না থামছে না বাবার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী রিয়াদ হোসেনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলের লাশের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরিবার। কবে ছেলের লাশ দেশে ফিরবে এই প্রশ্ন বাবার।
রিয়াদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের শুয়াগঞ্জ এলাকার ঢুলিপাড়া গ্রামের মুদি দোকানদার বাচ্চু মিয়ার একমাত্র ছেলে। এক ভাই এক বোনের মধ্যে রিয়াদ বড়।
রিয়াদের বাবা বাচ্চু মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলে হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। ভাগ্য বদলের আশায় ছেলেকে প্রবাসে পাঠাই। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় সে চলে গেল। সড়ক দূর্ঘটনার আগে ছেলে তার মাকে বলেছিল মা উমরাহ করতে যাই।এরপর থেকে আর খবর নাই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিয়াদের বাবা বাচ্চু ছোট্ট একটি দোকানদারি করে সংসার চালায়। আর্থিকভাবে তেমন একটা স্বচ্ছল নয়। প্রায় ৬ বছর আগে তার একমাত্র ছেলে রিয়াদ চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যায়। তার পাঠানো টাকাতেই পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখেছে। খুব শিগগিরই রিয়াদ দেশে ফেরার কথা ছিল। এর আগে সে ওমরাহ করবে বলেছিল। কিন্তু ওমরাহ করতে যাওয়ার পথে আবাদ এলাকায় শনিবার (২২ শে এপ্রিল) বাস দুর্ঘটনায় রিয়াদ আহত হয়। তার সাথে আরও ৩ জন বাংলাদেশী সহপাঠী আহত হয়। কিছুদিন পর সৌদি থেকে খবর আসে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়াদ মারা যায়।
এলাকাবাসী বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। ছেলেটি ভালো ছিল। তার পরিবারের সবাই কান্নাকাটি করছে। রিয়াদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসিকুর রহমান আবির বলেন, লাশ আনতে ইউনিয়ন পরিষদের থেকে সৌদিতে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান জালাল সাহেবের মৃত্যু হওয়ায় পরিষদের কাজ অনেকটা অগোছালো। লাশ আনতে আরও কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।