স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে স্মার্ট নারী তৈরির বিকল্প নেই

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হয় অনেক কিছুর।সংযোজন বিয়োজনের নিয়মেই বদলে যায় সমাজ তথা রাষ্ট্রের চিত্র।যদি বাংলাদেশের কথায় আসি তাহলেও আমরা সেখানে এই যোগ বিয়োগের প্রভাব দেখতে পাবো।একটা সময় ছিলো যখন নারীরা বাধ্য হতো নিজেদেরকে একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে আটকে রাখতে।বাল্য বিবাহে শিকার হতো বহু নারী যা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে।বিয়ের পর বন্ধ হয়ে যেতো পড়াশুনা।যারা সমাজের তথাকথিত নিয়ম ভেঙ্গে,শত সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা রেখে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো তারাই কেবল সফল হতো।কিন্তু কত সহস্র নারী যে পড়ে থাকতো এই অন্ধকারাচ্ছন্নতায়,সেই খোঁজ আর কে রাখতো! সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আজ অনেকাংশেই বদলেছে সেই পরিস্থিতি। নারীরা নিজেদেরকে সেই বন্ধিদশা থেকে অনেকাংশেই মুক্ত করতে পেরেছে।নিজেদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজেরাই নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে।রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু প্রায় প্রতিটা অঙ্গনেই তাঁরা তাদের অবস্থানের জানান দিচ্ছে।সংসদ থেকে সংসার, রাজনীতি থেকে অর্থনীতি,ব্যবসা থেকে চাকরী,সাইকেল থেকে রেল সর্বত্র নারীরা তাদের অবস্থানের জানান দিচ্ছে।উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশ অর্থাৎ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলার প্রচেষ্টায় বর্তমান বাংলাদেশ সরকার।সেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিকল্প নাই।এক্ষেত্রে বার্তমান বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের নারীদের আরো স্মার্ট করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের নারী উদ্দ্যেত্তারা।এদের একজন হলেন নাদিরা ইসলাম স্মরণ।নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর বিভাগের শিক্ষার্থী স্মরণ।দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেয়েদের স্কুটার প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।তার ইচ্ছে মেয়েরা তাদের ইচ্ছেমতো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াবে।নিজেদের প্রয়োজনে স্কুটার নিয়ে বের হবে,কেউ অফিসে যাবে,কেউবা স্কুটারে করে কম সময়ে নিরাপদে তার বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসবে।স্মরণ আরো বলেন-আমরা সচরাচর দেখি যে ছেলেরা স্কুটার/বাইক চালায় এবং মেয়েরা তার পিলিয়ন বা সহযাত্রী হিসেবে চড়ে।কিন্তু মেয়েরা চালাচ্ছে ছেলেরা পিছনে বসে আছে এমন দৃশ্য বর্তমান বাংলাদেশে খুব’ই কম।আমরা যদি সম-অধিকারের কথা বলি বা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে চাই তাহলে এ দৃশ্যপট পরিবর্তনের কোন বিকল্প নাই।আমি এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে নারী বা পুরুষ কোন বিভেদ না রেখে তাঁরা তাদের প্রয়োজনে যেকোন যানবাহন চালাবে।আমি দু:খ পাই এ দেখে যে বাংলাদেশে গ্রাম বা শহরাঞ্চলের নারীরা বাইক বা স্কুটার চালাতে গেলে অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।অনেক কটূ বাক্য হজম করতে হয় তাদের।এখনো অনেকেই বলে “বেডি মানুষ ঘরেই শুভা পায়,হুন্ডা লইয়্যা গুন্ডার মতো বাইরে যাওনের কোন দরকার”!
আসলে আমি চাই সমাজের মানুষদের এই নেতিবাচক চিন্তায় পরিবর্তন আসুক।দেখিয়ে দিতে চাই যে আমরা নারী,আমরাই পারি।সকল প্রতিবন্ধকতা টপকে গিয়ে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।সময় সুযোগ পেলেই একদল নারী বাইকার নিয়ে প্রকৃতি উপভোগে ছুটে যাই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।এক ঝাঁক নারী যখন সারীবন্ধভাবে স্কুটিং করে যখন পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজের পুরুষেরা ঘাড় ফিরিয়ে তা অবাক বিস্ময়ের সাথে দেখে!আমি এভাবেই জানান দিতে চাই যে বাংলার নারীরা আজ আরো সাহসী,আরো আত্নবিশ্বাসী।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা শহরে,উভয় জায়গায় আমার স্কুটার ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে।আমি এইখানে মেয়েদের আত্নবিশ্বাস যোগাই।সকল বাঁধা ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেই।তাঁরাও তা অনুসরণ করে এগিয়ে যায়।আমি প্রশান্তি পাই তখন,যখন দেখি নারীরা স্কুটার নিয়ে মুক্ত স্বাধীনভাবে ছুটে চলছে।এই পর্যন্ত আমি ৩০০+ নারীকে এ প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।আমি চাই এই স্মার্ট নারীরা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিবে যে বাংলার নারীরা তাদের বন্ধিদশা থেকে বেরিয়ে মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় উড়ে বেড়াচ্ছে।তারা সত্যিকার্থেই স্বাধীন বাংলার নাগরিক ও স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ পাচ্ছে।
পরিশেষে আমি চাই দক্ষ নারী ও পুরুষের সহযোগিতার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে স্মার্ট বাংলাদেশ। বিশ্ব দেখবে বাংলার এক বিস্ময়কর রুপ।