হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

হাতের মেহেদী শুকানোর আগেই বধুকে
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

হাতের বিয়ের মেহেদী শুকানোর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফাতেমাতুজ জোহরা (রোকসানা ১৮) নামে এক নববধুকে যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শ^শুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে লাশ ওড়নাতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন নিহতের পরিবার। এই ঘটনায় ওই গৃহবধুর বাবা বাদী হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। শনিবার (০১ অেিক্টাবর) দুপুরে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলকরা ইউনিয়নের উত্তর কাইছুৃটি গ্রামের মো. আবুল বশরের মেয়ের সাথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার শ্রীপুর খাঁ বাড়ির মৃত সৈয়দ আহমেদের ছেলে মোঃ সাইফুলের সাথে গত ১০ জুন বিবাহ দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই সাইফুল ও তার পরিবার যৌতুকের দাবীতে নববধু রোকসার উপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন বড় বোন রাশেদা আকতার। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় সাইফুর আমার বাবা মোঃ আবুল বশরের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলেন, রোকসানার অবস্থা খারাপ। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম সরকারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে জোহরার মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিহত জোহরার মা হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর দিন থেকে যৌতুকের জন্য তার মেয়ের উপরে নির্যাতন শুরু হয়। এরই জের ধরে আমার মেয়ের হাতের মেহেদীর দাগ মুছে যাওয়ার আগেই শশুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ে কে হত্যা করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় গৃহবধুর বাবা মোঃ আবুল বশর বাদী হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।