হিজাব পরে মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ায় ছাত্রীকে হয়রানি

কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

মহিউদ্দিন মাহি, কুবি ॥ হিজাব পরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় এক ছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরূদ্ধে। রোববার (২২ আগস্ট)বিভাগেটির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ‘বিজনেস স্ট্যাটিস্টিকস-২’কোর্সের মৌখিক পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীকে ‘মৌলবাদী’ ও‘জঙ্গি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেনস্তার এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলেও অভিযোগ তাঁর সহপাঠীরা।
সোমবার এ ঘটনা বিশ^বিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। মাজহারুল ইসলাম হানিফ নামে সাবেক এক শিক্ষার্থীকে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী। হানিফ জানান, ওই শিক্ষার্থী কোর্সের মৌখিক পরীক্ষা দিতে গেলে ‘এত পড়াশোনা করে কী করবেন, আগে ম্যানারস শিখেন।আপনি এইভাবে (হিজাব পরে) ভাইবা দিতে এসছেন (কেন) জংগী মৌলবাদীদের মতো? নিকাব খুলেও তো ভাইবা দেওয়া যায়’ বলে মন্তব্য করেন কোর্স শিক্ষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এসব মন্তব্যের পর শিক্ষকের সাথে তর্ক করার দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেন তিনি।
এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগীকে ডেকে সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অন্তত পাঁচজন সহপাঠী। তাঁরা জানান, শিক্ষক জসিম উদ্দিন প্রায় সময়ই নারী শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন কুরুচিকর মন্তব্য করেন। রোববারও ওই শিক্ষার্থী কোর্সের মৌখিক পরীক্ষা দিতে গেলে আবারও এরকম বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ! আমি একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। আমি এসব কাজ কেন করতে যাব। আমি শুধু তাকে ডেকে কর্পোরেট ম্যানারের কিছুদিক নিয়ে বলেছিলাম।’
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে জসিম উদ্দিন জানান, ওই শিক্ষার্থী এসেছিল। তবে এ ধরণের কোনো কথা হয়নি। আমি তাকে শুধু বলেছি, আপনাকে আমি বোঝাতে পেরেছি কিনা জানি না। সে (শিক্ষার্থী) আমাকে বলেছে আমি বুঝতে পেরেছি।
বিভাগটির প্রধান মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ব্যাপারটি আমি শুনেছি। এটা নিয়ে আমরা তদন্ত করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসে আমাদের কাছে, তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন জানান, বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করবে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় গৃহীত কর্মসূচি পালনের সময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করে ক্লাস নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরূদ্ধে।