হুমকিতে কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ডানে-বামে বহুতল ভবন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষাণাগার কুমিল্লা। অর্ধশত বছরের পুরনো এ কার্যালয়ের ডানে, বামে ও সামনে তৈরি হচ্ছে বহুতল ভবন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, এতে পাশের ছয় জেলার আবহাওয়া, কৃষি তথ্য ও ভূমিকম্প ফলাফল নির্ণয় বিঘ্ন হবে। ভবিষ্যতে এখানে আবহাওয়া অফিস রাখা হুমকিতে পরবে বলে মনে করেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা।

সূত্রমতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রয়োজনে ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে কুমিল্লায় আবহাওয়া কার্যালয়ের যাত্রা শুরু করে। বৃহত্তর কুমিল্লার ছয় জেলার জন্য নির্মিত এ অফিস তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করে থাকে। প্রথম শ্রেণির এ আবহাওয়া অফিস ও আঞ্চলিক কার্যালয়টি ১৯৬৮ সালে ২.৬২ একর জমিতে বর্তমান অবস্থান নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের উনাইসার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। যা পূর্বে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এলাকায় ছিল।

উনাইসার এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান সুরুজ বলেন, আবহাওয়া অফিস রাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে এ এলাকায় জমি ক্রয় করতেছেন। তাদের চিন্তা সড়কের পাশে বহুতল ভবন তৈরি করবেন। কারণ কুমিল্লা এ অংশটা খুবই সম্ভাবনার জায়গা। আমরা সচেতন মানুষ হিসাবে এটাকে সাপোর্ট করতে পারি না। আবহাওয়া অফিসের পাশে তিনতলা মসজিদ আমরা তৈরি করেছি। এটাকে আর উপরে উঠানোর চিন্তা নেই। কেউ যেনো বহুতল ভবন তৈরি না করে, সে জন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসে প্রধান কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, আইন অনুযায়ী আবহাওয়া অফিসের দেয়াল থেকে চারপাশে ৩৩০ ফিট জমির মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। যেনো বহুতল ভবনের অনুমোদন প্রদান না করা হয়। এতে ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস, জলোচ্ছাসের পূর্বাভাস, কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস, ভূমিকম্প ও সুনামি সতর্কীকরণ, জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় মহাশাখা, দৈনন্দিন আবহাওয়া পূর্বাভাস, অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, ভিআইপিদের চলাচলের জন্য পূর্বাভাস, কালবৈশাখী ঝড়, শৈত্য প্রবাহ, তাপ প্রবাহ, আবহাওয়া খরা ও ভারী বর্ষণজনিত ভূমিধ্বস পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রদানের তথ্য সংগ্রহে বিঘ্ন হতে পারে।

কুমিল্লা সিটি কর্রপোরেশনের প্রশাসক ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যে কোন ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদানের সময় সরেজমিন পরিদর্শন করে অনুমোদন দিয়ে থাকি। কেউ যদি অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান। ১৮৬৭ সালে যশোর ও নারায়ণগঞ্জে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ সার্ভিস এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ প্রতিষ্ঠান বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, বাতাস, সৌর বিকিরণ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, ঘনত্ব এবং টোপোগ্রাফির তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে থাকে। এছাড়াও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, নিরক্ষীয় জলবায়ু, মৌসুমী জলবায়ু, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, হিমমণ্ডলীয় জলবায়ু পরিসংখ্যান সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করে।