হোটেলে বসে খেতে দেওয়া হয় না হরিজন শিশুদের

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ দিন আগে

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা শহরের রেলওয়ে কলোনির রাবেয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বীরা (৭)। হরিজন সম্প্রদায়ে তার জন্ম। স্কুলে তার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহপাঠী রয়েছে। তাদের সঙ্গে হোটেলে বসে খাবার খাওয়ার খুব ইচ্ছা তার। কিন্তু অন্যরা খেতে পারলেও হরিজন সম্প্রদায়ের বলে তাকে খেতে দেওয়া হয় না। কাগজে খাবার নিয়ে হোটেলের বাইরে বসে খেতে হয় তাকে।

কুলাউড়া উপজেলা শহরের রেলওয়ে কলোনির পাশের একটি হোটেলে এমন ঘটনা ঘটেছে। শুধু একটি হোটেল নয়, এলাকার আরও অনেক হোটলেই এমন ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে শুধু বীরা নয়, বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র বিশাল (১২), রনবীর (১১), রেলওয়ে জুনিয়র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সঞ্জয় (১৪) ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র নীরব (৭), বিএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র বিরাটও (১১) এই বঞ্চনার শিকার।

এতকিছু না বুঝলেও এই বঞ্চনা ঠিকই প্রভাব ফেলেছে শিশু বীরার মনে। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের মুখ আড়াল করে সে।

অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের টিফিনের সময় বা ছুটির সময় হোটেলে বসে খেতে পারে না হরিজন শিশুরা। তাদের অন্য বন্ধু-বান্ধব একই সঙ্গে এসে হোটেলে ঢুকে পড়লেও তারা সেটি পারে না।

তাদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যের অভিযোগ গড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের কুলাউড়া শাখার সভাপতি মৎলা বাসপর বলেন, ‘আমরা হরিজন সম্প্রদায় এসব সামাজিক বা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা শহরের বিভিন্ন স্কুলে পড়ালেখা করে। স্কুলে টিফিনের সময় অন্য সম্প্রদায়ের বাচ্চারা হোটেলে বসে খেলেও আমাদের সন্তানেরা স্কুলড্রেস পরে গেলেও তাদের কাগজে খাবার দেওয়া হয়। পানি দেওয়া হয় ময়লা পাত্রে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হোটেলগুলোতে আমাদের খেতে দেয়ই না, এখন দেখি আমাদের শিশুদের প্রতিও এমনটি করা হচ্ছে। তাই আমরা প্রতিবাদ করছি। এই বৈষম্য সম্প্রতি বেশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন হোটেল, নাজমা হোটেল, পাকসী হোটেল ও গোল্ডেনভিউ হোটেলে এসব ঘটনা বেশি ঘটছে।’

এ বিষয়ে কুলাউড়া হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান মিয়া বলেন, ‘বিষয়টিতে আমাদের সমস্যা নেই। হোটেলে থাকা অন্যান্য গ্রাহকের আপত্তি। বাচ্চাদের বাইরে খাওয়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত বসে আলোচনা করে এর একটি সুন্দর সমাধান করবো।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি একটি হোটেল পরিদর্শনও করেছি। হোটেল মালিকদের বলেছি, আইনে এমন কথা আছে কি না, এমনকি পবিত্র কোরআনে এমন বৈষম্যের কোনো কথা আছে কি না তা আমাকে জানাতে। সবাইকে বলেছি, এভাবে কারও সঙ্গে বৈষম্য করা
যাবে না। বিষয়টি সমাধানের একটা ব্যবস্থা করা হবে।