হোমনা তিতাসে সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে বিএনপির বিরোধ: তৃণমূলে বিভক্ত

আবুল খায়ের ।।
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) সংসদীয় আসনে বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির বিরোধ চরমে। তাকে মনোনয়ন দিলে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের বড় একটি অংশ। তিনি পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বাড়ি কিনে বসতি স্থাপন করেছেন হোমনায়।
এদিকে দলের হাই কমান্ড সেলিম ভূঁইয়াকে গুরুত্ব দিলেও হোমনা তিতাস উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বড় একটি অংশ তাকে মেনে নিচ্ছে না। এদিকে জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আক্তারুজ্জামান সরকার, খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস আব্দুল মতিন , জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাঁখার সহ-সভাপতি মনোয়ার সরকার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং এমকে আনোয়ার কন্যা খাদিজা আনোয়ার রিনাও মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে অনেকটাই নির্ভার ছিলেন দলটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে দলের হাই কমান্ড সেলিম ভূঁইয়ার উপর অনেকটাই ভরসা করেন। সম্প্রতি আসন পুনর্বিন্যাসে তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন। তিনি এখন কুমিল্লা-১ আসনের ভোটার। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রার্থী। তাই সেলিম ভূঁইয়া কুমিল্লা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু হোমনা তিতাসে বিএনপির বড় একটি অংশ তাকে মেনে নিতে চাচ্ছে না। প্রকাশ্যেই সভা সমাবেশ করে তাকে ওই আসনে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ দিকে, নেতাকর্মীরা জানায়, জেলা বিএনপির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার গত ১৭ বছর যাবত দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। মামলা হামলার শিকার হয়ে হরতাল অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও কুমিল্লা উত্তরের ৭টি উপজেলায় বিএনপিকে সংগঠিত করার কাজ চালিয়েছেন। তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন। এখন কর্মী বান্ধব এ নেতার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এদিকে আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক এপিএস আব্দুল মতিন, জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাঁখার সহ-সভাপতি মনোয়ার সরকার, হোমনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মোল্লা এবং এমকে আনোয়ারের কন্যা খাদিজা আনোয়ার রিনা। এরমধ্যে মতিন খাঁন এবং মনোয়ার সরকার নিয়মিত মাঠে আসছেন এবং গণসংযোগ করছেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ আক্তারুজ্জামান সরকার বলেন, গত ১৭ বছর অনেক মামলা হামলার শিকার হয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। শত নির্যাতনের মাঝেও এলাকা ছাড়িনি। তৃণমূলকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। এখন দেখি অনেকেই প্রার্থী হতে চায়। আমি তৃণমূল এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপর ভরসা করি।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক এপিএস আব্দুল মতিন বলেন, হোমনা তিতাসের জনসাধারণ আমাকে চাচ্ছে। আমি বিএনপির আমলে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। দলের মনোনয়ন নিয়ে আমি আশাবাদী। জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাঁখার সহ-সভাপতি মনোয়ার সরকার বলেন, হোমনা তিতাসে এখন আমার গনসংযোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমার কর্মী সমর্থক রয়েছে। জনগণ আমার ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছে। হোমনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক জহর বলেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি এই আসনের কেউ না। তাকে হোমনা তিতাসে আমরা মেনে নিবো না। তিনি বিএনপির প্রবীণ নেতাকর্মীদের অপমান করেছে।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, আমি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এখানে হোমনা তিতাসের বাইরের কেউ প্রার্থী হলে তৃণমূল মানবে না। আমরা দলের হাইকমান্ডের কাছে বিষয়টি নিয়ে এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, হোমনায় কমিটি নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। বড় দলে এমন কিছু মতানৈক্য থাকতে পারে। একক প্রার্থী মনোনীত হলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। যেখানে আমি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছি সেখানে একটি আসনের মতপার্থক্য দূর করা কোন বিষয় না।