১০ম বিয়ে করে বিয়ে পাগল মিজানের ধরা , শ^শুরের স্বজনদের ৪০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

বিয়ে করাই তার নেশা । কখনো সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা,কখনো বিজিবির সদস্য আবার কখনো ব্যবসায়ী সেজে একে একে দশটি বিয়ে করেছে মিজানুর রহমান মিজান। সেনা কর্মকর্তা ও পিতৃমাতৃহীন সন্তান পরিচয় দিয়ে দশম বিয়ে করে স্ত্রীর আত্মীয় ম্বজনদের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মিজান। আদালতে মামলা হলেও পুলিশ এই বিয়ে পাগল ভন্ডকে এখনো গ্রেফতার করতে পারে নি। মিজান(৪৫) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লাহ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের এতবারপুর ভুঁইয়াবাড়ির মরহুম ফজলুল হকের ছেলে ।এরই মধ্যে এক ভুক্তভোগী রাশেদা বেগমকে বিয়ে করে তিনি ফেঁসে যান। বিয়ের আগে মিজানুর নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন।
দশম স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, মিজান যাদের বিয়ে করেছেন, তারা বেশিরভাগই হচ্ছে বিধবা আর নিরীহ পরিবারের মেয়ে। অনেককে আবার বিয়ে করে ডিভোর্স দিয়েছেন। তার প্রতারণার শিকার ১০ স্ত্রী হচ্ছেন, সেফালী আক্তার, সিফা, জেসমিন, কাজল, মোরশেদ বেগম মিজান, মনি, রিয়া, শান্তা আক্তার, রাশেদা। ৬ মাস থেকে এক বছর সংসার করে আর সংসার করেননি মিজান।
ভিকটিম রাশেদা বেগম বলেন, আমাকে বিয়ের আগে মিজান বলে, আমার বাবা-মা কেউ নেই। আমি এতিম সেনাবাহিনীতে চাকরি করি। বউ মারা গেছে। আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা কাবিনামায় ২০২১ সালে ১১ এপ্রিল মিজান বিয়ে করে।
বিয়ের কিছু দিন পর সে আমার আত্মীয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে বলে, কাউকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেবে, আবার কাউকে বলে বিদেশে পাঠাবে। এই বলে রাশেদা বেগম এর ব্যাংক হিসেবের চেক দিয়ে স্বজনের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। রাশেদা বেগমের আত্মীয়স্বজনরা এখন তাকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।
রাশেদা বেগম বলেন, আমি টাকার বিষয় জানতে চাইলে সে বিভিন্ন অজুহাত দেখা তো এবং আমাকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করত। আবার আমাকে বলত, ৫ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে আরেক বিয়ে করে নতুন সংসার করবে বলে সে আমাকে জানায়। আমি আর পাঁচ লাখ টাকা দিইনি। আমার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আমার চেক দিয়ে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে সে পালিয়ে যায়।

রাশেদ বেগম আরও বলেন, চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা করার কারণে আমি আদালতে যৌতুক বিরোধ আইনের ৩ ধরায় মামলা করেছি, আদালত বিয়ে পাগল মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। তাকে এখনো পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার বুড়িচং থানার ওসি মারফ রহমান বলেন, ওয়ারেন্টের কাগজ হাতে পেয়েছি। আমরা মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করার জন্য কাজ করেছি।