১০ ডিসেম্বর ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সামনে আসবে: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এটা কিন্তু আমাদের বিভাগীয় শেষ সমাবেশ। এখানে আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সামনে নিয়ে আসবো।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ আন্দোলন বিএনপির একার নয়, এটি এখন জনগণের আন্দোলনে রূপান্তর হয়েছে। মানুষ যেভাবে উঠে দাঁড়িয়েছে, যেভাবে কথা বলছে, রাস্তায় নেমে আসছে তাতে করে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের জীবনসায়াহ্নে এসে বলা যেতে পারে, আমরা আবার আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

আরেকটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতির মুক্তি সম্ভব হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষের মুখের ভাষা, তাদের আগ্রহ, নিষ্ঠা এগুলো দেখলেই বোঝা যায় মানুষ এখন পরিবর্তন চায়৷ সেই পরিবর্তন হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে একটা কল্যাণকর রাষ্ট্র মানুষ দেখতে চায়। আমরা মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করে সত্যিকারের একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র উপহার দিতে চাই।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তৈরি হয়নি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটা কী করে সম্ভব যে আমরা ৫০ বছর ধরে স্বাধীন আছি। অনেক উন্নয়ন করছি, মেগা উন্নয়ন হচ্ছে। চতুর্দিকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া হয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ব্যবস্থাটাই আমরা করতে পারিনি। প্রতিবার নির্বাচনের আগে একটা সংঘাত তৈরি হয়। এ সংঘাতের কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করার সিদ্ধান্ত।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরিভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা রাজনৈতিকভাবেও দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন আমলা আর গোয়েন্দাদের ওপর নির্ভরশীল।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধীদলের আন্দোলন শুরু হলেই আওয়ামী লীগ বলতো- অগ্নিসন্ত্রাস আর জঙ্গি। দুটোই কিন্তু এখন মাটি হয়ে গেছে। মানুষ সেসব কথা আর বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশে অগ্নিসন্ত্রাস আর জঙ্গি এ দুটি বিষয় কোনোভাবেই আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফারহাদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।