১৫৯ কিমি হেঁটে ঢাকার পথে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষক হাবিবুর

এমপিওভুক্তির দাবি
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

১৯৯৭ সালে নেত্রকোনায় প্রতিষ্ঠিত হয় অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষক হাবিবুর রহমান এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। এরপর দীর্ঘ প্রায় ২৫টি বছর কেটে গেছে। বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পার করে বিদ্যালয়টিকে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও ১৪ শিক্ষক-কর্মচারী।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসীর সহায়তায় কোনো রকমে চলছে বিদ্যালয়টি। এমপিওভুক্তি না হওয়ায় এর শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন কাটে কষ্টে। এবার এমপিওভুক্তির দাবিতে পদযাত্রা শুরু করেছেন শিক্ষক হাবিবুর রহমান। তিনি প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার পথপাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান।

হাবিবুর রহমানের পদযাত্রা শুরুর সময় জেলার অন্যান্য প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকরাও সংহতি জানিয়ে খানিকক্ষণ হাঁটেন। রোববার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনা শহরের পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয় তার যাত্রা।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জেলায় মোট ২৬টি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বছর আগে সদর উপজেলার সাজিউড়া অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন তিনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বুদ্ধি, বাক, দৃষ্টি, অটিজম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মিলিয়ে মোট ১৬৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের শিক্ষাদানে রয়েছেন ১৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। ২০ শতক জমিতে স্থাপিত এই বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক হিসেবে থেকে লেখাপড়া করছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহায়তায় কোনো রকমে চলছে বিদ্যালয়টি।

তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারি নিয়ম মেনে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি। সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান স্কুলটির দৈন্যদশা ও এমপিওভুক্তিকরণের বিষয় তুলে ধরে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি সংসদে ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড কথা বলেছেন। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালক-৭ আল মামুন মুর্শেদ স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের বরাবরে। এতেও স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়নি।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা এসেছে। তাদের জীবন কাটাতে হচ্ছে খুব কষ্টে। আমাদের এই দৈন্য তুলে ধরার জন্য এবং স্কুলটি যাতে ভবিষ্যতে এমপিওভুক্ত হয় শেষ ভরসা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাতে আমি ১৫৯ কিলোমিটার হাঁটা শুরু করেছি।

প্রতিদিন ২৫ কিলোমিটার হেঁটে সাতদিনে তিনি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা তার।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুর রব খান ঠাকুর বলেন, জেলায় থাকা মোট ২৬টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের মধ্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর পত্নীর নামে থাকা কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি একমাত্র এমপিওভুক্ত হয়েছে। আমরা চাই অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এমপিওভুক্ত করা হোক। ২৫ বছর ধরে হাবিবুর রহমান অনেক কষ্ট করে স্কুলটি চালাচ্ছেন। সরকারি নীতিমালার সবকিছুই এই বিদ্যালয়ের রয়েছে। আমরা হাবিবুর রহমানের এই পদযাত্রার শুভ কামনা করি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ লাভের মাধ্যমে স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই আশা পূরণ হবে।

নেত্রকোনা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া বলেন, আমরা চাই হাবিবুর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য, সেটা সফল হোক। প্রধানমন্ত্রী যেন বিষয়টাতে হস্তক্ষেপ করেন। সাক্ষাতের যেন একটা ব্যবস্থা করেন।