১৭ তে পদার্পণ করল কুবি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

মহিউদ্দিন মাহি, কুবি ।। আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী । ২০০৬ সালের ২৮ মে রোববার দেশের ২৬ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসতে পারেনি দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষকদের দলাদলি, প্রতিহিংসামূলক মনোভাব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি, ছাত্র রাজনীতির বিরূপ প্রভাব, পদ নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি প্রভৃতি লেগেই আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে রাজনীতিতেই বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবিষ্যত দেখেন অধিকাংশ শিক্ষক। এমনকি ছাত্র রাজনীতিতেও রয়েছে শিক্ষকদের প্রভাব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সেশনজট, বিভিন্ন খাতে অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, ভঙ্গুর চিকিৎসা সেবা, গ্রন্থাগার অব্যবস্থাপনা, হলগুলো ও ক্যাফেটারিয়ার উচ্চমূল্যে নিম্নমানের খাবার, খাদ্যে ভর্তুকির অভাব, গবেষণায় অপ্রতুল বরাদ্দ, তথ্যপ্রযুক্তিতে অনগ্রসরতা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব, রাজনীতি ও ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রাজনীতি, বিভিন্ন সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে থাকা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠা, মাদকের আগ্রাসনসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বরাবরই ব্যহত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পরে মাত্র ৭টি বিভাগে ১৫ জন শিক্ষক ও ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির। বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯ টি বিভাগে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। নারীদের জন্য একটিসহ মোট আবাসন রয়েছে চারটি। এখনও আবাসনের সুবিধার বাহিরে রয়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী।

২৫০ শের অধিক শিক্ষকের বিপরীতে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষক। তলা প্রতি দুই ফ্ল্যাটের পাঁচ তলাবিশিষ্ট দু’টি ডরমিটরিতে কর্মকর্তাসহ থাকতে পারছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন। আরেকটি ডরমিটরির নির্মাণকাজ ২০১৭ সালে শুরু হলেও কচ্ছপ গতিতে চলায় কবে নাগাদ তা শেষ হবে, সে নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউ।

নিয়োগে দলীয়করণ ও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নেওয়া হয় লোক দেখানো লিখিত পরীক্ষা। এক পদে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আরেকপদে নিয়োগ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে একাধিক।

শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষকদের উদাসীনতাসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকটি বিভাগে সেশনজট লেগেই আছে। এর মধ্যে যোগ হয়েছে মহামারি করোনা। বর্তমানে প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছরের সেশনজটে আটকে রয়েছেন।

তবে ২০১৮ সালের অক্টোবরে অধিকতর উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্পের অনুমোদন পায় কুবি। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হলেও চলতি বছরের ১০ এপ্রিল ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করতে পেরেছে মাত্র এটি। ফলে কবে নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, দু’ থেকে তিন বছরের মধ্যেই আমাদের ১ হাজার ৬৫৫ কোটির টাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। তখন অবকাঠামোগত সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এখন শুধু দরকার আমাদের শিক্ষা ও গবেষণায় গুণগত উন্নয়ন। আশা করি আগামী পাঁচবছরের মধ্যেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তার উৎকর্ষতার প্রমাণ দিতে পারবে।