৩দিন না আসলে ১০০ জরিমানা ও পুনঃরায় ভর্তি ৩০০টাকা নাঙ্গলকোটে ১৫ শিক্ষার্থী অজ্ঞান

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি :  কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এ.আর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ১৫ শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পুরো স্কুলের প্রায় ১৫শ শিক্ষার্থীর মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদেরকে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দ্রুত নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধারণা আগের দিন বুধবার বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামীলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসের বিষক্রিয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পরে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিএনপি-আলীগের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসে নাঙ্গলকোট এ আর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে থাকা ৫০ শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের আহতের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান মেহেবুব ও সহকারী কমিশনার ভূমি আশরাফুল ইসলাম তাদের গাড়ী নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশের নিক্ষেপ করা কাঁদানে গ্যাসে বুধবার ৫০ জন আহত হওয়ার পর পরের দিনও একই শ্রেণী কক্ষে আমাদেরকে আজকে ক্লাস করতে বাধ্য করা হয়। ক্লাসে বসার কিছুক্ষণ পরই এক এক করে আমাদের ১৫ সহপাঠি অজ্ঞান হয়ে যায়। স্কুলে না আসলে প্রতিদিন ২০টাকা, বিরতির পর চলে গেলে ৫০টাকা, ৩দিন না আসলে ১০০টাকা ও পুনঃরায় ভর্তি হতে হয় ৩০০টাকা দিতে হয়। যার কারণে সংঘর্ষ হবে জেনেও আমরা বাধ্য হয়ে স্কুলে এসেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমি ছুটির দরখাস্ত করেও জরিমানা থেকে রেহাই পাইনি। যেহেতু আ-লীগ-বিএনপি একই সময়ে একই স্থানে সমাবেশ ডেকেছে সেহেতু ওই দিন স্কুল বন্ধ রাখা দরকার ছিলো। স্কুল খোলা রাখায় জরিমানার ভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের কারণে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।