৩৫ বছরে শৈশবের স্বাদ, হতে চান উচ্চশিক্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দেড় যুগ আগের কথা। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখেন সাইফুল। শেষ করেন উচ্চ মাধ্যমিকও। স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনায়। এর মধ্যেই কাঁধে আসে সংসারের দায়িত্ব। পাড়ি দেন দেশের বাইরে। ছাড়েন পরিবার-পরিজন। তবু হাল ছাড়েননি লেখাপড়ার। ভর্তি হন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাকরি। এভাবেই চলতে থাকে কয়েক বছর। যদিও এর মধ্যে গড়ে তোলেন ব্যবসা।

নিজের ব্যবসায় সফলতা পেলেও অপূর্ণ রয়ে যায় শিক্ষাজীবন। আর সেই স্বপ্নপূরণে ৩৫ বছরে ফের লেখাপড়া শুরু করেছেন ছাত্রজীবনের এ মেধাবী।

পুরো নাম সাইফুল ইসলাম করিম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের আবু তাহের মাস্টারের ছোট ছেলে। নিজেকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক হিসেবে গড়তেই তার এ পথচলা।

সাইফুলের সহপাঠীরা লেখাপড়া শেষ করে এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। একসময় শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়লেও হতাশ হননি ৩৫ বছর বয়সী এ যুবক। ঢাকায় গড়ে তোলেন অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মহাসাগর ডটকম। সাময়িকভাবে স্নাতক অর্জন করতে না পারলেও মর্যাদা পান প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। নান্দনিক পোশাক নিয়ে কাজ করায় পেয়েছেন পুরস্কারও। সম্প্রতি সাইফুলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

জানা গেছে, ছাত্রজীবনে খুব মেধাবী ছিলেন সাইফুল। ২০০৪ সালে এসএসসি ও ২০০৬-এ এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত লেখাপড়া করেই শেষ করতে হয় ছাত্রজীবন। তবে ছাত্রজীবনে থাকতেই সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় ছিলেন এ মেধাবী।

সংসারের দায়িত্ব থাকায় পাড়ি দেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানেও লেখাপড়া চালানোর চেষ্টা করেন। ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্টার্ন ক্যাফেতে। কিন্তু চাকরির বাধ্যবাধকতায় বেশি দূর এগোতে পারেননি। দীর্ঘ আট বছর পর দেশে এসে ফের মনোযোগী হন লেখাপড়ায়। ভর্তি হন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পাস কোর্সে। সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন সাইফুল।

সাইফুল এখন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির শেষ বর্ষের ছাত্র। শৈশবে চেয়ার-টেবিলে বসে লেখাপড়ার স্বাদ নিচ্ছেন এ বয়সে। এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছেন। কর্মস্থল ঢাকা হওয়ায় প্রতি শুক্রবার লক্ষ্মীপুরে এসে দিচ্ছেন পরীক্ষা।

মহাসাগরের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম রাশেদ বলেন, সাইফুল ইসলাম করিমের যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ কমতি নেই তার। সাময়িক পিছু পড়লেও ইচ্ছাশক্তি দিয়ে পুনরায় আয়ত্ত করে নিয়েছেন তিনি। অফিস সময়ের ফাঁকে ফাঁকে বই নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সাইফুল। আমরাও তাকে সাহস জুগিয়েছি।

দুই সন্তানের বাবা সাইফুল ইসলাম করিম থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও একই এলাকায়। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন অসংখ্য তরুণ-তরুণীর। পর্যায়ক্রমে একের পর এক প্রতিষ্ঠা করছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি রোব বাংলাদেশ নামে মহাসাগরের আরেকটি এক্সক্লুসিভ ক্লথিং ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সাইফুল ইসলাম করিম বলেন, লেখাপড়া করে কর কমিশনের একজন বিসিএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমার। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। এরপরও থেমে থাকিনি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফের লেখাপড়া করছি। আশা করছি ভালো কিছু করতে পারবো।