সংবাদ শিরোনাম
সোমবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
ভয়ঙ্কর ঝড়-বৃষ্টির পর অপেক্ষা করছে তীব্র গরমউটের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল বানাচ্ছে সৌদি আরবকাবা শরিফ ও মসজিদে নববিতে সেলফি তোলা নিষিদ্নোয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ১কুমিল্লাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী মাহমুদুল হাসান জয়কুমিল্লায় দুধ বিক্রেতার হাতে গৃহবধূ ধর্ষণবার্ডে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় আফ্রিকা ও এশিয়ার ১২ দেশের অংশগ্রহণকুমিল্লা সিটি ক্লাবে অভিযান, বিপুল পরিমাণের মাদকসহ আটক ১কুমিল্লায় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে দারিদ্র বিমোচনে রিকশা ভ্যান বিতরণকুমিল্লায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে- কাউন্সিলর কাপ টি-২০ ক্রিকেট ট‚র্ণামেন্ট উদ্বোধনব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টাকার জন্য ছেলের দা’য়ের কোপে বাবা খুনস্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে – এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লার শিক্ষা সামগ্রী বিতরণউড়ে উড়ে গ্যাস যাচ্ছে বাসা-বাড়িইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা১৪১ বছরে এমন জানুয়ারি দেখেনি পৃথিবীকুমিল্লায় বি নেগেটিভ বøাড ডোনারদের মিলন মেলাকতিপয় জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসিতে নকলের মহামারী!ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখেঁর রস থেকে তৈরী হয় সুস্বাদু লালিকুমিল্লায় শংকুরপুর পুকুরে বিষ প্রয়োগে ২০ লক্ষ টাকা মাছ নিধনের অভিযোগকুমিল্লায় ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৫

এপেক্সিয়ানরা সর্ব পর্যায়ে মানবতার গান গায়…..

এপে. শাহাজাদা এমরান ।। মানুষ তার সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই নিজেকে ভালোবাসে। হৃদয়বৃত্তির ব্যাপক একটি ভুবনে মূলত ভালোবাসা দুই রকম হতে পারে। একটি হলো ¯্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির প্রেম, অন্যটি হলো সৃষ্টির সঙ্গে সৃষ্টির প্রেম। সৃষ্টিজগতকে না ভালোবাসলে স্রষ্টাকেও ভালোবাসা যায় না। মানুষ প্রকৃতিপ্রেমে নিমগ্ন হয়, অনেকে আপনজনহীন হয়েও একদল অনাত্মীয়ের ভিড়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। কেউ অসহায় কোনো মানুষ, শিশু বা জীবজন্তুকেও নিঃস্বার্থভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের অনেকেরই ধারণা, ইবাদত মানে শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। এ কারণে আমরা ইসলামকে শুধু ব্যক্তি জীবনে ও মসজিদ কেন্দ্রিক আবদ্ধ করে রাখতেই পছন্দ করি। আসলে কি তাই? মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাও অনেক বড় ইবাদত। আলেম, শিক্ষক, ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, যে যাই হই না কেন, প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা অপরিহার্য। কারণ আমাদের সৃষ্টিই করা হয়েছে জাতির কল্যাণে। মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করা অসৎ কাজে বাধা প্রদান করা যেমন আমাদের দায়িত্ব। তেমনি মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অভাবীর অভাব মোচনের চেষ্টা করাও আমাদেরই দায়িত্ব। নবী করিম (সা.) বলেছেন, মুমিন মুমিনের জন্য ইমারাত সাদৃশ্য, যার একাংশ অন্য অংশকে মজবুত করে। শুধু নিজে ভালো থাকার চেষ্টা করা, অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করা মুমিনের কাজ নয়। মুমিনের কাজ হচ্ছে সবাইকে একসঙ্গে ভালো থাকার চেষ্টা করা। মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করাও কিন্তু অন্যতম ইবাদত।
আমি মনে করি এপেক্স ক্লাব গত ৫৮ বছর ধরেই ৫৫ হাজার ৫৯৮ বর্গ কিলোমিটারের এই প্রিয় স্বদেশে এই ইবাদতটি সুচারু ভাবে সম্পন্ন করে আসছে। এপেক্স বাংলাদেশের প্রধান চালিকা শক্তি হলো তাঁর তিনটি মোটো। ১.সেবা ২.সৌহার্দ্য ও ৩. সুনাগরিকত্ব। আমরা একটু ঠান্ডা মাথায় বিচার করলে অনুভব করতে পারব যে, এই তিনটি মোটো একটির সাথে অপরটি এমন ভাবেই লেগে আছে যে,ইচ্ছা করলেই এটি সরানো যাবে না। তিনটি মোটোই একে অপরের সাথে পরিপূরক। কারণ,কম ভাগ্যবান বা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের সেবা তিনিই করবেন যার ভিতর সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে, যার ভিতর সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সম্প্রীতি থাকবে তিনি অবশ্যই সুনাগরিক হবেন।
দেখতে দেখতে আমার এপেক্স ক্যারিয়ার প্রায় দশ বছরের দ্বার প্রান্তে উপনীত। মাঝে মাঝে মনে হয় এক দশক তো কাটিয়ে দিলাম । বাহ! অনেক বছর তো হলো। কিন্তু পরক্ষণেই আপন ভুবনে ফিরে যাই,যখন ভাবি,আমার বাবা কিংবা বড় ভাই বয়সী পরম শ্রদ্ধেয়ভাজন ব্যক্তিত্ব সর্বজনাব এপে. এম কুতুব উদ-দৌলা, এপে. ডা. জবিউল আলম, এপে. আনিসুজ্জামান শাথিল, এপে. আবদুল কাদের নেওয়াজ, এপে. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, এপে. চন্দন দাশ প্রমুখ অদৃশ্য এক ভালবাসার টানে এখনো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া-রূপসা থেকে পাথুরিয়া ঘুরে বেড়ান। কোন ক্লান্তিই তাদের ক্ষমা করে না। যে বয়সে তারা নিজের নাতি নাতনীদের সময় দেয়ার কথা সে বয়সেও তারা কম ভাগ্যবান অসহায় দরিদ্র মানুষের কল্যাণে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে। তখন মনে হয়, না,আমার ভাবনা সঠিক না। আমি তো সবে মাত্র শুরু করলাম এপেক্স।ক্লান্তি কেন আমাকে স্পর্শ করবে ?
যখন ভাবি বা দেখি,আমাদের যৎ সামান্য একটু ত্যাগের জন্য একজন ভাগ্যবিড়ম্বিত স্বামী তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে ঔষধ কিনে দিচ্ছে,একজন কণ্যা দায়গ্রস্থ পিতার মলিন মুখটি হাসিতে ভরে উঠছে,একজন এতিম শিশু একাধিক মৌসুমী ফল এক সাথে কাছে পেয়ে একে অপরের প্রতি তৃপ্তির চিমটি কাটছে,একজন শিক্ষার্থী আমাদের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে,পরীক্ষা দিচ্ছে,মুক্ত আকাশের নিচে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। যখন দেখি,কুমিল্লার একজন এপেক্সিয়ানের বোন যাশোরে রক্তের অভাবে হাসপাতালে কাতরাচ্ছিল ঠিক তখনি কুমিল্লার এপেক্সিয়ানদের ফোন পেয়ে যশোরের এপেক্সিয়ানরা রক্ত দেওয়ার জন্য হাসপাতালে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে, নিজেদের গায়ের রক্ত দিয়েই তারা ক্ষ্যান্ত হননি, নিজেদের কষ্টার্জিত পকেটের টাকা খরচ করে তাকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে সুস্থ করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, যে এপেক্সিয়ান তার ৪৪ বছরের জীবনে কেক কাটা তো দূরের কথা জন্ম দিনটিও পালন করেননি এমনকি নিজের জন্মদিন কখনো মনে রাখেননি শুধুমাত্র এপেক্স করার কারণে তার ক্লাব সতীর্থরা তাকে নিয়ে কেক কেটে জন্ম দিন পালন করেছে, উপহার দিয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে জন্ম দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র এপেক্স করার কারণেই।
সুতরাং এ জন্যই সেবা, সৌহার্দ্য ও সুনাগরিকত্বের মধ্যে দিয়ে এপেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এপেক্স এর শাব্দিক অর্থ হলো শীর্ষ বা চূড়া। জীবনে পাহাড়সম চূড়ায় উঠতে হলে, প্রথমেই লাগবে সাহস। এপেক্স আমাদের সেই সাহসী হতে শিক্ষা দেয়। দ্বিতীয়ত্ব লাগবে ত্যাগ। ত্যাগের মূল মন্ত্রই হলো সেবা। মানুষের কল্যাণে আপনাকে কাজ করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন ত্যাগ স্বীকার করা। ত্যাগ ছাড়া সেবা তো ভাবাই যায় না। তৃতীয়ত্ব লাগবে পরিশ্রম করার মানুষিকতা। কম ভাগ্যবানদের কল্যাণে কাজ করতে হলে অবশ্যই আপানাকে পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখতে হবে, খালি পকেটে যেমন সেবা হয় না ঠিক তেমনি ঘরে বসে অর্থ দিয়ে নির্দেশ দিলেই সর্ব ক্ষেত্রে সেবা করা যায় না। চতুর্থত্ব আপনার মধ্যে মানুষকে ভালবাসার একটি সংবেদনশীল মন থাকতে হবে।
আমরা এপেক্সকে ভালবাসি নুনের মত। যে নুন আমাদের সর্বত্র প্রয়োজন। মনের গহিন থেকে আমাদের জীবনের সবটুকু ভালবাসা উজাড় করে দিতে চাই প্রিয় এপেক্সের প্রতি, যে এপেক্স আমাদের পরমত সহিঞ্চু হতে শিক্ষা দেয়। শিক্ষা দেয় দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে।
অতএব, আসুন, এপেক্সের পতাকাতলে সমবেত হই। এপেক্স আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেই শহর থেকে গ্রামের একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যেখানে শুধু আমরাই থাকব সহযোগিতার দৃঢ় হাত নিয়ে সাধারণের কল্যাণে। আর মনের সুখে গাইব-মরমী কন্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার সেই প্রিয় গান, মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য।
লেখক: প্রেসিডেন্ট, এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *