বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শোকজ করা হয়েছিল সম্রাট-খালেদকেরিফাত হত্যায় ৯ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানামিন্নি আদালতে আসলেন বাবার মোটরসাইকেলে করেছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সম্পাদক শ্যামলছিঁচকে চুরি, সাগর চুরি আর পিনাটতত্ত্বএকান্ত সাক্ষাৎকার আধুনিক পৌরসভা গড়তে কাজ করে যাচ্ছি: চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়রহাজীগঞ্জে আমড়া খাওয়ার জন্য প্রাণ দিল আরফাকুমিল্লায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী-শ্বশুর গ্রেফতারবরুড়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণসভা‘বাংলাদেশের শত্রু বাংলাদেশই’সাকিবদের সামনে আফগান চ্যালেঞ্জআফগানিস্তান ম্যাচের আগে হঠাৎ দলে আবু হায়দারপ্রবাসীদের লাশ টাকার অভাবে বিদেশে পড়ে থাকবে না, লাশ আসবে সরকারি খরচে: অর্থমন্ত্রীকুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন- আয়তন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ৭ বছর ধরে ঝুলে আছে মন্ত্রনালয়েধর্ষণদৃশ্য দেখানোর অপরাধে টিভি চ্যানেলকে জরিমানাজোড়া লাগছে তাহসান-মিথিলার সংসার!মাহমুদউল্লাহদের ১৯৩ রানের টার্গেট দিলেন সাকিবরাবড় সংগ্রহের পথে ঢাকাজাজাইয়ের ব্যাক টু ব্যাক ঝড়ো ফিফটি, উড়ছে ঢাকাঢাকা বনাম খুলনার খেলা দেখুন সরাসরি

মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না: হাইকোর্ট

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মামলার প্রধান সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না- তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ২৮ আগস্ট আদালতে তলব করা হয়েছে।

মিন্নির জবানবন্দির বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপারের কাছে ব্যাখ্যা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) নথিসহ তলব করেছেন আদালত। আগামী ২৮ আগস্ট এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার এ মামলার আংশিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে সোমবার জামিন আবেদনের শুনানির শুরুতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না আদালতে বলেন, ‘মাই লর্ড, হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আমরা জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত রুল দিতে চেয়েছিলেন। আমরা নিইনি। আমরা আবেদন ফেরত নিয়েছি। এখন পুনরায় আপনার কাছে জামিনের আবেদন করেছি।’

জেডআই খান পান্না আরও বলেন, ‘এ মামলার এফআরআইয়ে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির নাম নেই। তিনি ছিলেন মামলার প্রধান সাক্ষী। গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ার আগেই পুলিশলাইনসে নিয়ে যায়। পুরুষ পুলিশের অধীনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে দোষ স্বীকার শেখানো বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। আদালতে হাজির করে পুলিশ দাবি করে, মিন্নি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মিন্নি এসব বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এমনকি মিন্নিকে নিম্ন আদালতে উপস্থাপনের পর কোনো আইনজীবী তার পক্ষে দাঁড়াননি। মিন্নির পক্ষে মামলা না লড়তে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে মিন্নি নিজেই আদালতে বলেন, আমি নির্দোষ।’

জেডআই খান পান্না আরও বলেন, ‘রিফাত হত্যার আগে ও পরে পুলিশ একটি ভিডিওকে ১১ টুকরা করে উপস্থাপন করে।’

এ পর্যায়ে আদালত আইনজীবীকে বলেন, ‘জামিনের পক্ষে আপনার যুক্তি কী?’

জবাবে আইনজীবী বলেন, মিন্নি ১৯ বছরের একজন তরুণী। তিনি কলেজে পড়েন। মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্র করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ডকুমেন্ট আমরা পাইনি। এ মামলার ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও পাইনি, যদিও নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। একজন নারী এবং অসুস্থ বিবেচনায় জামিন আশা করছি। যেহেতু মিন্নি কলেজে পড়েন। জামিন হলে তিনি পালিয়ে যাবেন না। মিন্নিকে পুলিশলাইনসে নিয়ে পরে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ সময় আদালত জানতে চান, পুলিশলাইনসে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আপনারা কি নথিতে উপস্থাপন করেছেন?

জবাবে আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, ‘স্টেটমেন্ট আছে।’

পরে আদালত বলেন, মিন্নিকে কবে পুলিশলাইনসে নেয়া হয়, কবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়, কবে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া হয় এবং কবে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে মিন্নি জড়িত বলে বক্তব্য দেন, তা আগামীকাল দুপুর ২টার মধ্যে সম্পূরক আকারে জমা দিন।’ এর পর শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

এর আগে ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না আবেদনটি ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ওই আবেদনটিই রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে দাখিল করা হয়।

আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নিসহ আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না আনতে পারলে জামিন হবে না, হাইকোর্টের এমন শর্তের পর ৮ আগস্ট আবেদনটি ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরিফ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর ছেলে হত্যায় পুত্রবধূ মিন্নির জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মিন্নি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। পরে মিন্নি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন আদালতে। মিন্নির বাবার অভিযোগ, ‘নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ।’

গত ৩০ জুলাই মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এর আগে ২২ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। ওই দিনই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

পরে ২৩ জুলাই ‘মিস কেস’ দাখিল করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে ফের জামিনের আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের নথি তলব করে ৩০ জুলাই জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

সেদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উভয়পক্ষের শুনানি হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির আদালতে উপস্থিত হলে এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। সবার উপস্থিতিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ল্যাপটপে হত্যাকাণ্ডের আগের ও পরের ভিডিও ফুটেজ দেখান। এ ছাড়া মিন্নির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিসহ হত্যার আগে ও পরে প্রধান আসামি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডসহ অন্যান্য আসামির সঙ্গে মিন্নির কললিস্টের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *