শনিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
কিশোর গ্যাং: ‘বড়ভাইদের’ হাত ধরে বিপথগামী কিশোররা বরগুনায় আর নতুন গ্যাং তৈরির সুযোগ হবে না -এসপি মারুফ হোসেনইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ উদ্বোধন রাশিয়ায়আমাজন পোড়ার নেপথ্যে সোনা?জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস, কেমন ঝুঁকির মুখে বিশ্ববিপর্যয়ে পৃথিবীর ‘ফুসফুস’পুড়ে ছাই আমাজনে সেনা মোতায়েনপুড়ে ছাই হচ্ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’পরিবেশ রক্ষার্থে একদিন পর পর মলত্যাগের পরামর্শ২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতিঅবিশ্বাস্য! টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে সেঞ্চুরি, পরে ৪ ওভারে ৮ উইকেটক্রিকেটার শ্রীশান্তের বাড়িতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা স্ত্রীরকুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত সেতুকে বাঁচাতে গিয়ে কাটা পড়ে আদিত্যকুমিল্লায় সেরা বাগানীদেরকে সম্মাননাকুবির ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে টিকটিকি!রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট ৩ সেপ্টেম্বরমিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না: হাইকোর্টমিন্নির জামিন শুনানি ফের উঠছে হাইকোর্টেমিন্নির জবানবন্দির বিষয়ে জানতে চান হাইকোর্টহাইকোর্টের আরেক বেঞ্চে মিন্নির জামিন শুনানি আজকুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রেমিক-প্রেমিকা নিহত

অামাদের বন্ধু সত্য — ডা. ইকবাল আনোয়ার

অামাদের বন্ধু ছিলো সত্যকাম, সংক্ষেপে ডাকতাম সত্য। শৈশবের কথা বলছি।
ক্লাস করতো না সে, বলতো বইএর লেখা মিথ্যা।
বড়ো ইঁচড়ে পাকা ছেলে।

বিজ্ঞান নাকি একটা বইএর মতো, যার সামনের অার পেছনের পাতাগুলো নাই, ধর্ম ক্লাসে দু একদিন এসেছিলো , নানান প্যাচ মেরে ধরলো বলে স্যার বলে দিলেন – এ ক্লাসে তুই অার অাসিস না রে! ইতিহাস নাকি জয়ীদের লেখা কাব্য, অার অংক! সত্য বলতো এ জগতে কোন কিছুই কোন কিছুর মতো নয়, তা হলে একের সংগে অন্যের যোগ বিয়োগ পুরণ ভাগ কি করে হবে!
এত শৈশবে এতো ঘোর লাগা কথা! সত্যকে স্বভাবতই সহ্য করতোনা কেউ, সে ও থাকতো একা একা, একাই খেলতো, কাটাকাটি খেলা (নিজেকে নিজেই কাটে অার হাসে), একা সাঁতার কাটতো, মাঝ পুকুরে ডুবতো ভাসতো।
ক্লাস না করলে তো অার সাটির্ফিকেট মিলেনা, তাই সত্য রয়ে গেলো মুর্খ। অামরা স্কুল থেকে কলেজে, সেখান থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় হয়ে প্রায় সকলেই বড়ো বিদ্যান হয়েছি, প্রতিষ্ঠিত যাকে বলে।

এ বয়সে এসে স্কুলের বন্ধুরা এক হয়ে একটা সংগঠন করেছি অামরা। অাড্ডায় মিলতে পারলেই হলো, একদম স্কুলের বালক হয়ে যাই যেন।
অামাদের মধ্যে কয়েকজন তো নামকরা স্কলার, দেশের চেয়ে বিদেশেই বেশী থাকে, তাদের বক্তৃতা অনেক দামে বিক্রি হয় বলে শুনি, অামরা গর্ব করে বলি, হবে না! অামাদের বন্ধু না!

এমনি অাড্ডায় একদিন এক বন্ধু বলে বসলো, অাচ্ছা সত্যকাম কোথায় রে, বলতে পারিস? অামরা অাদতে তাকে ভুলেই গেছিলাম। মনে পড়লো সত্য র মা প্রায়ই অামাদের কাছে বলতো, অামার সত্যকে তোমরা দেখেছো কি? বলতাম, কোত্থেকে দেখবো? সত্য তো একা থাকে!
তারপর সত্যের স্বভাব, তার ইঁচড়ে পাকা কথা, দার্শনিক ভাব, এসব মনে পড়লো অামাদের।
কেউ একজন বললো, বছর তিনেক অাগে সত্যকে রেলস্টেশনে দেখেছে সে, অারেকজন নেপাল বেড়াতে গিয়ে নাকি তাকে পাহাড় চূড়ার কোন বিখ্যাত মন্দিরে দেখেছে।

অামরা সত্যকে দেখার বিষয়টা বিশ্বাস করতে পারিনি, সত্যের সাথে শৈশবেই অামাদের ছেদ পড়ে গেছে। তাকে দেখলেও এখন চিনবো কি করে? বুঝবো কেমন করে – এটাই সত্য! তার মুখে নিশ্চয়ই নানা বলি রেখা, হয়তো দাড়ি গোঁফের ভেতর সে লুকিয়ে রেখেছে নিজেকে!
হয়তো সত্য অপুষ্টিতে মারা গেছে, নয়তো তাকে মেরে ফেলেছে কোন বদমাইশ! কেউ একজন বললো, না রে, অামার মন টানছে, সত্য অাজো বেঁচে অাছে, একদিন না একদিন অামাদের সামনে এসে বলবে- অামি সত্য, এসেছি তোমাদের কাছে! দেখোতো চিনতে পারো কিনা? চিনতে পারবোনা তো জানি, কিন্তুু সত্য অভয় দিয়ে তখন বলবে, না চিনারই কথা, নুতন করে চিনলেই হলো।

সেদিনের অাড্ডা লম্বা হলো, রাত গভীর হলো, সত্যের কথা তবু শেষ হতে চায়না। সেই সত্য! যাকে অামরা শৈশবে হারিয়ে ফেলেছিলাম! অবশেষে অামরা সত্য র জন্য প্রার্থনা করে যার যার বাড়ী ফিরলাম।

ডা. ইকবাল আনোয়ারের ফেসবুক থেকে নেওয়া

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *