সংবাদ শিরোনাম
মঙ্গলবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
বুড়িচংয়ের নিখোঁজের ৯ মাস পর প্রবাসীর লাশ মিললো হাসপাতালেটমেটো চাষে স্বপ্ন দেখে গোমতী পাড়ের শহিদশাহাজাদা প্রেসিডেন্ট টিপু সেক্রেটারি- এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লার নতুন কমিটি গঠিতকুমিল্লা বা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ভারতের ভিসা অফিস খোলার অনুরোধলাকসামে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের মারধর ও বাড়িতে হামলা লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগকুমিল্লা ৮ – বরুড়ায় হ য ব র ল আওয়ামীলীগ-মহাজোটতাইজুল ঘূর্ণিতে কুপোকাত ওয়েস্ট ইন্ডিজমুরাদনগরে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে মনোনয়ন না দিতে শেখ হাসিনার প্রতি আহবানমুরাদনগরে বিএনপিতে চার ভাইয়ের মনোনয়ন সংগ্রহচান্দিনায় আ’লীগ -এলডিপি’র সংঘর্ষ: আহত ৭ গ্রেফতার ১একি করলেন কুমিল্লা-৯ এর এমপি তাজুল ইসলাম !কুমিল্লা-৫ : আ’লীগ নেতা ব্যারিস্টার সোহরাবকে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণাদক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কুমিল্লার যুবক নিহতকুমিল্লায় জাতীয় ছাত্র সমাজের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিতউদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে পিআইবির পরিচালক- নবীনদের প্রশিক্ষনের সুযোগ করে দিয়ে কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেকেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে -কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে শেষ শ্রদ্ধাএকাদশ সংসদ নির্বাচন : প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে নেয়ার নির্দেশবিকল্প ধারা থেকে বি.চৌধুরী ,মান্নান ও মাহীকে বহিষ্কারকেমন আছে একসঙ্গে জন্ম নেয়া বুড়িচংয়ের ৪ নবজাতককুমিল্লার যুবদল নেতাকে ঢাকায় কুপিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকদের মাল্টা চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

 

উজ্জল চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৫:৪৮, আগস্ট ৩১, ২০১৮\

.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া, কসবা এলাকা ফল চাষের জন্য বেশ প্রসিদ্ধ। এসব এলাকার কৃষকরা দীর্ঘ দিন ধরে লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা ফলের চাষ করে আসছেন। তবে ফলন ভাল হওয়ায় এলাকার কৃষকরা এখন মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। শুরুতে মাল্টা চাষ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে কিছুটা ধোঁয়াশা কাজ করলেও ভাল ফলন  এবং  লাভের আশায় এখন খুশি বাগান মালিকেরা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, উৎপাদন ভালো হচ্ছে, তাই আগামী দিনে এলাকার অনেকে কৃষকই মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ত্রিপুরা সিমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী, মেরশানী, বিষ্ণুপুর, পাহাড়পুরসহ আশপাশের এলাকার প্রতিটি বাগানে এখন মাল্টার সমারোহ। সিংগারবিল ইউনিয়নের নোয়াবাদী গ্রামের বাসিন্দা মাল্টা বাগান মালিক মো. ইসহাক, সোহাগ মিয়া ও মোজাম্মেল হক জানান, কৃষি বিভাগের প্রনোদনায় গত দুই বছর আগে তারা প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে মাল্টার চারা এবং অন্যান্য উপকরণ পেয়েছিলেন। পরে তারা বাগানে মাল্টা গাছের চারা লাগিয়ে ছিলেন। শুরুতে গ্রামের মানুষ নতুন এবং চাষাবাদে অপরিচিত ফলটির আবাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তবে দুই বছর পর এখন প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণ মাল্টা ধরেছে। তাছাড়া ফলন ভালো হওয়ায় বাগান মালিকেরা বেশ খুশি।

.

মাল্টা বাগান মালিকেরা জানান, ইতোমধ্যে মাল্টায় পাক ধরেছে। সেগুলো খেতে বেশ রসালো ও মিষ্টি। তাই মালটা চাষ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন বিজয়নগর উপজেলার চাষিরা।নিজেদের পতিত জমিতে ফলন ভালো এবং খেতে সুস্বাদু মাল্টা চাষের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন অনেকে। মাল্টা চাষে আগ্রহী নোয়াবাদী গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মামুন চৌধুরী ও প্রবাস ফেরত স্থানীয় যুবক শাহ আলম জানান, এতদিন লিচু-পেয়ারার বাগান করেছি। এখন মাল্টা বাগান করবো বলে চিন্তা করছি। অন্যদের বাগানে এ বছর মাল্টার আবাদ ভালো হয়েছে। তারা জানান, আগে থেকে আমরা এই ফলটির চাষাবাদ নিয়ে তেমন পরিচিত ছিলাম না। এখন দেখছি অনেকে বাগান করছে। তাই আগামীতে আমরাও আমাদের পতিত (খালি) জমিতে মাল্টার আবাদ করবো।

ভারতের ত্রিপুরা সিমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার সিংঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এই প্রথমবারের মতো চলতি বছর বিজয়নগরের প্রতিটি বাগানে মাল্টা ধরেছে। আমাদের এলাকায় মাল্টার আবাদ বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। লিচু, পেয়ারা, কাঁঠালের পর কৃষকেরা এবার মাল্টায় নিজেদের অর্থিক সংকট ঘুচিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ এ বছর আমি নিজেও মাল্টা বাগান করেছি। দুই বছর পর ফল আসবে বলে আশা করি। আমি মনে করি, প্রতিটি কৃষক তাদের খালি জায়গায় মাল্টা চাষ করে বেশ লাভবান হবেন।’

.

বিজয়নগর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম ভূইয়া জানান, দুই বছর আগে সাইট্রাস ভিলেজ প্রজেক্ট এর আওতায় কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বারি-১ জাতের মাল্টার চারাসহ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছিলো। সিমান্তবর্তী পাহাড়ী এলাকার মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় কৃষকদের মাল্টা চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো। তারা প্রথমবারের মতো হওয়ায় এ আবাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলো। তবে আমরা নিয়মিত তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি। এখন বাগানজুড়ে মাল্টা ফলায় কৃষকরা বেশ খুশি। তিনি আরও জানান, মাল্টার ফলন ভালো হয়েছে। মাল্টা খেতেও বেশ সুস্বাদু। আগামীতে মাল্টার আবাদ অনেক বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবু নাসের জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলার দুইশ ৪০টি বাগানে বারি-১ জাতের মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বিজয়নগরে একশ ৩০টি বাগানে মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে একশ টনেরও বেশি মাল্টা উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে কৃষি বিভাগ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares
  • 3
    Shares



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *