সংবাদ শিরোনাম
মঙ্গলবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
বুড়িচংয়ের নিখোঁজের ৯ মাস পর প্রবাসীর লাশ মিললো হাসপাতালেটমেটো চাষে স্বপ্ন দেখে গোমতী পাড়ের শহিদশাহাজাদা প্রেসিডেন্ট টিপু সেক্রেটারি- এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লার নতুন কমিটি গঠিতকুমিল্লা বা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ভারতের ভিসা অফিস খোলার অনুরোধলাকসামে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের মারধর ও বাড়িতে হামলা লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগকুমিল্লা ৮ – বরুড়ায় হ য ব র ল আওয়ামীলীগ-মহাজোটতাইজুল ঘূর্ণিতে কুপোকাত ওয়েস্ট ইন্ডিজমুরাদনগরে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে মনোনয়ন না দিতে শেখ হাসিনার প্রতি আহবানমুরাদনগরে বিএনপিতে চার ভাইয়ের মনোনয়ন সংগ্রহচান্দিনায় আ’লীগ -এলডিপি’র সংঘর্ষ: আহত ৭ গ্রেফতার ১একি করলেন কুমিল্লা-৯ এর এমপি তাজুল ইসলাম !কুমিল্লা-৫ : আ’লীগ নেতা ব্যারিস্টার সোহরাবকে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণাদক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কুমিল্লার যুবক নিহতকুমিল্লায় জাতীয় ছাত্র সমাজের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিতউদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে পিআইবির পরিচালক- নবীনদের প্রশিক্ষনের সুযোগ করে দিয়ে কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেকেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে -কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে শেষ শ্রদ্ধাএকাদশ সংসদ নির্বাচন : প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে নেয়ার নির্দেশবিকল্প ধারা থেকে বি.চৌধুরী ,মান্নান ও মাহীকে বহিষ্কারকেমন আছে একসঙ্গে জন্ম নেয়া বুড়িচংয়ের ৪ নবজাতককুমিল্লার যুবদল নেতাকে ঢাকায় কুপিয়ে হত্যা

টমেটো চাষে স্বপ্ন দেখে গোমতী পাড়ের শহিদ

শাহাজাদা এমরান ।।


ছয় ভাই ও দুই বোনের সংসারে বড় হয়েছে শহিদ। পুরো নাম শহিদুল ইসলাম। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য পাড়ি জমান কুয়েতে। একাধারে দীর্ঘ দেড় যুগ কুয়েতে থাকার পরেও নিজের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে পাননি তিনি। ফলে সামান্য কিছু টাকা অবলম্বন করে চলে আসেন দেশে । গোমতী পাড়ের আপন ঠিকানায়। কৃষক পরিবারের শহিদুলের অপর তিন ভাইও পেশাগত ভাবে কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়নের গোমতী নদীর তীরঘেষে জালুয়াপাড়া গ্রামে তার আবাস। পিতা আবদুস সাত্তারও ছিলেন একজন পেশাদার কৃষক। প্রবাস জীবন ছেড়ে আসা শহিদুল জানান, গোমতীর আইলে সবজি চাষ করেই জীবন চলে তার। এবার অন্যান্য সবজির সাথে চাষ করেছে টমেটোও ।জানিয়েছে, এই টমেটোই এবার তাকে আশা জাগিয়েছে। ঋণ শোধ করার স্বপ্ন দেখিয়েছে।
চীনের হোংহো নদীর মতই এক সময় বহমান গোমতী নদী ছিল কুমিল্লাবাসীর বিশেষ করে কুমিল্লা শহরবাসীর কাছে দু:খ। আজ আর সেই অবস্থা নেই। বাঁধ দিয়ে বিশাল ও ভয়ানক গোমতীকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মাঝে মাঝে হুমকী হয়ে দেখা দেয় এই গোমতী নদী। আর এই গোমতীর কোল ঘেষে গড়ে উঠা জমিতেই নানা সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে গোমতীর উভয় পাড়ের হাজারো পরিবার। কৃষক শহিদুল ইসলাম গোমতীর উপর নির্ভর করা সেই পরিবারগুলোরই একজন প্রতিনিধি।
শহিদুল এবার গোমতীর তীরবর্তী জমিতে ছয় গন্ডা জায়গায় টমেটো চাষ করেছেন। আরো অন্যান্য সবজির চাষও রয়েছে এখানে তার। আবহাওয়া এবার কিছুটা প্রতিকুল থাকায় এখানে সবজির চাষ তেমন একটা ভাল হয়নি বলে জানান তিনি। তবে এখন পর্যন্ত তার ৬ গন্ডা টমেটোর জমি মোটামোটি ভালই হয়েছে। বাহির থেকে দেখতেও জমিটিকে নাদুস নুদুস মনে হয়। ক্রমান্বয়ে ফুলে ফেপে বেড়ে উঠছে জমিটি। এখন তার সব চিন্তা এবং স্বপ্ন এই টমেটোর জমিটিকে কেন্দ্র করেই। চারা রোপন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত এই জমিতে তার খচর গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার মত। আবহাওয়া যদি আর কোন বৈরী আচরণ না করে তবে এই জমি থেকে তার টমেটো বিক্রি হতে পারে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা জানালেন শহিদুল।তবে তিনি বেশ চিন্তায় আাছেন এবারের টমেটো জমি নিয়ে। ইতিমধ্যে গাছে ছোট ছোট টমেটো ধরতে শুরু করেছে। দশ বারো দিনের মধ্যেই বাজারজাতকরা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সহিদ জানান, টমেটো গাছে পঁচা রোগ ধরতে শুরু করেছে। এই রোগের ভয়াভহ দিক হচেছ, এটি টমেটো গাছের একেবারে গোড়ায় থাকে। গাছের সারা দেহে কোন স্পট থাকে না। ফলে একেবারে এটা গোড়া থেকেই পচন ধরে যায়। তিনি দু:খ করে বলেন, এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমে জেলা বা উপজেলার কোন কৃষি কর্মকর্তাকে এলাকায় দেখিনি। অথচ তারা বলে বেড়ায়, তারা নাকি কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন মাঠে এসে।
টমেটো চাষী শহিদুল জানান, তিনি কুয়েত গিয়েছিলেন সংসারের স্বচ্ছলতা এনে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য। একটানা ১৮ বছর তিনি কুয়েত ছিলেন। স্বাবলম্বী হতে পারেননি। যে টাকা নিয়ে দেশে এসেছেন সেটা দিয়ে কোন ব্যবসা করাও সম্ভব না। তাই ঐ টাকা দিয়েই এই গোমতীর পাড় শুরু করেন সবজি চাষ। বেশ, এটাই ছিল তার এগিয়ে যাওয়ার মূল মন্ত্র।তিনি মৌসুম ভিত্তিক বিভিন্ন সবজির চাষ করে থাকেন। এতে তার সাফল্যও আসে হাতে নাতে। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই কণ্যা সন্তান নিয়ে তার সুখের সংসার। এই সংসারের একমাত্র আয়ও হয় এই সবজি চাষ থেকেই। তিনি টমেটো ছাড়াও লাউ, কইডা, কপিসহ নানা সবজি ফলান।
শহিদুলের পার্শ্ববর্তী টমেটো জমিটি হলো তার ভাই খোরশেদ আলমের। এটি অনেক বড় জমি।টমেটো শ্রমিক তোতা মিয়া জানান, এটি প্রায় ১৪ গন্ডা জমি। পুরোটাই টমেটো চাষ করা হয়েছে। সবুজে সবুজে সমারোহ গোটা চৌদ্দ গন্ডা বিশিষ্ট জমিটি। জমিতে কাজ করা দুই শ্রমিকের প্রত্যাশা এই জমিটি এবার টমেটো চাষে বাম্পার ফলন হবে।আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই টমেটো বাজারজাত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, কুমিল্লার গোমতী নদীর এই পাড় গুলোতে বেশ কয়েক জাতের টমেটোর উৎপাদন হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সিলভার টমেটো, ষ্টার টমেটো, সিলভার স্টার টমেটো, মাউনটেন টমেটো, ওয়াটকুইন টমেটো, ফ্রেস টমেটো এবং ৭৭৭ টমেটো। তবে এখানে সবচেয়ে ভাল ফলন হয় সিলভার সুনোস্টার টমেটো।
এখানকার চাষীরা জানান গোমতী পাড়ের সবজি কুমিল্লা নগরীর চাহিদা মিটিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশেপাশের জেলা গুলোতেও সরবরাহ হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার পাইকাররা এখানে এসে সবজি নিয়ে যান।
সরকার যদি কৃষকদের সবজির উপর সহজ শর্তে কিংবা মৌসুমী ভিত্ত্কি বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতো তাহলে তারা সবজি উৎপাদনে আরো এগিয়ে যেতেন বলে জানান কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ২০০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২১ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৫০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। আর বাকী জমিতে আবাদ চলমান রয়েছে। তবে অফিসের একটি সূত্র জানায় এবার জেলায় সর্বোচ্চ ১,৫০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হতে পারে। জেলার টমেটো আবাদ করা উল্লেখযোগ্য উপজেলা গুলোর মধ্যে রয়েছে, হোমনা, মুরাদনগর, তিতাস, মেঘনা, চান্দিনা, বুড়িচং, আদর্শসদরসহ আরো কয়েকটি উপজেলা ।
টমেটো গাছ গুলো গাছ পঁচা রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কৃষকদের পরামর্শ দানে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নাগাল খুব একটা পাচেছন না কৃষকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী বলেন, টমেটোর গাছের গোড়ায় যে রোগটির কথা বলছেন সেটি হচ্ছে বীজ বাহিত রোগ। সাধারণত: বীজ যদি ভাল না হয় তাহলে এই সংক্রমনব্যাধিটি হয়ে থাকে।এটি হচেছ মানব দেহের ক্যান্সারের মত। এটি নিরাময় যোগ্য ব্যধি নয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হচেছ, যে গাছটিতে এ রোগ আক্রান্ত হয় সেটিকে উপড়ে ফেলে দেওয়া। যাতে নতুন কোন গাছ আক্রমনের শিকার না হয়। আর মাঠ কর্মীদের না পাওার বিষয়টি তিনি বলেন, আমি এখনি বলে দিচিছ যাতে তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *