বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং | ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শাহবাজপুর সেতুতে ভাঙন: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ভোগপিতা খুন, পুত্র আটক২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎবাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পারে স্টোইনিস: ল্যাঙ্গারশিখর ধাওয়ানের বিশ্বকাপ শেষ২৪ ঘণ্টায় ২ বিলিয়ন টন বরফ গলে গ্রিনল্যান্ডেরতিনবার গোল করেও গোলশূন্য ড্র ব্রাজিলেরনিজেদের সেরা একাদশ খুঁজে হয়রান অস্ট্রেলিয়াআফগানিস্তানকে ‘না’ করে দিলো ভারতীয় বোর্ডপ্রিপেইড মিটার নিয়ে ভোগান্তির যত অভিযোগদেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান‘আগে কাগজে বইল্যা ভোট দিছি, অহন টিপ দিলে হইয়া যায়’স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর গায়ে গরম তেল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগকুমিল্লায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজির দুই যাত্রী নিহতকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন সাহার দূর্নীতির আমলনামা # মসজিদের কোটি টাকার কোন হিসেব নেই # বেশি টাকা লোপাট হয়েছে কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে # ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে উত্তোলন করা হয়েছে ২৪ লাখ টাকা # অধিভুক্তি ফি খাতে ১৭ লাখ টাকা বেশি উত্তোলন করা হয়েছে # ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে পরিবহন খাতেও # ছাত্র সংসদ না থাকলেও টাকা উত্তোলন ও ব্যয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত # ল্যাবেরটরি ফান্ডের ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলন হয় অফিস সহায়ক দ্বারা # ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি হতে লুট হয় ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা # কলেজ উন্নয়ন খাতের নামে ৩৫ লাখ টাকা লোপাট # প্রতিটি সেক্টরেই রয়েছে দূর্নীতি ও অনিয়মশরীর চর্চার ভিডিও দিয়ে চমকে দিলেন সালমান খানক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ভিডিও শেয়ার করায় ২১ মাসের কারাদণ্ডছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মরগ্যানজাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারিঅস্ট্রেলিয়া ম্যাচটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ : রাজ্জাক

চৌদ্দগ্রামে বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে তিন লক্ষাধিক টাকা উধাও!

# অভিযোগের তীর প্রধান শিক্ষকের দিকে
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি ।।


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামে অবস্থিত হাজী মনির উদ্দিন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে তিন বছরে তিন লক্ষাধিক টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলমের দিকেই অভিযোগের তীর। এনিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে করপাটি গ্রামের সমাজপতি মরহুম আলহাজ্ব মনির উদ্দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় টিন-শেডের ছোট্ট দু’টি ঘর তুলে তিনজন শিক্ষক ও প্রায় একশত শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ফলাফলও ভালো। ২০১৫ সালের পর থেকেই বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সার্বিক কার্যক্রমের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পড়ালেখার মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে অভিভাবকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আর আগের মত ভালো ফলাফল করে না। পড়ালেখার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সচেতন অভিভাবকরা। অনেকেই সন্তানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠান থেকে তার সন্তানকে অন্যত্র ভর্তি করাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশেও গরমিলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অতীতে প্রতিষ্ঠানটি নানা সঙ্কটে পড়লেও প্রধান শিক্ষক ও যোগ্য ম্যানেজিং কমিটির নেতৃত্বে তা মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। এবার যেন আরো বড় সঙ্কটেই পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরী সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব উপস্থাপন করেন। যাতে ৩ লক্ষাধিক টাকা খরচের কোনো সঠিক হিসাব দেখানো হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ আলম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল খায়েরসহ অন্যান্যের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাগুলো উত্তোলন করে ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়েছেন। যা কোনো ভাবেই নীতিসিদ্ধ কাজ নয়। বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকা কোথায় গেছে?-এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীতে তিনি উধাওকৃত টাকা অ্যাকাউন্টে জমা রাখার আশ্বাস দিলে ম্যানেজিং কমিটির সভাটি স্থগিত রেখে পরবর্তী সভায় হিসাব-নিকাশ পূণরায় দেখার কথা হয়। অদ্যাবদি ওই টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া হয়নি এবং ম্যানেজিং কমিটির কোনো সভাও ডাকা হয়নি। আয় ব্যয়ের হিসাবে তিন লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার পাঁচশত ঊনচল্লিশ টাকা একাউন্টে থাকার কথা থাকলেও জমা দেখানো হয়েছে মাত্র তিরাশি হাজার নয়শত আট টাকা। কিন্তু তদন্ত করে দেখা যায়, বিদ্যালয় অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম পরিমাণের টাকা ছাড়া কোনো টাকা জমা নেই। ম্যানেজিং কমিটির সভার প্রতিবেদনেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা তসরুপের লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অভিযোগে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের কোনো রেজিষ্ট্রার, ভাউচার পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেছে তা ব্যবহারেও সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি এবং অধিকাংশ ভাউচার খরচের সময়ের পরবর্তী তারিখে দেখানো হয়েছে। কখনো কখনো আবার একই ভাউচার একাধিকবারও দেখানো হয়েছে হিসাবে। শিক্ষকদের বেসরকারী বেতন-ভাতাদিও বাকী রেখে হিসেবে খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়াও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক মো.শাহ্ আলম এর বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের কোন টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করিনি। তিন বছরের হিসাব একসাথে করার কারণে হিসার সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে সর্বশেষ ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে আমি হিসাব পূণ নিরীক্ষণের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছি, এবং বৈঠকে সিদ্ধান্তটি গৃহিতও হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের জানান, কয়েক বছরের হিসাব একসাথে করার কারণে হিসাবে কিছুটা গরমিল পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা হিসাবটি পূণরায় দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পূণরায় হিসাব দেখার আগ পর্যন্ত আমি কোন মন্তব্য করতে পারব না। এদিকে ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজী মনির উদ্দীন এর কনিষ্ঠ পুত্র কাজী মহি উদ্দীন মুকুল বিদ্যালয়ের টাকা তসরুফের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যার অনুলিপি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজী মহি উদ্দীন মুকুল জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে টাকা গরমিলের যে তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে সে টাকা গুলো প্রধান শিক্ষক কয়েকবার সময় নিয়েও বিদ্যালয়ের ব্যংক অ্যাকাউন্টে জমা দেননি। বরং তিনি গত ১৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। অডিট কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত রেজুলেশনটিও গায়েব করে ফেলেন তিনি। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশ পূণরায় অডিট করার জন্য আবেদন করেছি। এখন তিনিই সিদ্ধান্ত নিবেন।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশক্রমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধিনস্থ একটি অডিট টিম বিদ্যালয়ের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ে এসেছিল। এদিকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্যও নাকি প্রথমে ছাত্রীদের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সচেতন অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে প্রতিবাদ করলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি প্রকাশিত হলে চাপের মুখে পড়ে পরবর্তীতে ছাত্রীদেরকে তিন হাজার টাকা করে ফেরৎ দেওয়া হয়।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজহারুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *