রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
ঢাকায় ৮ তলার ওপর ভবন অনুমোদন না দেয়ার পরিকল্পনামাইগ্রেনের যন্ত্রণা কমায় গাঁজা : গবেষণাজন্ম থেকেই ব্যাটম্যান!পাকিস্তানে মসজিদ থেকে লাখ টাকা দামের জুতা চুরি!ক্ষুধার জ্বালায় মাটি খেত শ্রীদেবীর ৬ সন্তান, এগিয়ে এল সরকারসুদানের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৩উষ্ণতম বছরের তালিকায় এক নম্বর ২০১৯চার্জে রেখে মোবাইল ব্যবহারের সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুশক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলিবিশ্বের সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত উৎসব নেপালের গাধিমাইভারত হিন্দু রাষ্ট্র!অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলজলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ৭ম বাংলাদেশবিয়ের আগে যৌন মিলন, বেত্রাঘাতে জ্ঞান হারালেন যুবকভারতে অনলাইনে ওষুধ বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশদিল্লিতে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৩৫মহাসাগরে বিপদ : দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন বাড়ছে তাপমাত্রাকুমিল্লায় বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ৫ সন্তানের জননী নিহতআজ কুমিল্লা মুক্ত দিবসশাসন শোষণ নীপিড়ন থেকে মুক্তি চায় ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা

জিয়নের স্বীকারোক্তি স্টাম্প দিয়ে আবরারের হাঁটুতে পেটাই তোহা-অমিত রিমান্ডে : মিজানুর কারাগারে, আরও দু’জন গ্রেফতার * বাধা দেয়ার সুযোগ ছিল না, পলিটিক্যাল প্রটোকল ভাঙলে আমাদেরই উল্টো মারত : তোহা * সিনিয়র ব্যাচ অর্ডার দিলে জুনিয়ররা তা করতে বাধ্য : অমিত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা (স্থায়ী বহিষ্কৃত) মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সে আদালতকে বলেছে, ‘আমি আবরারকে কিল ঘুষি মারার পাশাপাশি স্টাম্প দিয়েও হাঁটুতে পিটিয়েছি।’ এর আগে বৃহস্পতিবার আরেক আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এ নিয়ে মামলার দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিল। এই দু’জনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া শুক্রবার মামলার দুই আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এদিন মামলার অপর দুই আসামি মাজেদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ নিয়ে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হল। অসুস্থ থাকায় আরেক আসামি মিজানুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জিয়নের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। জিয়ন আদালতকে জানিয়েছেন, বুয়েট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিনের নির্দেশে আবরারকে রাত ৮টার দিকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়।

এ সময় ওই কক্ষে ইফতি ও তানভীর ছাড়া আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিবির শনাক্ত করা। প্রথম দিকে আবরার নামগুলো বলছিল না। এরপর আবরারের রুম থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও তার ব্যবহার করা ল্যাপটপ নিয়ে আসা হয়।

শিবির কারা করে তা জানতে তারা চাপ সৃষ্টি করে। এরপরও আবরার মুখ খোলেনি। এক পর্যায়ে সামসুল আরেফিন ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসে। মেহেদি হাসান আর আমি আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করি। পরে ইফতি স্টাম্প দিয়ে মারধর শুরু করে।

সে অনেকগুলো বাড়ি মারে। এ সময় অনিক সরকার স্টাম্প দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটায়। পায়ের পাতা, হাঁটু ও হাতেও পেটায়। আমিও কিছু কিল ঘুষি মারি। পরে স্টাম্প দিয়ে হাঁটুতে পেটাই। এরপর অন্যরা কয়েক ধাপে ভেতরে এসে মারধর করে।

এক পর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও মেঝেতে বমি করে দেয়। তখন একজন বলে ওঠে, ও ভান করছে। এ সময় আমি স্কিপিংয়ের রশি দিয়ে তার পিঠে মারতে থাকি। ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল মোবাইল ফোনে বিষয়টি অনিককে জানায়।

অনিক আবরারকে গোসল করিয়ে হাতে-পায়ে মলম লাগিয়ে দিতে বলে। এ সময় আবরার দ্বিতীয়বার বমি করে। তখন আবরারের কক্ষ থেকে তার কাপড়-চোপড় নিয়ে আসে অন্যজন। আবরারকে ওই কক্ষ থেকে বের করে পাশের ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেয়া হয়।

ওই কক্ষেও আবরার বমি করে। মেহেদী তখন আবরারকে পুলিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলে। এরপর জেমি, মোয়াজ ও শামীমসহ ৩-৪ জন তাকে কোলে করে সিঁড়ি ঘরের পাশে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেয়া হয়। চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ৮ অক্টোবর এ আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডের তৃতীয় দিন এ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বুয়েট ছাত্রলীগের উপসমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়। ইফতি বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

এদিকে নিহত আবরারের রুমমেট আসামি মিজানুর রহমান অসুস্থ থাকায় তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। প্রয়োজনে পরে তার রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে দুই আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মদ তোহার ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আবেদনে বলা হয়, ওই দুই আসামি ও তাদের সহযোগী আসামিরা ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থী আবরারকে শেরেবাংলা হলের তার রুম থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যায়।

৭ অক্টোবর রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমের ভেতর নিয়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্টাম্প ও লাঠি-সোটা এবং রশি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড মারধর করে।

এতে ঘটনাস্থলেই আবরার মারা যান। মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে আবরারের মৃতদেহ ফেলে রাখে। পরে কিছু ছাত্র আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার তদন্তকালে সাক্ষ্য-প্রমাণে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আদালতে আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দুই (অমিত ও তোহা) আসামির নাম প্রকাশ করেছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

আসামিরা জামিন পেলে বাদী ও সাক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। এজন্য আসামিদের জামিন নাকচের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিন দুপুর ২টা ৫২ মিনিটের দিকে আসামি অমিত ও তোহাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাদের এজলাসের ডকে (আসামি রাখার নির্ধারিত স্থান) রাখা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এর এক ফাঁকে এ দুই আসামির সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহা যুগান্তরকে বলে, আবরারকে মারতে বারণ করা কিংবা বাধা দেয়ার সুযোগ ছিল না।

পলিটিক্যাল প্রটোকল ভাঙলে (না মানলে) আমাদেরই উল্টো মারত। আবরারকে শিবির সন্দেহে ধরে মারধর করা হয়। আসামি অমিত সাহা বলেন, বুয়েটের ট্র্যাডিশনই এটা যে, অর্ডার ওপর (সিনিয়র) থেকে আসে।

সিনিয়র ব্যাচ অর্ডার দিলে জুনিয়র ব্যাচ তা করতে বাধ্য। এটা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এজলাসে বিচারক আসলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, আসামি তোহা ২০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। যা ছিল টর্চার সেল। আর উপরের নির্দেশে আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় তোহা।

অপরদিকে তোহার আইনজীবী আইয়ুব হোসেন আসামির রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি তোহা সেদিন দেখছিলেন যে কি হচ্ছিল? আর সেটা দেখতে গিয়ে ভিডিও ফুটেজে তার ছবি আসে।

তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা যেতে পারে। এছাড়া অপর আসামি অমিতের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তোহার জামিন নাকচ করে ওই দুই আসামির প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা মো. বরকতউল্লাহ বাদী হয়ে ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও আরও অজ্ঞাতনামাদেরও আসামি করা হয়।

এ মামলায় ৯ অক্টোবর তিন আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরা হলেন- দিনাজপুরের মো. মাহাতাব আলীর ছেলে মো. মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), জয়পুরহাটের আতিকুল হোসেনের ছেলে আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও সিরাজগঞ্জের আবদুল হামিদের ছেলে সামছুল আরেফিন রাফাদ।

এরও আগে এ মামলায় ৮ অক্টোবর বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) সহ ১০ আসামির ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এরা হলো- মেহেদী হাসান রাসেল (বুয়েটের সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক) মো. অনিক সরকার, (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ ও তথ্য-গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক) মো. মেহেদী হাসান রবিন (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ ও সাংগঠনিক সম্পাদক), ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিকেল ইঞ্জি., ১৬তম ব্যাচ ও উপসমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক), মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জি., ১৫তম ব্যাচ ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক) মো. মোজাহিদুল রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগ সদস্য), খোন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী), মুনতাসির আল জেমি (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) ও ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল ইঞ্জি. ১৫তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক)। এদের মধ্যে ১০ অক্টোবর ইফতি ও শুক্রবার (১১ অক্টোবর) জিয়ন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বাকিরা রিমান্ডে আছে।

আরও দুই আসামি গ্রেফতার : বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে সিলেট থেকে মাজেদুল এবং বিকালে সাতক্ষীরা থেকে শামিম বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া শাখার পরিচালক পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *