সংবাদ শিরোনাম
সোমবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
পাঠকের চিঠি… প্রসঙ্গ ভিক্টোরিয়া কলেজ নজরুল হলের দুরাবস্থাবাংলাদেশ ভারতের চেয়ে কোথায় কোথায় এগিয়ে দেখিয়ে দিল হিন্দুস্তান টাইমসচৌদ্দগ্রামে মানব পাচারকারী চক্রের ৩জন সদস্য গ্রেফতার ১জন নারীসহ ৩ জন রোহিঙ্গা উদ্ধার২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে জরিমানানোয়াখালীতে আগুনে পুড়ল তিন বসতঘরখাবার দিতে দেরি হওয়ায় ভেঙে গেল শাবনুরের বিয়েকুবিতে নিয়মিতই কাটা হচ্ছে পাহাড়, না দেখার ভান প্রশাসনেরকুমিল্লায় অবৈধ সেগুন কাঠ বোঝাই কাভার্ডভ্যান রেখে পালিয়েছে চালকছাত্র-ছাত্রীদের মান সম্পন্ন ও সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে -সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল ভ‚ঁইয়াভালবাসা দিবসে বিয়ে, বৌÑভাতের দিন মৃত্যুভয়ঙ্কর ঝড়-বৃষ্টির পর অপেক্ষা করছে তীব্র গরমউটের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল বানাচ্ছে সৌদি আরবকাবা শরিফ ও মসজিদে নববিতে সেলফি তোলা নিষিদ্নোয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ১কুমিল্লাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী মাহমুদুল হাসান জয়কুমিল্লায় দুধ বিক্রেতার হাতে গৃহবধূ ধর্ষণবার্ডে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় আফ্রিকা ও এশিয়ার ১২ দেশের অংশগ্রহণকুমিল্লা সিটি ক্লাবে অভিযান, বিপুল পরিমাণের মাদকসহ আটক ১কুমিল্লায় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে দারিদ্র বিমোচনে রিকশা ভ্যান বিতরণ

আখের লালি তৈরিতে মাতোয়ারা বিষ্ণপুর

ব্রাহ্মনবাড়িয়া প্রতিনিধি।। ঋতু পরিবর্তনের পালায় শুরু হয়েছে শীতকাল। সেই সঙ্গে গ্রাম বাংলায় শুরু হয়েছে পিঠা-পুলির উৎসব। আর শুরু হয়েছে আখ থেকে লালি আর গুড় তৈরির কাজও। লালি আর গুড় হলো এক ধরনের মুখরোচক খাবার, যা শীতকালে চাউলের গুড়া দিয়ে তৈরি যেকোনো পিঠার সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ছায়াঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক শোভায় ভরপুর বিষ্ণপুর গ্রামে আখের লালি তৈরিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিষ্ণপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার লালি তৈরিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। একদিকে কৃষকরা জমি থেকে আখ কেটে জমা করছেন, অন্যদিকে আখ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। সেই সঙ্গে সংগ্রহ করা রসগুলো জাল দিয়ে তৈরি করছেন লালি। আবার কেউ কেউ গুড়ও তৈরি করছেন। তবে স্থানীয়রা বলেন, বিষ্ণপুর গ্রামে লালি-ই সবচেয়ে বেশি তৈরি করা হয়।

জানা গেছে, এলাকার বেশীরভাগ অনাবাদি জমিতে আখ চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষের পরিধি।  এলাকার স্থানীয় কৃষকরা জমি থেকে পরিপুষ্ট আখ সংগ্রহ করছেন। সংগ্রহ করা আখগুলো মেশিন বা লোহার ঘানির মাধ্যমে চেপে তৈরি করছেন রস। এরপর মাটির চুলায় বড় ড্রামের মাধ্যমে রসগুলোকে জাল দিয়ে তৈরি করছেন লালি। লালি তৈরি হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে তা পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে রাখছেন। আবার কেউ কেউ গুড়ও তৈরি করছেন। পরিবারের সদস্যরা এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। দিন রাত চলছে তাদের কাজ। এরইমধ্যে এ এলাকার লালি ও গুড় জেলায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

আখ থেকে রস নেয়া হচ্ছে

আখ থেকে রস নেয়া হচ্ছে

কৃষক মো. সাগর মিয়া বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে আখ চাষ করছি। আখের রস থেকে লালি তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভালো আয়ও করা যায়। সারাদেশেই এর চাহিদা রয়েছে।

কারিগর মো. জুয়লে মিয়া বলেন, জমির মালিক থেকে আখ কিনে লোহার ঘানিতে রাখা হয়। ঘানির সঙ্গে বাঁশ আর লাঠি দিয়ে মহিষকে দড়ির সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়। লাঠি দিয়ে মহিষকে আস্তে আস্তে আঘাত করলে সে চারদিকে অনবরত ঘুরতে থাকে। এতে লোহার ঘানি থেকে আখের রস বের হয়। কিছুক্ষণ পর রসগুলো জমিয়ে মাটির চুলার ওপর পাতলা কড়াইতে ঢেলে দেয়া হয়। আগুন দিয়ে জ্বাল দেয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা উঠিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে কলসিতে রাখা হয় বিক্রির জন্য।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে প্রতি লিটার ৮০ টাকা করে কিনে নিয়ে যান। শীত মৌসুমে একটানা তিন মাস লালি তৈরি করা হয়। আমাদরে বাপ-দাদা এ কাজ করেছে। তাই আমরাও করছি।

মোহাম্মদ আলী বলনে, এটা আমাদের পূর্বের পেশা। এ এলাকার লালির গুণগত মান খুবই ভালো। সরকার যদি আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করতো তাহলে ভালো হতো। এ কাজে অল্প পুঁজিতে ভাল ব্যবসা করা সম্ভব।

এছাড়া ভ্রাম্যমাণ লালি বিক্রেতা আব্দুল খালেক, মুরাদ  বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে এখান থেকে লালি কিনে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করি। এখানকার লালির বিভিন্ন এলাকায় ভালো কদর রয়েছে।

বিজয়নগরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, লালি কারিগরদের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পেলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *