সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
পানির পাইপে আটকা পড়ে লাশ হলেন যুবকছাদে বসে মোবাইলে গেম খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়ালেন যুবকস্বপ্ন বন্দি পানিতেশিবগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ভেজাল ওষুধসহ গ্রেফতার ৯একটি মোরগের দাম ২০ হাজার টাকা!অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জানাজা সম্পন্নঅ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মানে আজ সুপ্রিমকোর্ট বসছেন নাবেহাল কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক যাত্রী-চালকদের মন খারাপের যাত্রাবাগমারা বাজারে স্থাপনা উচ্ছেদ আতঙ্কে ব্যবসায়ীরাকুমেক হাসপাতাল দীর্ঘ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে চিকিৎসক ও রোগীবুড়িচংয়ে নিখোঁজের দুই মাসে ও উদ্ধার হয় ডলিশরণার্থীর খোঁজে – মৃত ভেবে হানাদার বাহিনী আমাকে ফেলে চলে যায়-আলী আহাম্মদ চৌধুরীঅ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা গেছেনব্রাক্ষনপাড়ায় প্রেমের প্রস্তাব না মানায় তরুনীর দেহ ঝলসে দিল বখাটেরাকুমিল্লায় ৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবিব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালের বাজার উর্ধ্বমূখীআশুগঞ্জে ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর হাত-পা বাধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারড. সাখাওয়াত রাজীবের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনবুড়িচংয়ে গরু চড়াতে গিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে কৃষকের মৃত্যুবিশ্ব পর্যটন দিবস আজ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমিল্লার পর্যটন শিল্প

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ: রাজধানীতে দুই হাসপাতাল প্রস্তুত সব বন্দরে স্ক্যানার বসানো হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী * চীন ভ্রমণে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক কাল

চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে যাতে তার চিকিৎসায় কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য ঢাকায় দুটি হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের পাশাপাশি অতিরিক্ত হ্যান্ড স্ক্যানার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সকালে সভা করে ওইদিনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

রোববার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ভাইরাসটি সম্পর্কে চীন প্রতিদিন সর্বশেষ তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেই তথ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সরবরাহ করে।

এসব তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও করণীয় নির্ধারণে স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণে প্রতিদিন সকালে সভা করা হচ্ছে। অধ্যাপক সানিয়া জানান, আমাদের দেশে এ ভাইরাস আসার ঝুঁকি রয়েছে।

তাই আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পেলে চিকিৎসায় কোনো সমস্যা না হয়। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানারের একটি নষ্ট হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত একাধিক হ্যান্ড স্ক্যানার পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্যানার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু সমুদ্র ও স্থলবন্দরে এখনও স্ক্যানার বসানো হয়নি। তিনি বলেন, ভারতে আক্রান্তের বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হলে স্থলবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এ ভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি। এ ক্ষেত্রে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দেন তিনি।

এ ভাইরাস কোন প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভাইরাসটি বাদুড় থেকে সাপ, পরে সাপ থেকে কোনো প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে।

তিনি বলেন, চীন থেকে আসা প্রায় ১৮০০ ব্যক্তিকে স্ক্যান করা হয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ হট নম্বরে ফোন করেও জ্বরের তথ্য জানান। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দু’জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তারা মূলত কমন কোল্ড বা শীতকালীন জ্বরে ভুগছেন। তিনি বলেন, এ জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর তিন থেকে পাঁচ দিন সুপ্ত থাকে। এরপর জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়া হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হতে পারে। তাই ফিরে আসা মানুষদের ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর এলে অবশ্যই আইইডিসিআরএ যোগাযোগ করতে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক গভীর। বাংলাদেশের বহুসংখ্যক মানুষ ব্যবসায়িক কাজে চীনে যান। কোনোভাবে ভাইরাসটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়লে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য আগামীকাল মঙ্গলবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে চীনে ও চীন থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ভ্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশের জরুরি সতর্কতা গ্রহণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে কোনোরকম আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে। সভায় করোনাভাইরাসের ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা হয়। রোগটি বর্তমানে কতটি দেশে পৌঁছেছে এবং কতজন আক্রান্ত ও মারা গেছে, এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোঁজ নেন।

দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর, নৌবন্দর, স্থলবন্দরগুলোয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবগত করেন। এ প্রসঙ্গে সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্য সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় জরুরি সভা করার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে সহমত ব্যক্ত করে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের নির্দেশ দেন।

সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা না-ও পড়তে পারে। যেহেতু চীনে বহুসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে, তারা সবাই এখন ফিরতে গিয়ে এই ভাইরাসের জীবাণু বহন করে দেশে নিয়ে এলে তা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কাজেই সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে চীনে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থগিতের উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

এদিকে সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস রোধে নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস রোধে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। যে কোনো বন্দর দিয়ে যাত্রী দেশে প্রবেশ করলে তাকে স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে সব জানা যাবে। রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাস রোধে আমরা জনসচেতনতার ব্যবস্থা করেছি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও ডেকেছি। যারা বিমানে করে আসবেন, তাদের একটা ফরম দেয়া হবে। একটি কার্ডও সঙ্গে নিয়ে যাবে। পরবর্তীকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে তাকে শনাক্ত করা যায়।

৫শ’ বাংলাদেশিকে ফেরাতে উদ্যোগ : এদিকে চীনের উহান শহরে আটকা পড়া ৫শ’ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকার তরফে বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বাস ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উহানে আটকা বাংলাদেশিদের উদ্ধারে সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন একাধিক শিক্ষার্থী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর করা এক আবেদনে বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাসের কারও সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে দ্রুত তাদের উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন উহানের হুবাই ইউনিভার্সিটির অ্যাগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ সৌরভ।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *