মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিকে নির্ভয়ে দাফন-কাফন করুনদেবিদ্বারে করোনা সন্দেহে এক রোগি ভর্তি :অন্যান্য ভর্তি রোগিরা হাসপাতাল থেকে পলায়ন; চিকিৎসক নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক;কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় পুলিশের নিত্য পণ্যের ভ্রাম্যমান দোকানসদর দক্ষিনের বিজয়পুরে জ্বরে আক্রান্ত কৃষি শ্রমিকের মৃত্যুকরোনায় কুমিল্লার নিত্যপণ্যের বাজারের হালচালমুসল্লিদের নামাজ ঘরে পড়ার নির্দেশওষুধের দোকান ছাড়া সন্ধ্যার পর সব বন্ধ রাখার নির্দেশকুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুরে এক শ্রমিকের মৃত্যুসব রোগের এক চিকিৎসকমারা গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিপি এস এম ইউসুফ‘ঘরে থাকুন, পণ্য পৌঁছে দেবে পুলিশ’কুমিল্লা কারগারের ভিতর ৫২২পিছ ইয়াবাসহ ধরা খেল সহকারী প্রধান কারারক্ষী শাহিনকরোনা আক্রান্ত সন্দেহে কুমিল্লা নগরীতে বাড়ি লকডাউন!কুমিল্লায় আরও ছয়জনের নমুনা সংগ্রহদেশে আরো ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত, মোট ১১৭নাঙ্গলকোটে বজ্রপাত কেড়ে নিল কিশোরের প্রাণদেশে করোনায় আরো ৪ জনের মৃত্যু, মোট ১৩যে ছয় বিভাগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাআবদুল জলিল সরকার ট্রাস্টের উদ্যোগে পিপিই বিতরণকুমিল­ার দুই বাড়ি লকডাউন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখেঁর রস থেকে তৈরী হয় সুস্বাদু লালি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: আখের রস দিয়ে প্রক্রিয়া করে তৈরী করা সুস্বাদু লালি। শীতকালে চালের গুড়া দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিঠার সঙ্গে মিশিয়ে এটি খাওয়া যায়। লালি গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার। শীতকালে বছরের এসময় লালি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার। শীতকালে প্রায় একটানা আড়াই/তিন মাস ধরে বাড়ির পাশে খালি জায়গায় লোহার ঘানি বসিয়ে মহিষ চড়িয়ে আখের রস করে তা থেকে তৈরি করা হচ্ছে শত শত লিটার সুস্বাদু লালি। এই লালি তৈরি করে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এলাকার কয়েকটি পরিবার এখনও ওই আদি পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লালি তৈরির মৌসুমে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন একেক পরিবারের নারী-পুরুষেরা। সেই কাক ডাকা ভোর থেকে তাদের কাজ শুরু হয় চলে রাত অবদি। পরিবারের সব সদস্যরা কাজ ভাগ করে নিয়ে সহযোগিতা করছেন। কেউ লোহার ঘানি টানছেন। কেউ চুলায় জ্বাল দিচ্ছেন। পরে লালি তৈরি হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে তা পাতলা কাপড় দিয়ে ছেকে রাখছেন।
কথা হয় সোহেল ও রুবেল নামক বেশ কয়েকজন লালি তৈরির কারিগরের সাথে তারা বলেন, ভোর বেলা আমাদের কেনা আখ ক্ষেত থেকে নিয়ে আসি। তারপর আখগুলো লোহার ঘানিতে ঢুকানো হয়। ঘানির সঙ্গে বাস আর লাঠি দিয়ে মহিষকে দড়ির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়। মহিষের চোখে প্লাস্টিকের চমশা পড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে সে পাশে দেখতে না পায়। পরে লাঠি দিয়ে মহিষকে আস্তে আস্তে আঘাত করলে সে চারদিকে অনবরত ঘুরতে থাকে। এতে লোহার ঘানি থেকে আখের রস বের হতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পর রসগুলো জমিয়ে মাটির চুলার উপর পাতের কড়াইতে ঢেলে দেওয়া হয়। আগুনে জ্বালিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা উঠিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে ছেকে কলসিতে রাখা হয় বিক্রির জন্য। বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা এসে আমাদের কাছ থেকে প্রতি লিটার লালি ৮০ থেকে ১০০ টাকা লিটার দামে কিনে যায়। বছরের শীত মৌসুমে একটানা তিন মাস প্রতিনিয়ত লালি তৈরি করি। এতে খরচ বাদ দিয়ে আমাদের মুনাফা ভালোই হয়।
আরেক লালির কারিগর মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদাদের পেশা। যুগ যুগ ধরে তারা এ কাজ করে গেছেন তাই আমরা করছি। এ লালির গুণগত মান অনেক ভাল। সরকার যদি আমাদের আর্থিকভাবে একটু সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা এ কাজ করেই স্বাবলম্বী হতে পারতাম। এ কাজে অল্প পুঁজিতে ভাল ব্যবসা করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলার উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, এই এলাকার আখ থেকে লালির স্বাদ অন্যরকম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাইকার এসে এখানকার লালি কিনে নিয়ে যায়। লালি কারিগরদের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পেলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *