সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিকে নির্ভয়ে দাফন-কাফন করুনদেবিদ্বারে করোনা সন্দেহে এক রোগি ভর্তি :অন্যান্য ভর্তি রোগিরা হাসপাতাল থেকে পলায়ন; চিকিৎসক নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক;কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় পুলিশের নিত্য পণ্যের ভ্রাম্যমান দোকানসদর দক্ষিনের বিজয়পুরে জ্বরে আক্রান্ত কৃষি শ্রমিকের মৃত্যুকরোনায় কুমিল্লার নিত্যপণ্যের বাজারের হালচালমুসল্লিদের নামাজ ঘরে পড়ার নির্দেশওষুধের দোকান ছাড়া সন্ধ্যার পর সব বন্ধ রাখার নির্দেশকুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুরে এক শ্রমিকের মৃত্যুসব রোগের এক চিকিৎসকমারা গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিপি এস এম ইউসুফ‘ঘরে থাকুন, পণ্য পৌঁছে দেবে পুলিশ’কুমিল্লা কারগারের ভিতর ৫২২পিছ ইয়াবাসহ ধরা খেল সহকারী প্রধান কারারক্ষী শাহিনকরোনা আক্রান্ত সন্দেহে কুমিল্লা নগরীতে বাড়ি লকডাউন!কুমিল্লায় আরও ছয়জনের নমুনা সংগ্রহদেশে আরো ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত, মোট ১১৭নাঙ্গলকোটে বজ্রপাত কেড়ে নিল কিশোরের প্রাণদেশে করোনায় আরো ৪ জনের মৃত্যু, মোট ১৩যে ছয় বিভাগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাআবদুল জলিল সরকার ট্রাস্টের উদ্যোগে পিপিই বিতরণকুমিল­ার দুই বাড়ি লকডাউন

কতিপয় জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসিতে নকলের মহামারী!

স্টাফ রিপোর্টার।। কতিপয় জনপ্রতিনিধির পাসের হার বাড়ানোর ইচ্ছায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে নকলের মহামারী দেখা দিয়েছে! গত ৩ ফেব্রæয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসুদপায় অবলম্বনের দায়ে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলায় বহিষ্কার হয়েছে ২৬জন শিক্ষার্থী। জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলাতেই বহিষ্কার হয়েছে ২৩ জন। চাঁদপুরে ২, নোয়াখালীতে ৩ ও ল²ীপুরে ৪ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। নকলে বাধা দিতে গিয়ে কোথাও কোথাও হামলার শিকার হয়েছে শিক্ষকরা। আবার অনেক জায়গায় নকলের সরবরাহ করছে কিছু অসাধু শিক্ষক।
সূত্র জানায়,কেন্দ্রের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় নির্বাহী কর্মকর্তা বাছাইকৃত দুর্বল ট্যাগ অফিসার (সংযুক্ত কর্মকর্তা) দিয়ে পরীক্ষা চালাতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাইছে পাসের হার বৃদ্ধি হোক। ট্যাগ কর্মকর্তারা কিছুটা দুর্বল হওয়ায় তাদেরকে খুব সহজে ম্যানেজ করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রতিনিধিরা। অনেক কেন্দ্রে বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই নকল ঠেকানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নকল ঠেকাতে বোর্ডের ৮-১০টি টিম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের টিম, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও বেশিরভাগ শিক্ষকরা চেষ্টা করে আসলেও রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড জানায়, বোর্ডে লোকবলের অভাব আছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পরীক্ষার দিন মাত্র ৮-১০টি টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যায়। ছয় জেলার দূরবর্তী অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চলে কুমিল্লা জেলা শহর থেকে কোনো টিমই অল্প সময়ের ব্যবধানে পৌঁছাতে পারে না। এতে ওইসব অঞ্চলের পরীক্ষাগ্রহণ করতে হয় স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্বারা। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্ধারিত সংযুক্ত কর্মকর্তাদের বেশিরভাগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হাতে অনেকাংশে জিম্মি থাকে। তাই পরীক্ষার আগেই তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত কিছুসংখ্যক শিক্ষকদের হাতে ম্যানেজ হয়ে যায়। সার্বক্ষণিক তারা পরীক্ষার হলে ডিউটি করলেও অনেক সময় নকলের বিষয়টি তারা পুরোপুরি এড়িয়ে যায়। নকলে বাধা দিতে গেলে জনগণ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহায়তা নিয়ে শিক্ষকদের ওপর মারমুখী আচরণ করে। সর্বশেষ কুমিল্লার চান্দিনায় নকলে বাধা দিতে গেলে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঘনঘন পাবলিক পরীক্ষা, জিপিএ-৫ নির্ভরতা, রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বেচ্ছাচারিতাও শিক্ষার্থীদের নকলে উৎসাহিত করে তোলে।
এসব বিষয়ে কথা হলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামান জানান, পাবলিক পরীক্ষা হলো একটি চেয়ারের মতো, যার একটি পায়া দুর্বল হয়ে পড়লে পুরোটা অকেজো হয়ে যায়। পরীক্ষা গ্রহণে বোর্ডের টিম, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, কেন্দ্র সচিব এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের কোনো একটা যদি স্বেচ্ছাচারী হয়ে পড়ে তাহলে অনিয়ম দেখা দেয়। ১০ থেকে ২০ শতাংশ কেন্দ্র আছে যেখানে শিক্ষকরা স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহায়তা নিয়ে অনিয়মের চেষ্টা করে। তবে খবর পেলে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে আমরা তা বন্ধ করে দিই। চান্দিনায় যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা কমিটি এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *