সংবাদ শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
চৌদ্দগ্রামে পৌর কাউন্সিলরসহ ১৬ জনের করোনা শনাক্ত:মোট আক্রান্ত -৬৩, সুস্থ ২, মৃত্যু ১দেবিদ্বারে চিকিৎসক ও পবিস’র পরিচালকসহ ১৪ জনের করোনা সনাক্তকুমিল্লায় তিনজন চিকিৎসকসহ নতুন আক্রান্ত ৭৬: জেলায় করোনা ১১শ ছুঁই ছুঁইকরোনায় আরো ৩৭ জনের মৃত্যু, সর্বোচ্চ শনাক্ত ২৯১১-আক্রান্তের সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়ালকুমিল্লায় প্রবাসীর সহায়তায় প্রতিবন্ধীরা পেল খাদ্য ও নগদ অর্থসদর দক্ষিণে পল্লী বিদ্যুতের ক্রেন উল্টে শ্রমিক নিহত,আহত পাঁচদেবিদ্বারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কুবি শিক্ষার্থী নিহতবুড়িচংয়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটককরোনাভাইরাস: দেশে আজও দুই হাজার ৩৮১ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ২২চান্দিনায় গলাটিপে শিশুকে হত্যা করলো সৎ মা: বাবা ও সৎ মা আটকচৌদ্দগ্রামে পৌর মেয়রসহ ১৩ জনের করোনা শনাক্ত: উপজেলায় বেড়ে দাঁড়াল ৪৭ জনেচৌদ্দগ্রামে পৌর মেয়রসহ কুমিল্লায় নতুন আক্রান্ত ৪৯: জেলায় বেড়ে দাঁড়াল ১০২০ জনেদেবিদ্বারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ স্টাফ সহ ১৮ জন করোনা আক্রান্তবরুড়ার সেই চা বিক্রেতার স্কুলে শতভাগ পাশকুমিল্লায় ৭জন চিকিৎসকসহ নতুন আক্রান্ত ১০৩: জেলায় করোনা হাজার ছুঁই ছুঁইকুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড- বিজ্ঞানে ছেলেরা আর মানবিক ও বানিজ্যে মেয়েরা এগিয়েএসএসসি পরীক্ষা কুমিল্লা বোর্ড : পাশে ফেনী আর জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে কুমিল্লাকুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড – পাশে ছেলেরা আর জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে মেয়েরা এগিয়েএসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ – কুমিল্লা বোর্ডে এবারের পাশের হার ৮৫.২২ : পাশের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ ৫কুমিল্লা নতুন আক্রান্ত ৩৪: জেলায় করোনা ছাড়ালো সাড়ে ৮শ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নাজিম উদ্দিন কি মাত্র একজন?- নাসির উদ্দিন

লেখক : নাসির উদ্দিন..

১.
“স্যার কিছু সায্য করেন। হেই সহালে বাইর অইছি। দোপড় অইয়া গেছে। ৬০ টেহা বাড়া মারছি। বাজার লইয়া গেলে পোলাপানের কপালে কিছু জুটব। রাস্তায় পেছিন্দার নাই। আবার পুলিশে পিডে, ধরা পরলে ২ ঘন্টা আডক কইরা রাহে। আম্নেরার সায্য ছাড়া বাঁচনের পথ নাই”।
কথাগুলো রিক্সা চালক আমীর হোসেনের। ধানমণ্ডি ৩২ নাম্বার রোডে যাত্রীর আশায় বসে ছিলো। আমাকে দেখে এভাবেই তার আকুতি জানায়।

পাশের শুক্রাবাদ বাজারে গিয়েছি। কেনাকাটার ফাঁকেই শিশু কোলে একাধিক মায়ের করুণ মিনতি; কিছু সাহায্য করেন। বাচ্চাকাচ্চা লইয়া না খাইয়া আছি।
রিক্সায় বাসার সামনে নামার পর রিক্সাচালকের আরজি ‘স্যার দশটা টেহা বাড়াইয়া দিয়েন। যাত্রী নাই, কামাই অয় না। পরিবার লইয়া বহুত কষ্টে আছি’।

এই যে লক্ষ লক্ষ নাজিম উদ্দিন অসহায় অভুক্ত অবস্থায় জীবন রক্ষার আকুতি জানিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, রাষ্ট্র কি এদেরকে চেনে? এদের কি কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয় আছে? রাষ্ট্র এদের জন্য কি কোনো সুরক্ষা বলয় করেছে? এরাও কি শেরপুরের সেই নাজিম উদ্দিন নয়?

২.
পঞ্চগড়ের অটোয়ার উপজেলা কলেজ মাঠের অস্থায়ী বাজারে বটতলী গ্রামের চাষি জহিরুল ইসলাম ২২ বস্তা বেগুন ৫শ টাকায় এবং বামনকুমার গ্রামের মামুন লাউ বিক্রি করেছেন ৩ টাকা দরে। তারা সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেছে, এদেশে কৃষকের কোনো সরকার নেই। বড়লোকেরা লুট করে আবার তারাই বরাদ্দ পায়। কৃষক ধার দেনা করে জমি লাগিত নিয়ে পুঁজি খাটিয়ে ফসল ফলায়। সেই ফসল বাজারে নিলে বিক্রি হয় না। তাদের জন্য বরাদ্দ নাই। এই কৃষকরা চায়, যে এলাকায় যখন যে ফসল হয়, সরকার সিজন অনুযায়ী সেই এলাকার ফসল বিভিন্ন শহরে পরিবহনের সহজ ব্যবস্থা করে দিলে কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে। ঢাকাসহ শহরের মানুষও সারা বছর কম মূল্যে শাক-সব্জি ফল-মূল পাবে।

রাষ্ট্র কি এই সংগ্রামী নাজিম উদ্দিনদের কথা কখনো শুনেতে চেয়েছে, যারা হাত পাততে শেখেনি? নাকি লুটপাট করে যারা টেবিলে মুখোমুখি বসে কথা বলার মতো পোষাকি সাহেব হয়েছে, কথায় কথায় হাত পাতে, রাষ্ট্র শুধু তাদের কথাই শুনবে?
৩.
হাওড় এলাকার ৭ জেলায় এবছর ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেবে এসব ধান কাটতে ৫০ হাজার শ্রমিকের একমাস লাগবে। হাওড় অঞ্চলসহ বোরো আবাদ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ইরি ২৮ জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে আরও ৭ দিন আগে। এখন পাকবে ইরি ২৯ ধান। দেশে ধানচাষের ক্ষেত্রে বোরোই এখন সবচেয়ে বড় ফসল এবং অর্ধেক খাদ্যের যোগানদার।
উত্তরাঞ্চলে কৃষিশ্রমিকের পর্যাপ্ততা থাকলেও পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে এখন আর কৃষি শ্রমিক নেই। ফলে ধান পাকা শুরুর পর হাওড় অঞ্চলে শুরু হয় হাহাকার। সম্ভাব্য খাদ্যসংকট ঠেকাতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক হাওড় এলাকায় পাঠিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম থেকে গিয়েছে ১ হাজার। যা এখনো যথেষ্ট নয়।
আবার এসব শ্রমিক মজুরি দাবী করছে ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। এতে অনেকেই ধান কাটাতে সাহস পাচ্ছে না। কারণ এসব এলাকায় ধানের বাজার গুলো বন্ধ। ব্যবসায়ীরা ঘুরে ঘুরে প্রকারভেদে ৫ থেকে ৬ শ টাকায় ধান কিনছে। ফলে ধান বিক্রি করে মজুরির টাকা দিতে গেলে কৃষক পুঁজি হারাবে। অধিকাংশ কৃষকের হাতেই নগদ অর্থ নেই, আবার বাজারে এখন ধান বিক্রিরও সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে এক অসহায় অবস্থা হাওড় অঞ্চলে।

রাষ্ট্র কি এই কৃষকদের অসহায়ত্বে কখনো ব্যবসায়ীদের মতো সুযোগ করে দিয়েছে? অথচ রাষ্ট্রের খাদ্য সংকটের সময় এই দরিদ্র কৃষকেরাই বারবার বুক চিতিয়ে ফসল ফলিয়ে দেশের মানুষকে রক্ষা করেছে। সরকার শুধু বলে বেড়িয়েছে এবার দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই।
৪.
সরকারের তথ্যমতে, দেশে মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ পরিবারের মধ্যে কৃষিতে যুক্ত ১ কোটি ৬৬ লাখ পরিবার। এদের ৬ লাখ শহরে এবং ১ কোটি ৬০ লাখ গ্রামে বাস করে। মাছ, মুরগী, গরু-ছাগল এবং পাহাড়ে জুম চাষে যুক্ত পরিবার প্রায় ২০ লাখ। কৃষিতে যুক্ত মজুরের সংখ্যা ৯০ লাখ। নিজের জমি নেই এমন পরিবার ৪০ লাখ ২৫ হাজার। অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে এমন পরিবার ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার।

এসব কৃষক পরিবার এখন নানামুখী সংকটে রয়েছে। এদের জন্য রাষ্ট্রের কোনো তাৎক্ষণিক বরাদ্দ নেই। সরকার, মন্ত্রী এমপি কিংবা কোন রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠন কৃষিনির্ভর এসব মানুষের খোঁজ নেয়নি। সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের তৎপরতা কেবলমাত্র শহরকেন্দ্রিক এবং ছবিতে সীমাবদ্ধ।
স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক পন্থায় যেসব ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে সেগুলো সংকটের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এছাড়া হিসেবে যা আছে; গ্রামে যাচ্ছে তার অর্ধেক। মানুষের কাছে পৌছাচ্ছে তারও অনেক কম।
এর প্রথম কারণ চুরি নয় ব্যবস্থাপনা। ত্রাণ পরিবহনের জন্য সরকার থেকে আলাদা কোনো খরচ দেয়া হয় না। ফলে পরিবহন খরচ মেটানোর জন্য অধিকাংশ গ্রহীতাকে ত্রাণ গ্রহণের আগেই ত্রাণ বিক্রির পথ বেছে নিতে হয়। ফলে প্রথমবার গুদাম থেকে বের করার সময়ই পণ্যের একটা বড় অংশ ভিন্ন পথে চলে যায়। জেলা বা উপজেলা থেকে ডেলিভারির ক্ষেত্রেও একই পথে পণ্য চলে যায়। এরপর গ্রামের অধিকাংশ প্রতিনিধির কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এবং বন্টনে একইভাবে বেহাত হয় ত্রাণ। তবে কাগজে হিসাব থাকে যথাযথ। ডিআরআরও বা ডিস্ট্রিক্ট রিলিফ এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন অফিসারের কাগজে পুরো বরাদ্দ দেখানো হয়। জনপ্রতিনিধি ত্রাণ রিসিভ করেন কম। যেহেতু পরিবহন খরচ না দিলে ত্রাণ পাবে না, সেহেতু রিসিভ করার আগেই জনপ্রতিনিধিকে চোর বনে যেতে হয়।

৫.
হাফেজ মোঃ হালিমের ফোন ‘ভাই এইবার মসজিদে খতম তারাবি নাই। আমরা সারা বছর এই রোজার আশায় বসে থাকি। রোজাতেই কিছু আয় রোজগার হয়। বাপ-মা বাচ্চাকাচ্চার জন্য কিছু করি। এবার ঘরবৈডা। আপনে বললে একটা বিকাশ নাম্বার দেব’।
শুধু কি একজন হালিম? ছওয়াব ও নেক কর্মের আশায় নেতা, মন্ত্রী, এমপি, বিত্তবান এবং আমরা সাধারণ মানুষ আজকাল সর্বত্রই মাদ্রাসা তৈরী করছি। সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ যুবক বের হচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের প্রচলিত ধারার কোনো কাজ বা চাকরি করতে পারছে না। দেশের ১৪ হাজার কওমি মাদ্রাসা এবং সাড়ে ৪ হাজার আলীয়া মাদ্রাসা থেকে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ মুফতি, আলেম ও হাফেজ পাস করে বের হয়েছে। দেশের সাড়ে ৪ লাখ মসজিদ ও উল্লেখিত মাদ্রাসাগুলোতে মাত্র ১০ লাখ মুফতি, আলেম ও হাফেজের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাকি ৫০ লাখই বেকার। এই বেকারদের ১০ লাখ হাফেজ রোজার মাসে তারাবি পড়ানোর অস্থায়ী জব পেয়ে থাকেন। এবার তাও বন্ধ। এসব মুফতি আলেমদের মাত্র ১ শতাংশ স্বচ্ছল। এদের মধ্যে মাত্র ৩ শ মুফতি ও আলেম ওয়াজ মাহফিল থেকে মোটা অংকের আয় করে থাকেন। যারা প্রাডোতে চড়েন, প্রায়শই হেলিকপ্টার ও রকেটের গল্প করে বেড়ান।

সওয়াব এবং নেক কর্মের আশায় আমরা দেশে ৫০ লক্ষ বেকার তৈরী করেছি। শিক্ষা তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এদের অনেকেই তাদের জীবনকে একটি অভিশপ্ত জীবন মনে করে। পরিবার, সমাজে তারা অবহেলিত। আমরা হৈ হুল্লোড় করে মাদ্রাসা গড়ে তুলি। কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজ এই মানুষদের ভবিষ্যতের কথা ভাবে না। এরাই এখন তাদের শিক্ষা এবং জীবনধারার মতো একটি রাষ্ট্র চায়। কারণ তাদের শিক্ষাতেই রয়েছে জেহাদের বাধ্যবাধকতা। তখন তাদেরকেই আমরা জঙ্গি বলি।

৬.
এ মূহুর্তে দেশের সর্বোচ্চ ১০ লাখ পরিবার ছাড়া বাকি সাড়ে ৩ কোটি পরিবারই অসহায়। এদের অনেকের দশা শেরপুরের ঝিনাইগাতির নাজিম উদ্দিনের চেয়েও খারাপ। কারণ নাজিম হাত পেতে চাইতে পারতো। কিন্তু এদেশের কৃষক ও কর্মবীরেরা মর্যাদাবান। সে ভাংবে মচকাবে না। না খেয়ে খেয়ে সে পাঁজরের হাড়ে গোণা শিখাবে, চোখের গর্তকে পুকুর বানাবে, তবুও মাথা নোয়াবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এক নাজিম উদ্দিনকে দেখেছেন। এদেশের আসল নাজিমদের কি দেখেছেন? যারা একটা একটা করে ধান বুনে দেশকে আজ সাবলম্বী করেছে। যাদের সাহসী সন্তানেরা রোজগারের নেশায় জীবন বাজি রেখে নৌকায়, ড্রামে করে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়েছে। মাসের পর মাস পায়ে হেঁটে সাহারা পাড়ি দিয়েছে। প্রতারক দালালদের শত প্রতারণা ডিঙিয়ে বিভুইয়ে ঠিকানা গড়েছে। নিজে আধপেটা খেয়ে দেশেকে রেমিট্যান্সে ভাসিয়েছে। কোনো সরকার এদের জন্য কখনো কিছু করেনি। অথচ রেমিট্যান্সের বাহাদুরি করেছে।

এরা নাজিম উদ্দিনের মতো হাত পাততে চায় না। এরা শুধু একটু অনুকূল পরিবেশ চায়। যা ওরা নন্দ, গুপ্ত, পাল, সেন, তুর্কী, মোগল, বৃটিশ ও পাকিস্তানিদের কাছে পায়নি। এজন্যই রক্ত দিয়ে ওরা দেশকে মুক্ত করেছে। কিন্তু সেই মুক্তি পেয়েছে কি ওরা? উন্নয়ন চাই, তবে এর সাথে সুষম বণ্টন না থাকায় সমাজ এখন চরম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এদিকটাতে নজর না দিলে এক নাজিমকে সাহায্য করে আপনি বেশিদিন মানবিক থাকতে পারবেন না।

শেষ করছি আবার নাজিম উদ্দিনের কথা দিয়ে। শেরপুরের ঝিনাইগাতির নাজিম উদ্দিন একজন বীর হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু অবশেষে রাষ্ট্রের কাছে তার বীরত্ব হারিয়েছেন। মিডিয়ার কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসে তিনি ভিআইপি ভিক্ষুক হয়েছেন। রাষ্ট্র তার ভিক্ষা গ্রহণ করেনি। ভিক্ষা ফিরিয়ে দিয়ে উল্টো করুণা করেছে। একজন ভিক্ষুকের দান গ্রহণ করলে সম্ভবত রাষ্ট্রের মর্যাদা থাকে না? তাই পত্রপাঠ ফেরত এবং উল্টো অনুদান। নাজিম এই উল্টো ভিক্ষা না নিলেই বরং তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যেত। দানের বিপরীতে অনুদান দিয়ে রাষ্ট্র রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু আমি লজ্জিত হয়েছি। কিন্তু মানুষের বিপদের মুহূর্তে নিজের সর্বস্ব দান করার যে সাহস নাজিম দেখিয়েছে, এই বীরত্বই আমার এবং কোটি বাঙ্গালীর অহংকার।

লেখক : দৈনিক প্রথম আলোর কুমিল্লার সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *