সংবাদ শিরোনাম
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
কুমিল্লায় রড বোঝাই ট্রলার ডুবে শ্রমিক নিহতঅপরিকল্পিত নির্মাণের খেসারত… তিতাসে খাল নয়,এটি একটি সড়কশ্রুতিমধুর নয় এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের নির্দেশকরোনা ও করোনা উপসর্গে কুমেক হাসপাতালে আরো তিন জনের মৃত্যুপ্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল বুড়িচংয়ের ভরাসার বাজারে দোকান-পাট,অফিসে হামলা,গুলি,ভাংচুর,লুটপাটকরোনা ও করোনা উপসর্গে কুমেক হাসপাতালে আরো তিন জনের মৃত্যুব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশার চাপায় শিশু নিহতআলুর দাম বেড়েছে, কমেনি মরিচের ঝাল কুমিল্লায় কমতে শুরু করেছে কাঁচা তরকারির দামসুবর্ণচরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, ইউপি সদস্যসহ আটক ৩বৈরুত বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৫৭দেশের ১৯ অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতাচান্দিনায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন উচ্ছেদকুমিল্লায় নতুন করে ৪৮ জনের করোনা শনাক্ত: জেলায় বেড়ে দাঁড়াল ৫,৭২৭বুড়িচংয়ে ধর্ষণের স্বীকার প্রতিবন্ধি নারী অন্ত:সত্ত¡া, ধর্ষক গ্রেফতারবুড়িচংয়ে মাদক বিক্রিতে সহযোগিতা না করায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনপাকিস্তানে সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, আহত ৩০চাঁদপুরে মেঘনার পানি ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ : বহু গ্রাম প্লাবিতলেবাননে বিস্ফোরণের পর এবার আরব আমিরাতের মার্কেটে আগুনলেবাননে বিস্ফোরণে কসবার তরুণের মৃত্যু, আহত ৫লক্ষ্মীপুরে জোয়ারের পানিতে ডুবে মরলো পাঁচ হাজার মুরগি

সড়ক যেন হাল চাষের জমি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বর্তমানে সড়কটির এমন হাল হয়েছে যেন এটি হাল চাষের জমি।

জীবন ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে পণ্য ও যাত্রীবাহী অসংখ্য যানবাহন। সড়কের বেহাল দশা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। 

২১ কিলোমিটার ৯০০ মিটার দীর্ঘ এ সড়কটি পাড়ি দিতে এক ঘণ্টার জায়গায় এখন তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। সে সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।  

সরেজমিনে দেখা যায়, এ সড়কের আখাউড়া-সিঙ্গারবিল পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার যানবাহন চলাচলের জন্য উপযোগী। বাকি ১৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। যা যানবাহন চলাচলের জন্য অনুপযোগী। 

বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল থেকে শুরু করে আটখলা, পত্তন, খিরাতলা, শ্রীপুর, নোয়াগাঁও, চম্পকনগর, মির্জাপুর, চান্দুরা পর্যন্ত সড়কটির স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

আটখলা এলাকায় নবনির্মিত সেতুর গোড়ায় কাদা মাটি জমে থাকায় আটকে যাচ্ছে গাড়ি। ফলে চালক এবং যাত্রী মিলে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করতে হচ্ছে। সড়কটির আমতলি বাজার অংশে চলমান নির্মাণ কাজের জন্য খুঁড়ে ফেলায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। 

সড়কের বেশির ভাগ অংশে কোনো বিটুমিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া সড়কটির কমপক্ষে ২০টি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে।

আখাউড়া-চান্দুরা সড়কটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, বিজয়নগর, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাসহ আশপাশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, অসংখ্য পথচারী প্রতিদিন চলাচল করছে। সে সঙ্গে চলছে শত শত সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাস, বাসসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। 

তাছাড়া এ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করে আখাউড়া স্থলবন্দরে যাতায়াত করছে সিলেট থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাক। সিলেট বিভাগের সবক’টি জেলার লোকজনকে আখাউড়া চেকপোস্টে যেতে এ সড়ক ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমানে এমন বেহাল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

মির্জাপুর গ্রামের নিয়ামত উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউপিতে যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ শতাধিক ট্রাক চলাচল করে। পুরো সড়কই গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। 

আড়িয়ল গ্রামের নিছার মিয়া জানান, বর্তমানে এ সড়কে অসংখ্য খানা-খন্দ আর বড় বড় গর্ত। দিন যতই যাচ্ছে সড়কের বেহাল অবস্থাও বাড়ছে। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। চলাচল করতে খুবই ভয় করে। 

অটোচালক  মো. সুরুজ মিয়া বলেন, এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চালাতে খুবই ভয় করে। গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে যাত্রীকে ৪-৫বার উঠানামা করতে হয়। তাছাড়া সড়কের এ বেহাল দশার কারণে প্রায়ই গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে।

মো. আমীর হোসেন নামে আরেক চালক বলেন, চলাচল করতে গিয়ে প্রায় সময়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। তখন গাড়ি থেকে যাত্রীকে নেমে গাড়ি ঠেলা দিতে হয়। 

ইসলামপুর কলেজের ছাত্র মো. শাহজাহান বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কলেজ বন্ধ আছে। কলেজ খোলা থাকার সময় প্রতিদিন বিজয়নগরের ছতুরপুর থেকে কলেজে আসা হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা থাকায় যাতায়তে খুবই কষ্ট হয়।

বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে পিচ ঢালাই করা সড়কটি পরে ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে সংস্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কটি বেশি দিন টিকে না। এ ছাড়া ভারী যানবাহন ও পাওয়ার টিলার অবাধে চলার কারণেও সড়কটি নাজুক হয়ে পড়ে। 

এলজিইডি’র বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সড়কটির কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *