শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
মেঘনা-ধনাগোধা বেড়িবাঁধে আকস্মিক ভাঙন, আতঙ্কে লাখো মানুষচুরি যাওয়া গরুর সন্ধান দিলেই মিলবে পুরস্কারছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসাএ বছরও বিনামূল্যে এক লাখ গাছের চারা বিতরণ করবে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘপদ্মবিল জুড়ে শরতের শুভ্রতা, হৃদয় কাড়ছে সৌন্দর্য পিপাসুদের‘২০২১ সাল আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে’কুমিল্লানগরীর দিশাবন্দে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুবাসে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, অভিযুক্ত চালক-হেলপার গ্রেফতাররেলের বগি নির্মাণে আরো একটি কারখানা হবে: রেলমন্ত্রীবাড়ি ফেরার পথে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণআবদুল মতিন খসরু এমপি’র নির্দেশনায়” যানজট নিরশনে বুড়িচংয়ে বাইপাস সড়ক চালু করার সিদ্ধান্তকুমিল্লার আজকের করোনা আপডেটচাকরির বয়স ১০ বছর হলে উচ্চতর গ্রেডে বাধা নেইফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের পতন, বাংলাদেশ আগের অবস্থানেইকুমিল্লার আজকের করোনা আপডেটহাত-পা বেঁধে ছাত্রকে মারধর, শিক্ষকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিপিলখানায় চলছে বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন, প্রাধান্য পাবে সীমান্ত হত্যাবৃষ্টি নিয়ে যা জানালো আবহাওয়া অফিসকরোনাকালীন বায়ুদোষনবুড়িচংয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের কান্ড,ধার টাকা নিয়ে প্রতারনার অভিযোগ

অনলাইনে পণ্য সেল করে কুভিকের মিমি আজ লাখপতি


আবদুল্লাহ আল মারুফ ।। কামরুন নাহার মিমির জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লার দেবিদ্বারে। মিমি বর্তমানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজ(কুভিক) এর ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। কৃষক বাবার বড় মেয়ে সে। বড় ভাই না থাকাতে একমাত্র আয়ের মানুষ মিমির বাবা। ছোট বেলা থেকেই আতœবিশ্বাসী মিমি শুধুই আতœনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছিল।
২০১৬ সালে মিমি কুমিল্লায় আসে পড়াশোনার জন্য। কুমিল্লায় এসেই শুরু করেন টিউশন ও প্রাইভেট পড়ানো। টিউশনের টাকাতেই চলতো তার পড়াশোনা। এভাবেই মিমি আতœবিশ্বাসী হয়ে উঠে।
হঠাৎ বন্ধুদের মাধ্যমে যুক্ত হয় উই নামক উই-কমার্স প্লেট ফর্ম। এর পরেই আসে উদ্দ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা। কর্মজীবন শুরু করার লক্ষ্যে ২০২০এর এপ্রিলে কুমিল্লার খাদি থ্রি পিস ও পাঞ্জাবি নিয়ে শুরু ই-কমার্স উদ্যোগ ‘পল্লীর হাঁট’।
প্রাচীনকাল থেকেই এই উপমহাদেশে হস্তচালিত তাঁতশিল্প ছিল জগদ্বিখ্যাত। দেশের চাহিদা মিটিয়ে সবসময় এই তাঁতের কাপড় বিদেশেও রপ্তানি হত।কুমিল্লার খাদি কাপড়ের কদর আজও বিশ্বজুড়ে। মিমি উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে এই চিন্তা গুলোই কাজ করছিল। শূন্য থেকে মিমি কিভাবে লাখপতি হলেন তা জানতে এবং পাঠককে জানাতে কথা বলি তার সাথে।
উদ্যোক্তার আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো?
সব সময়ই ইচ্ছা ছিলো নিজের জন্য নিজেই কিছু করবো। আমার বন্ধু কারিমা আক্তার রুমি আমাকে এই পথ দেখায়৷ সে আমাকে একটা ফেইসবুক গ্রæপে জয়েন্ট করায়। গ্রæপটাতে অনেক উদ্দ্যোক্তা দেখি৷ আমার ধীরে ধীরে খাদি নিয়ে কাজ করার চিন্তা আসে। পরে আমি আমার ছোট কাকার সাথে এই বিষয়টা শেয়ার করি। কাকা আমাকে মানসিক ভাবে আশ্বস্ত করে। পরে কাকাই আমাকে তাঁতি বাড়িতে নিয়ে যায়। প্রথমে আমি পাঞ্জাবি আর থ্রি-পিস নিয়ে শুরু করি। পরে শাড়ি ও বিভিন্ন পণ্য যুক্ত করি। এভাবেই আমার শুরু। ই-কমার্স করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও অফিসের প্রয়োজন নেই। সবদিক থেকেই পরে ই-কমার্স পেশা আমার স্বপ্ন থেকে সত্যিতে পরিনত হয়।
আপনার চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে মোকাবেলা করেছেন??
উদ্যোক্তা জীবন মানেই চ্যালেঞ্জে ভরপুর আর নারী হলেতো কথাই নেই। কিন্তু আমার বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা আমাকে পরিবার থেকে সাপোর্ট দিয়েছে।তেমন কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি। এসব ক্ষেত্রে আমি বেশি সাপোর্ট পেয়েছি আমার ছোট কাকা মোঃ সোহেলের কাছ থেকে। কিন্তু ঝামেলায় পড়েছি প্রোডাক্ট পাঠানো নিয়ে। লকডাউনের মাঝের প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ বার বাড়ি থেকে কুমিল্লা যেতে হতো শুধু কুরিয়ার করার জন্য। কারন আশাপাশে কোন কুরিয়ার ছিল না। যেহেতু শুরু থেকে প্রোডাক্ট প্যাকেজিং, কাস্টমার, ডেলিভারি সবকিছু একা ম্যানেজ করতে হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমার উদ্যোক্তা জীবন ভীষন চ্যালেঞ্জিং ছিলো। মূলত আমার কাজের প্রতি আন্তরিকতা আর ভালোবাসাই এসব চ্যালেঞ্জ জয় করতে সাহায্য করে।

উই থেকে প্রাপ্তি গুলো কি?
উইমেন্ড এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) দেশী পণ্যের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম। আমরা যারা দেশী পণ্য নিয়ে কাজ করি তাদের জন্য উই ফেসবুক গ্রæপ একটা আতœবিশ্বাসের জায়গা। উইতে এসে মাত্র ৫ মাসে আমি যে নাম ও সম্মান পেয়েছি তা আমাকে আরো পাঁচ বছর এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা গুটিয়ে বসে থাকাতে হতো সেখানে উইতে এক্টিভ থেকে লাখ টাকা সেল পেয়েছি।
আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি??
‘পল্লীর হাট’ নিয়ে আমার একটা লক্ষ্য আছে। আমি নিজেই একটা শো-রুম করার চিন্তা আছে। তবে সেটা আরও সময় লাগবে। মূল কথা হলো কুমিল্লার খাদি নতুন ডিজাইনে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতে চাই।
আপনার লাখপতি হওয়ার অনুভূতি কি?
আমি সত্যিই লাখপতি হবো এমন আশায় এটা শুরু করিনি। কিন্তু উই গ্রুপ আর আমার বন্ধুদের সাহায্য ও আমার কাকার সাহায্যে এতটুকু এসেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার পণ্য বিক্রয় করেছি। উনাদের ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও যারা বেকার তাদের উদ্দ্যোক্তা হওয়ার আহবান জানাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *