রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
চাল পিয়াজ-সহ দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনগন দিশেহারা …. ডাঃ ইরানবিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনা দল ঘোষণামেঘনা-ধনাগোধা বেড়িবাঁধে আকস্মিক ভাঙন, আতঙ্কে লাখো মানুষচুরি যাওয়া গরুর সন্ধান দিলেই মিলবে পুরস্কারছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসাএ বছরও বিনামূল্যে এক লাখ গাছের চারা বিতরণ করবে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘপদ্মবিল জুড়ে শরতের শুভ্রতা, হৃদয় কাড়ছে সৌন্দর্য পিপাসুদের‘২০২১ সাল আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে’কুমিল্লানগরীর দিশাবন্দে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুবাসে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, অভিযুক্ত চালক-হেলপার গ্রেফতাররেলের বগি নির্মাণে আরো একটি কারখানা হবে: রেলমন্ত্রীবাড়ি ফেরার পথে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণআবদুল মতিন খসরু এমপি’র নির্দেশনায়” যানজট নিরশনে বুড়িচংয়ে বাইপাস সড়ক চালু করার সিদ্ধান্তকুমিল্লার আজকের করোনা আপডেটচাকরির বয়স ১০ বছর হলে উচ্চতর গ্রেডে বাধা নেইফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের পতন, বাংলাদেশ আগের অবস্থানেইকুমিল্লার আজকের করোনা আপডেটহাত-পা বেঁধে ছাত্রকে মারধর, শিক্ষকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিপিলখানায় চলছে বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন, প্রাধান্য পাবে সীমান্ত হত্যাবৃষ্টি নিয়ে যা জানালো আবহাওয়া অফিস

ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেড়েছে দাম

ভারত রফতানি বন্ধ করায় ফের অস্থির বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। সরবরাহ থাকার পরও সোমবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ানো হয়েছে পণ্যটির দাম।

রীতিমতো মূল্যের দিক দিয়ে ফের ‘সেঞ্চুরি’ হাঁকিয়েছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি কমপক্ষে ১০০ টাকা হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার কেজিতে ৫০ টাকা বাড়িয়ে রাজধানীর পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা।

আর আমদানি করা পেঁয়াজে কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা। এছাড়া খুচরা বাজারে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে একদিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের রফতানি কার্যক্রমের গতিবিধি দেখে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম দেশের বাজারে বাড়লেও তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

শুধু আছে সীমিত আকারে টিসিবির ট্রাকসেল বিক্রি ও দায়সারাগোছের বাজার তদারকি। এমন পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগের সেই চিহ্নিত সিন্ডিকেট। গত বছর ওই চক্রটি মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।

সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহ্নিত করার পরও ওই সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়নি। যে কারণে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর এবারও তারা তৎপর হয়ে ওঠে।

আগের এলসি করা পেঁয়াজ কম দামে আনলেও রাফতানি বন্ধের অজুহাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়িয়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশিতে বিক্রি করছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের।

এদিকে ভারতে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এ ধরনের পরিবর্তন করে থাকে তা বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে আগে জানিয়ে দেবে- এ রকম একটা বিষয় আছে।

আমরা তাদের খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি ভালো একটা ফলাফল পাব।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে গেলে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়।

তাই ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দরকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। কিন্তু দেশে সেটি হচ্ছে না। কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর হাতেই নিত্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে।

এরা কারসাজি করলে তখন সরকারের আর করার কিছু থাকে না। তার মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে।

বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুফল দেয়, তার জন্য টিসিবির সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি। নতুবা দেশের প্রেক্ষাপটে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।

এদিকে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ১০ হাজার টন পেঁয়াজের এলসি করা হয়েছিল। পেঁয়াজ নিয়ে ১৫০টি ট্রাক হিলি স্থলবন্দরের ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল।

কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় সেসব ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে মারাত্মক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদে পণ্যটি রফতানি বন্ধ আছে। আমদানির অর্ডারের বিপরীতে রোববার ৪৪টি ট্রাক বাংলাদেশে এলেও সোমবার পেঁয়াজ নিয়ে কোনো ট্রাক দেশে আসেনি।

দিনাজপুর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দর সেঞ্চুরিতে গিয়ে ঠেকেছে।

যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম ভোক্তা সহনীয় করতে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে ট্রাকসেলে বিক্রি শুরু হয়েছে।

সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদারকি টিম বাজারে কাজ করছে। সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একাধিক মনিটরিং টিম বাজার তদারকি করছে।

এ সময় রাজধানীতে কারওয়ান বাজারে বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। গাইবান্ধায় বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে ৬ ব্যবসায়ীকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিদফতর।

এছাড়া ভালুকায় এসি ল্যান্ডের ঝটিকা অভিযানে দুই বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় দুই আড়তদারকে জরিমানা করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

টিসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশে ২৭৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি।

প্রত্যেকটি ট্রাকে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ কেজি পেঁয়াজ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। দরকার হলে সামনে এ পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

তবে এখন পর্যন্ত টিসিবির কাছে কী পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে ও এ মজুদ দিয়ে কত দিন বিক্রি কার্যক্রম চালানো যাবে- এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা কোনো ধরনের হিসাব দিতে রাজি হননি।

তবে তিনি জানিয়েছেন, তাদের কার্যক্রম ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দরকার হলে সামনে এ সময়সীমা বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর থেকে ভোক্তার স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা প্রতিদিনের চলমান বাজার তদারকিমূলক কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানান, বাজারে পেঁয়াজসহ একাধিক পণ্য সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে। কারসাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাইকারি বাজার : মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা। আর পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা।

এছাড়া একই দিন বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়ত দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা। দুপুর ১২টায় এ দাম বেড়ে হয় ৭৫ টাকা।

এরপর আরও ১ ঘণ্টা পর দুপুর ১টায় এ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা। আর বেলা আড়াইটায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা।

তবে সোমবার সকালে প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। আর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর সন্ধ্যার পর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ দাম বাড়িয়ে পাইকারি এ বাজারে বিক্রি হয় ৫৫-৬০ টাকা।

তবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়তে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা। দুপুর ১২টায় এ দাম বেড়ে হয় ৭০ টাকা।

আর বেলা আড়াইটায় পাইকারি এ আড়তে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা। এছাড়া এ একই পেঁয়াজ সোমবার সকালে বিক্রি হয় ৩৫ টাকা।

তবে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ একই দিন সন্ধ্যায় বিক্রি হয় ৪০-৪৫ টাকা।

খুচরা বাজার : পাইকারি আড়তের দাম বাড়ায় রাজধানীর খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, রামপুরা বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা একদিন আগে বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকা।

তবে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর সোমবার সন্ধ্যায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৭০-৮০ টাকা।

এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। তবে সোমবার সকালে বিক্রি হয় ৫৫-৬০ টাকা। আর সন্ধ্যার পর বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকা।

জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করছে, এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশের (সিওয়াইবি) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত বছর একটি চক্র মানুষকে জিম্মি করে অর্থ লুট করেছিল।

এদের চিহ্নিত করার পরও ওই সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়নি। যে কারণে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর এবারও তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরকারের একাধিক সংস্থার দায়সারা তদারকি কার্যক্রমে কম মূল্যে এলসি করেও ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম মঙ্গলবার বাজারে কেজিতে ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার যাতে পণ্যটি নিয়ে গত বছরের মতো লঙ্কাকাণ্ড না ঘটে সে বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।

জানতে চাইলে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অধিদফতরের মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অধিদফতরের চারটি টিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি মনিটরিং টিম এ অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী যারা সব সময় সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলে।

এ সুযোগ আর দেয়া যাবে না। রাজধানীর পেঁয়াজের বড় পাইকারি আড়তগুলো ও খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অসাধু পন্থায় যারা বেশি দরে পণ্য বিক্রি করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আর সামনে কেউ অসাধুতা তরলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। সেই সঙ্গে সংকটের আশঙ্কায় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রিও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৪০ থেকে ৪৫ টাকার আমদানি করা পেঁয়াজ একদিনের ব্যবধানে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পাশাপাশি ৬০ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ মঙ্গলবার বিক্রি হয় ১১০-১২০ টাকা। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন যুগান্তরকে জানান, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঊর্ধ্বমূল্য রুখতে তারা হঠাৎ করেই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ১০ হাজার টন পেঁয়াজের এলসি করা ছিল এবং পেঁয়াজ ভর্তি ১৫০টি ট্রাক হিলি স্থলবন্দরের ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল।

কিন্তু সোমবার হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় সেসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে মারাত্মক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ।

এতে নতুন করে কোনো আমদানি অর্ডার গ্রহণ করেনি দেশটি। সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ জানান, রোববার আমদানি অর্ডারের বিপরীতে ভারত থেকে ৪৪টি পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও সোমবার নতুন করে কোনো আমদানি অর্ডার গ্রহণ করেনি ভারত।

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের বিরামপুরে এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। পেঁয়াজের সংকটের আশঙ্কায় ক্রেতারা বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।

সোমবার রাত পর্যন্ত বিরামপুর শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি।

নাটোর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, নাটোরে একদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় আবারও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এক রাতের মধ্যে কেজিপ্রতি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, উল্লাপাড়ায় মঙ্গলবার হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে ৫০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

সোমবার সন্ধ্যায় ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার দেয়ার পর উল্লাপাড়ার বাজারে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, দেশি পেঁয়াজ ৫৮ টাকা কেজি দরে কিনে ৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন, আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৬ টাকায় কিনে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন বিক্রেতারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *