BREAKING NEWS
Search
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
হোমনায় ছাত্রলীগের হামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ মজিদ আহতপুরান ঢাকায় রাত যত গভীর যানজট তত তীব্রলঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধারদখলে হারিয়ে যেতে বসেছে কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদী১৭ মিলিয়ন শিশুর বিষাক্ত বাতাসে বসবাসচান্দিনায় সরকারি জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনহোমনায় মার্সেল ডিজিটাল ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি‘উপহার দেওয়াতে নির্ভেজাল আনন্দ’ হোমনায় ইউএনও’র দেওয়া নতুন পোশাকে জেলেপল্লীর শিশুদের দুর্গোৎসবকুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি এড. মোসলেম মিয়ার ইন্তেকালশরণার্থীদের খোঁজে-৩৬ :ভারতে আশ্রয় নিয়েও পোড়া কপাল জোড়া লাগেনি – গণেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যযে কারণে ৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে মাকে টুকরো করেছিল ছেলেনোয়াখালীতে মাকে টুকরো টুকরো করে মামলা করলো ছেলে নিজেইকোম্পানীগঞ্জে ধানক্ষেতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত মরদেহপুলিশ পরিচয়ে ২৮ লাখ টাকা লুটলাকসামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্ত:জেলা ৬ ডাকাত আটকজাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতকুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার বজলুল রশীদের বিচার শুরুকুমিল্লায় নারী কাউন্সিলরের গলায় কাটারের আঘাতদেবিদ্বারে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যুকুমিল্লায় আড়াই হাজার ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

করোনাকালীন বায়ুদোষন

অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: করোনাকালীন লকডাউন বায়ুদোষন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল যাহা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড পরিমানে লক্ষ্য করা যায়। উত্তর চীনের ৪৪টি নগরীর একটি চিত্র রুই বাউ তুলে ধরেছেন যাহাদের বায়ুদোষন মাত্রা অনেক কমে গিয়েছিল। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচে বড় কোয়ারেনটাইন আরোপিত হয়েছিল ২৩শে জানুয়ারি ২০২০ যাহা কয়েকদিনের মধ্যেই চীনের অন্যান্য শহরগুলিতে চালু হয়। মানব সমাগম, সম্পর্কিত উৎপাদন এবং তার ব্যবহার লক্ষণীয়ভাবে কমে গিয়েছিল। বায়ুদোষনের মাত্রা ১লা জানুয়ারি থেকে ২১ শে মার্চ ২০২০ যাচাই করলেই বুঝা যায় ভ্রমনজনিত মনুষ্য গমনাগমন বন্ধ হওয়ার কারণে বায়ুদোষন উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বায়ুদোষন হ্রাসের ব্যাপারে বলা যায়-
১. মহামারীর সময় ভ্রমনজনিত নিষেধাজ্ঞার কারনে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৭.৮০% ভাগ কমে যায় এবং বায়ুদোষণের ৫টি উপাদান (সালফারডাই অক্সাইড ঝঙ২, চগ২.৫, চগ১০, ঘঙ২ এবং কার্বন মনক্সাইড ঈঙ ) কমে যায় ক্রমানুসারে ৬.৭৬% ভাগ, ৫.৯৩% ভাগ, ১৩.৬৬% ভাগ, ২৪.৬৭% ভাগ এবং ৪.৫৮% ভাগ।
২. প্রক্রিয়াগত বিশ্লেষণে দেখা যায় মনুস্য গমনাগমন কমে ৬৯.৮৫% ভাগ এবং অছও, চগ২.৫, ঈঙ আংশিকভাবে মানুষ যাওয়া আসার উপর নির্ভর করে কিন্তু ঝঙ২, চগ১০, এবং ঘঙ২ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে।
৩. এই বিবরণীর প্রাপ্তিসমূহ অবশ্যই সবুজ, উৎপাদন ও ভোগ করার গুরুত্ব অনেকটা বুঝিয়ে দেয়।
বায়বীয় গুনাবলীর উপর মানুষের স্বাস্থ্য অনেকটা নির্ভর করে। ২০১৯ সনের গেøাবাল এয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় ২০১৭ সনে সমগ্র পৃথিবীতে ৫ মিলিয়ন মানুষ বায়ুদোষনে মৃত্যুবরন করে এবং সর্বোচ্চ ১০টি দেশের মধ্যে চীনে সবচে বেশী (১.২ মিলিয়ন) মারা যায়। বিগত কয়েক দশকের অনেক গবেষণায় দেখা যায় বায়ুদোষণে অনেক অল্পবয়সে (চবহম বঃ ধষ ২০০০) হৃদ রোগ বা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে মৃত্যুবরন করে। বেশী জনসংখ্যার দেশ চীন বিগত কয়েক বৎসর যাবত বায়ুদোষন কমানোর কাজে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফিনল্যান্ডস রিসার্চ সেন্টার ফর এনার্জি এন্ড ক্লিন এয়ার ইন চায়না’র গবেষণায় দেখা যায় কভিড-১৯ এর সংক্রমন বন্ধের উদ্যোগের কারণে ভ্রমন বন্ধকরন ও কলকারখানা বন্ধ রাখার জন্য ঈঙ২ উৎপাদন ২৫% ভাগ কমে যায়। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির এক গবেষণায় দেখা যায় উত্তর ইটালিতে ১লা জানুয়ারী থেকে ১১ই মার্চ ২০২০ পর্যন্ত লক্ষণীয় পরিমানে ঘঙ২ বাতাসে কমে গেছে যেসময় করোনার কারনে লকডাউন চলছিল। ইনষ্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স এন্ড মেটেরিয়লজির এক সমীক্ষায় দেখা যায় কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইনের জন্য (১৬ই মার্চ ২০২০) মেট্টো ম্যানিলায় চগ২.৫ এবং চগ১০ লক্ষণীয় মাত্রায় কমে গিয়েছিল কলকারখানার উৎপাদন বন্ধ, ক্রাসিং মেশিন ও রাস্তা থেকে ধূলাবালি কম ছড়ানোর কারণে। নিকট অতীতের একটি গবেষণায় (তষস বঃ.ধঃ ২০২০) বিবৃত করেছেন যে বায়ুযদোষনের উচ্চমাত্রা ও কভিড-১৯ সংক্রমনের অধিক আশংকা একই সুত্র বাধা।
করোনা পেনডেমিকের শুরুতে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ লকডাউনে ছিল। বিমান চলাচল ছিল সম্পূর্ণ বন্ধ। কয়েকটি মোটরযান দেখা যেত রাস্তায় যার জন্য পৃথিবীর অনেক স্থানেই বায়ুদোষন লক্ষণীয় পরিমানে কমে এসেছিল। ইটালির মিলান ছিল সব সময়ই ধূয়াশাচ্ছন্ন। যাহা পেনডেমিকের সময় স্বচ্ছ হয়েছিল। যার জন্য পেনডেমিক পরবর্তীতে কিভাবে মোটরযান চলাচল কমানো যায় সে নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। ভেনিসের খালসমূহে পানির স্বচ্ছতা লক্ষ করা গিয়েছে যেথায় সারিবদ্ধভাবে নৌকাগুলি বাধা থাকত।

অনেক স্থানে বায়ুদোষনের পরিমান ২৫% ভাগ কমেছে বলে লক্ষ্য করা যায়, ৯৬% ভাগ ভ্রমন কেন্দ্রগুলো লকডাউনে বন্ধ ছিল। সিএনএন এর মতে ড্রাইভিং ৩৫% ভাগ থেকে ৫০% ভাগ কমে গিয়েছিল খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এ পরিস্থিতিটি বেশিদিন ছিল না কিন্তু স্বল্প সময়ের স্মৃতিটুকুই সকলের মনে দাগ কেটেছিল। নিউইয়র্ক টাইমস এর মতে দূর্যুগপূর্ণ বায়ুদোষনের প্রায় ১৪ থেকে ২০টি শহর রয়েছে ভারতবর্ষে। গত এক দশকে এমন পরিস্কার নীলাকাশ কখনও দেখেনি বলে একজন অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজির শিক্ষক নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন ২০১৯ সনে বাদামী বর্ণের ধূলায় বায়ুপূর্ণ ছিল দিল্লী যা সিএনএন এর বর্ণনায় উঠে এসেছে। রয়টার বলেছে লকডাউনের সময় দিল্লী অনেক দিন পরিচ্ছন্ন বাতাস উপভোগ করল যা ছিল রেকর্ড পরিমান দূষিত। দিল্লীর ১.৩ বিলিয়ন নাগরিক ২১দিন লকডাউনে ছিল। লকডাউন আরম্ভের কয়েকদিনের মধ্যে দিল্লীর বায়ুদোষন ৬০% ভাগ কমে গিয়েছিল ওয়াশিংটন পোষ্টে লেখা হয়েছে। দুষিত মাইক্রস্কপিক পার্টিকেল (চগ২.৫) এবং নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড নতুন দিল্লীতে লকডাউন আরম্ভ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ৭১% ভাগ কমে গিয়েছিল বলে সিএনএন রিপোর্টে পাওয়া যায় বায়ুদোষনের মান এত খারাপ ছিল যে নভেম্বর ২০১৯ এ নতুন দিল্লীতে পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি ঘোষণা করা হয়েছিল। লকডাউনের ১টি সপ্তাহে ঘঅঝঅ’র পরিদর্শনে ভারতীয় বায়ুদোষণ মাত্রা ২০ বৎসর পূর্বের অবস্থানে চলে গিয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে শুধু বায়ুদোষন ভারত বর্ষে ১.২৫ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরন করে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় গত একদশকে কিছু কিছু স্থান থেকে প্রথম বারের মত লকডাউনের সময় হিমালয়ের দর্শন মিলে। একইভাবে জম্মুু কাশ্মীরের একটি আবাসিক এলাকা থেকে বির পানজাল মাউনটেইন রেইঞ্জ এখন দেখা যায়।

জাকার্তার বায়ুদোষন এতই খারাপ ছিল যে গার্ডিয়ানের রিপোর্টে লেখা হয়েছে যে স্থানীয় একটি সক্রিয় গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। ডাকার্তা পোষ্টের বার্তায় জানা যায় মার্চের’২০ শেষের দিকে কিছু সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারনে বাতাসের গুনাবলী অনেক উন্নত হয়েছিল। কিছু দিনের জন্য জাকার্তা ছিল পৃথিবীর সবচে ধুয়াশাপূর্ণ শহর। একটি স্থানীয় পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে ইসলাবাদের বায়ুদোষনের মাত্রা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল অধিক সংখ্যক মোটরকার ও স্টীল মিলের কারণে লকডাউনের জন্য যান চলাচল কমে যাওয়ার কারণে ধূয়াশা অনেকটা কমে গিয়েছিল।

লস এঞ্জেলস দুটি দুর্নামের জন্য খ্যাতি লাভ করেছে-একটি ধূয়াশা আরেকটি অত্যাধিক যানবাহন, সিএনএন এর বর্ণনায় দেখা যায় ১৯৯৫ এর পরে মার্চ ২০ এর কয়েকটি দিনই উত্তম বায়ুযুক্ত দিবস অতিবাহিত হয় লস এঞ্জেলসএ।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ই জুনে বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন লকডাউনের কারণে পরিবেশের অনেক উপাদান উন্নতর হয়েছে যেমন- বাতাসের গুনাবলী, শব্দদোষন, পানির গুনাবলী ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বায়োডাইভারসিটি। এ ধরনের লকডাউনকে জরুরী ব্যবস্থা হিসাবে শীতকালীন প্রচন্ড বায়ুদোষণ কমাতে দিল্লী এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নেয়া যেতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
শুশান্ত মাহাতো (বঃধষ) এর এক গবেষণাপত্রে লক্ষ্য করা যায় যে- (১) চগ১০ এবং চগ২.৫ এর ঘনত্ব লকডাউনের সময় দিল্লীতে অর্ধেকে নেমে আসে। (২) ঘঙ২ এবং ঈঙ লক্ষণীয় মাত্রায় কমে যায় (৩) পরিবহন ও শিল্পাঞ্চল সমূহে এয়ার কোয়ালিটি ৬০% ভাগ উন্নতি লাভ করে। (৪) কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলে সবচে বেশী এয়ারকোয়ালিটি উন্নতি লাভ করেছে (৫) লক ডাউনের ২য় ও ৪র্থ দিনে ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত এয়ার কোয়ালিটি উন্নতি লাভ করে। কভিড-১৯ পেনডেমিকে সর্বভারতে প্রথম পর্যায়ে ২৪ মার্চ’২০ থেকে ১৪ই এপ্রিল’২০ পর্যন্ত লক ডাউন পিরিয়ড ছিল যাহা বর্ধিত করে ৩রা মে’২০ পর্যন্ত নেয়া হয়। এয়ার কোয়ালিটি ডাটা নিয়ে প্রি’লকডাউন ও লকডাউন সময়ের তুলনামূলক এ গবেষণায় দিল্লী মেগাসিটির ৩৪টি পয়েন্টে চগ১০, চগ২.৫, ঝঙ২, ঘঙ২, ঈড়,ঙ৩ এবং ঘঐ৩ এ সাতটি দোষনকারীর পরিমাপ নেয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায় চগ১০, চগ২.৫ ৫০% ভাগেরও বেশী উন্নতি লাভ করেছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ এর তুলনায় চগ১০ এবং চগ২.৫ ক্রমানুসারে ৬০% ও ৩৯% কমেছিল। ঘঙ২ কমেছে ৫২.৬৮%, ঈঙ কমেছে ৩০.৩৫% । এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দিল্লী মেগাসিটির কেন্দ্রীয় ইষ্টার্ন সাউদার্ন, ওয়েষ্টার্ন ও নর্দান পার্টে ক্রমান্বয়ে ৫৪%, ৪৯%, ৪৩%, ৩৭% এবং ৩১% কমে যায়। সুবিধাজনক সময়ে একটি নির্দিষ্ট কাল লকডাউন সিস্টেম চালু করে পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা নিতে গবেষকরা সুপারিশে করেছেন।
সাদিকুর রহমান ২৫শে জুন ’২০ তার ভাস্যে বলেন দুইমাসে সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে ঢাকার পরিবেশে বিশুদ্ধ বাতাস খুজে পাওয়া গিয়াছে। কারন হিসাবে তিনি বলেন ঐ সময় নির্মান কাজ বন্ধ ছিল। মেরামতের কাজ বন্ধ ছিল, যানবাহন থেকে নির্গমন বন্ধ ছিল, শিল্প কারখানা থেকে দোষনকারী গ্যাসীয় পদার্থাবলী বাহির হয় নাই। গোটাদেশ মার্চের শেষ সপ্তাহে অফিস-আদালত, শিল্পকারণারা, যানবাহন চরাচল সরকারীভাবে বন্ধ করার জন্য দোষণের পর্যায়ে পৃথিবীর ২য় স্থানের নগর ঢাকায় বায়ুদোষণে অনেক উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায়। কিছু কিছু গবেষক বলেছেন এপ্রিল’২০ ও মে’২০তে এবার কোয়ালিটি গত ২ বৎসরের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ছিল যাহার বেশী খারাপ হওয়ার কারণ হিসাবে সবাই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজকেই দায়ী করছিল। এ দুই মাসের ষাটডাউনে সকল প্রকার নির্মাণ ও মেরামত কাজ পরিবহন ও যোগাযোগ বন্ধ, শিল্প কারখানার কার্যক্রম স্থগিত রাখার কারণে পরিচ্ছন্ন বায়ু পরিবেশকে দখল করতে পেরেছিল। সাধারণ ছুটির দিনে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ৩০% ভাগ উন্নতি লাভ করে। ডবিøউএইচও’র মতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচটি রোগ বায়ুদোষনের সঙ্গে সম্পর্কিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্পন্সর ২০১৬ সনের এক গবেষণায় দেখা যায় চগ২.৫ এর দোষণের কারণে সারাদেশে এক লক্ষেরও বেশি মৃত্যু সংগঠিত হয়েছিল। (ফাইন পার্টিকেল যার ব্যাসার্ধ ২.৫ সরপৎড়হং এর কম)। ইটের শুড়কি বহনকারী, রাস্তার ধূলাবালি, ইমারত নির্মান, খোলা বর্জ্য, জীবাষ্ম জ্বালানী ও কার্বন পার্টিকেল সমূহই ঢাকার বায়ুদোষনের কারণ বলে ষ্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামানের মত। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন আয়োজিত ১৫ই জুন’২০ এর এক ওয়েবিনারে তিনি বলেন ৭ই এপ্রিল’২০ থেকে ১৬ই মে’২০ পর্যন্ত চগ২.৫ এর দৈনিক ঘনত্ব ছিল ৮৪.৯ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার যাহা বিগত ২০১৭ সন থেকে সর্বনি¤œ। তিনি আরও বলেন ২৫ মার্চ’২০ থেকে ১৫ মে’২০ পর্যন্ত চগ২.৫ এর ঘনত্ব বেড়ে ১৫০ এ উঠেছিল। যা আমাদের দেশে ৬৫ মাইক্রগ্রাম/ কিউবিক মিটার পর্যন্ত সহনীয়। অধ্যাপক কামরুজ্জামান ষাটডাউনের সাধারন ছুটিতে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডও ২৮.৫% ভাগ কমেছিল বলে ওয়েবিনারে প্রকাশ করেন। যদিও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড মে’২০ এর শেষের দিকে আবার বেড়ে গিয়েছিল ফ্যাক্টরিসমূহ পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য। কার্বন মনক্সাইডের পরিমান ও এপ্রিল’২০ তে ১৪ চচইঠ থেকে কমে ১২ চচইঠ তে নেমে এসেছিল একই ওয়েবিনারে লক হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজির অধ্যাপক মো: খালেকুজ্জামান তার এক ষ্টাডিতে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটির পরিবর্তন ছিল কলকাতা, নিউ দিল্লী ও লাহোরের চেয়ে কম বলে প্রকাশ করেন।
অধ্যাপকবৃন্দ ষাটডাউনের সময়ের শিক্ষা থেকে আগামীদিনগুলিতে বায়ুদোষন নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেন। অধ্যাপক কামরুজ্জামানের ভাষায়-নির্মান কাজের ধূলাবালু নিযন্ত্রণের কাজ এখনই শুরু করা উচিত। ডিজেল চালিত সকল মোটরযানের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানী পদ্ধতি শীঘ্রই চালু করা উচিত। ছাদের উপর সব্জি বা ফলের চাষে প্রাধান্য দেয়া হোক। অধ্যাপক খালেকুজ্জামান বলেন ইনসেনটিভ দিয়ে হলেও রিক্সা বা বাইসাইকেল চালানোকে উৎসাহিত করা উচিত। মার্চ’২০ এ একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি হাইকোর্ট বরাবর একটি বায়ুদোষন সীমিত রাখার গাইডলাইন জমা দিয়েছেন যার সভাপতি ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব নীজে যা কার্যকর হওয়া বাঞ্ছনীয়। পরিচালক জিয়াউল বলেছেন ষাটডাউনের জন্য সহসা গাইডলাইন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। একটু সাধারণ অবস্থা ফেরত আসলে ডিএমপি ট্রাফিক, বিআরটিএ মিলে শত শত আনফিট যানবাহন নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। একই সঙ্গে নির্মান কাজের গাইডলাইন অবশ্যই পালন করতে হবে। আমরা যদি সঠিকভাবে গাইডলাইন বাস্তবায়ন করি তবে আমাদের রাজধানীর বায়ুদোষণ আর মার্চ’২০ এর পূর্বের অবস্থানে কখনোই যাবে না।

অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

সভাপতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, কুমিল্লা

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *