BREAKING NEWS
Search
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শরণার্থীদের খোঁজে-৩৮: জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া মাত্রই মারধর শুরু করে – সুমঙ্গল রায়আমড়াতলীর পূজা মন্ডপে সমাজ সেবক জয়নালের আবেদীনের আর্থিক অনুদান প্রদানমহানবীকে অবমাননায় কুয়েতে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাকমুরাদনগর সদরের সড়কের জলাবদ্ধতায় মাছ শিকার!৭ বছরেও সন্ধান মেলেনি কুমিল্লার জাকিরেরসুয়াগাজি বাজারে অগ্নিকাÐে দশ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাইকুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার শেষ হতে না হতেই পুনঃসংস্কার,যানজট দুর্ভোগশরণার্থীদের খোঁজে-৩৭ : মেরে ফেলার জন্য চোখ বাঁধে কিন্তু গুলি না থাকাতে বেঁচে যাই -সোনালী ভট্রাচার্যনোয়াখালীর সেই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে আরেকটি ধর্ষণ মামলাবৃষ্টি বিদায়ের পথে, শীত আসছেনুসরাত হত্যা : ফাঁসির রায় কার্যকর চান স্বজনরাআইপিএল নিয়ে জুয়া ঠেকাতে ফেনীতে ক্যাবল নেটওয়ার্ক বন্ধ!মানব শরীরে নতুন অঙ্গের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরাভারতকে ‘নোংরা’ বললেন ট্রাম্পমৃত করোনা রোগীর ফুসফুস দেখে বিস্মিত চিকিৎসকরাবাদ জোহর রফিকুল-উল হকের জানাজা, বিকালে দাফনরফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোকবাংলাদেশকে ১০০ ভেন্টিলেটর দিল যুক্তরাষ্ট্রব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেইমেঘনায় বিয়ারসহ কুস্তিগীর কালাই আটক

সস্তার পাম তেলও সয়াবিন তেলের মূল্যে

বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের তেল হিসেবে পরিচিত পাম তেলও সয়াবিন তেলের দামে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া সবজি, আলু ও পেঁয়াজের দামও কমেনি। তবে বেড়েছে চালের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন ছায়েদ আলী বাজার, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, শান্তিনগর, সেগুন বাগিচা, নিউমার্কেট ও পলাশী বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ৯৫-৯৭ টাকায় উঠেছে। খুচরা বাজারে এখন সাধারণ মানের খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৯-৯০ টাকা লিটার। আর ভালো মানের পাম তেল ৯৩-৯৪ টাকা লিটার। অর্থাৎ ভালো মানের সয়াবিন ও পাম তেলের দাম প্রায় সমান।

এদিকে এক বছর আগে খুচরা বাজারে যখন খোলা সয়াবিনের দাম ছিল ৭৭-৮৫ টাকা লিটার। তখন নিম্ন আয়ের মানুষের তেল হিসেবে পরিচিত পাম তেল ছিল ৫৮-৬৫ টাকা। অর্থাৎ সয়াবিন ও পাম তেলের দামের ব্যবধান লিটারে ছিল ২০ টাকা। 

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের ঘাটতি না থাকলেও দেশের বাজারে কিছুদিন সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল। ১৫ দিন আগে পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি মণ তিন হাজার ৫৫০ টাকা বা লিটারে ৯৫ টাকা বিক্রি হয়। সয়াবিনের এই বাড়তি দামে ক্রেতা কমে আসে। বিপরীতে চাপ পড়ে দাম কম থাকা পামের ওপর। ফলে পাম তেলের দামও বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৪০০ টাকা মণ বা ৯১ টাকা লিটার দরে। খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ১৭০ টাকা মণ বা ৮৫ টাকা লিটার দরে। ভালো মানের পাম সুপার পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ২৫০ টাকা মণ বা ৮৭ টাকা লিটার।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে আড়াই শতাংশ, খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ ও পাম সুপারের দাম বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। বাজারে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিনের দাম ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি আবুল হাশেম বলেন, তেলের বাজারে দামের কোনো স্থিরতা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় মিলগেট থেকে পাইকারি বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। কারণ মিল থেকে এক এক সময় এক এক দর দেয়া হচ্ছে। দিন পনেরো আগ পর্যন্ত তেলের সরবরাহ অনেকটাই কম ছিল। ফলে দামও বেশি ছিল। এখন সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। 

তবে বাজারে ভোজ্য তেল ছাড়াও চাল, ডাল, সবজি, আলু, পেঁয়াজ, আদা থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যেই ভোক্তাকে গুণতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি দাম। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাড়তে থাকা চালের দাম চলতি সপ্তাহে আরও বেড়েছে। চিকন মিনিকেট, নাজিরশাইল কেজিতে এক-দুই টাকা বেড়ে ৫৭-৬৫ টাকায় উঠেছে। ৪৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না ব্রি-২৮, স্বর্ণা, পাইজাম, চায়না ইরিসহ মোটা চাল। ভালো মানের মোটা চাল ৫২ টাকা কেজি।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গতকাল পাইকারি বাজারে মিনিকেট বিক্রি হয়েছে আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ পয়সা বেশি দামে সাড়ে ৫৪ টাকা কেজি। ব্রি-২৮ বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা, নাজিরশাইল ৫৮ টাকা, কাটারিভোগ ৮২ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বাসমতি ও চিনিগুঁড়া পাইকারি বাজারে কেজিতে এক টাকা বেড়ে ৬১ ও ৮৯ টাকা বিক্রি হয়েছে। খুচরায় এসব চালের দাম বাজার ভেদে পার্থক্য রয়েছে।

বাজারে হঠাৎ আলুর দাম বেড়ে ৫০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সর্বোচ্চ খুচরা দাম ৩০ টাকা বেঁধে দিলেও কোনো ব্যবসায়ী তা মানছেন না। এখনো বাজারে আলুর কেজি ৫০ টাকার ওপরে। বরং বিক্রেতারা বলছেন, দাম আরো বাড়তে পারে। কারণ বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রি করবেন না বলে অনেক পাইকার হিমাগার থেকে আলু সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। এতে সংকট আরো বাড়ছে।

গত এক মাস ধরে পেঁয়াজের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। অথচ মাসখানেক আগেও ৪০-৪৫ টাকা ছিল। দেশি আদার দাম ৯০-১১০ টাকা হলেও চায়না আদার দাম বেড়ে ২৬০ টাকা কেজি হয়েছে।

সবজি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই। গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক কেজি কিনলে ২৫০ টাকা রাখছেন বিক্রেতারা। বেগুন ৮০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৯০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। 

এদিকে চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। খুচরা বাজারে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে। ডিম গত সপ্তাহের মতো ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *