অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করতে যাচ্ছে বিসিবি!

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

চলমান ক্রিকেট সংকটের পথ ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঢাকা পর্ব শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে থমকে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। রাতে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটি। তখনই গণমাধ্যমকেও অফিসিয়ালি জানাবে বিসিবি।

এই সংকটের সূত্রপাত বুধবার বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটারদের নিবেদন ও অর্জন নিয়ে করা তার বক্তব্য এবং তামিম ইকবালকে নিয়ে করা মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দেশের ক্রিকেটাররা। এর প্রতিবাদে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেয়। চাপের মুখে বিসিবি নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেও ক্রিকেটাররা তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসেননি।

বৃহস্পতিবার থেকেই বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে কোয়াবের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্রিকেটাররা বিপিএলের ম্যাচেও মাঠে নামেননি। ফলে দিনের নির্ধারিত দুটি ম্যাচই স্থগিত হয়ে যায়। বিসিবি আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়রা মাঠে না নামলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করা হবে। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে না ফেরায় সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করে বোর্ড।

নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে ঢাকা পর্বের সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর সাড়ে ১২টায় টস পর্যন্ত হয়নি। মাঠে দেখা যায়নি কোনো ক্রিকেটারকে। যদিও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক রাকিবুল হাসানসহ একাধিক শীর্ষ পরিচালক মিরপুরে উপস্থিত ছিলেন। খেলা শুরু না হলেও অনেক দর্শক গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন এবং আরও অনেকে গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

দর্শকদের উদ্দেশে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিসিবি একটি বার্তা দিয়ে জানায়, অনিবার্য কারণে ম্যাচটি বিলম্বিত হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব খেলা শুরু করার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার একপর্যায়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেলে দর্শকরা স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করেন। টিকিটের অর্থ ফেরত বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের বিষয়ে বিসিবি তখন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে দুপুরে বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে কোয়াব। সেখানে জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন স্পষ্ট করে জানান, শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে ফিরবেন না। ক্রিকেটারদের এই কঠোর অবস্থানের পর বিসিবি মাঠের সব প্রস্তুতি বন্ধ করে দেয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বোর্ডের বৃহত্তর স্বার্থে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিজের ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনিই অর্থ কমিটির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বোর্ড আবারও দাবি করে, ক্রিকেটারদের স্বার্থই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং তারা ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করে।

তবে বিসিবির এই ঘোষণার পরও সংকট কাটেনি। ক্রিকেটারদের অনড় অবস্থান ও বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। এতে শুধু ক্রিকেট উৎসবই থেমে গেল না, অসংখ্য স্থানীয় ও বিদেশি ক্রিকেটারের রুটি-রুজিও পড়ল অনিশ্চয়তার মুখে। সিলেট পর্ব সফলভাবে শেষ হলেও ঢাকা পর্বে একটি ম্যাচও মাঠে না গড়ানোয় হতাশ দর্শক-সমর্থকরা।