আখাউড়ায় বেড়েছে তাল শাঁসের কদর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া মহল্লায় কাঁচা তাল বিক্রি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতি পিস তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। তবে গরম বেশী থাকায় তালের শাঁস বিক্রির চাহিদা ও বৃদ্ধি পেয়েছে। গরমের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালের শাঁস অনেক উপকরী হওয়ায় সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে তালশাঁস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জ্যৈষ্ঠের ভ্যাপসা গরমে শরীরের পানি শূন্যতা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এই ফলটি। ফলটি ফরমালিন মুক্ত, পুষ্টিকর খাদ্য হওয়া এবং বিভিন্ন ধরণের ঔষুধি গুন থাকায় মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। সহজলভ্য ও মুখরোচক হওয়ায় বিভিন্ন বয়সী শ্রেণি পেশার মানুষের এ সময়ের পছন্দের ফল তাল শাঁস।

মৌসুমী তাল শাঁস বিক্রেতা মো. নাসির মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গত দুই দিন ধরে তিনি মৌসুমী তাল পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় বিক্রি করছেন। ওইসব তাল গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি সংগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, গত দুই মাস আগে ছোট অবস্থায় ৩টি গাছের তাল ৩ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ওই তাল পরিপক্ক হতে শুরু হওয়ায় গাছ থেকে কেটে হাট বাজারে বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারে তালের ভালো চাহিদা থাকায় প্রতি পিস তাল ২৫-৩০ টাকা বিক্রি করছেন। এক একটি গাছ থেকে ৬ হাজার টাকার ওপর তাল বিক্রি হয়।

তাল বিক্রেতা কালাম মিয়া বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মধু মাসে তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে তাল ক্রয় করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এ মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় ৪ টি গাছের তাল চুক্তি করে রেখেছেন। প্রতিটি গাছের তাল গড়ে ১২শ’ টাকায় কেনা হয়েছে। নিজেই গাছ থেকে কেটে এনে ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রি করছেন। গরম বেশী পড়লে বিক্রি বেড়ে যায়। দৈনিক ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ তাল শাঁস বিক্রি হয়।

ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তালের শাঁস একটি সু-স্বাধু ফল। বাজারে আসা অসংখ্য ফলের চেয়ে এই ফলের বৈশিষ্ট্য আলাদা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, একটি তাল শাঁসে ৯২ শতাংশ জলীয় অংশ, ক্যালরি থাকে ২৯ শতাংশ, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪ মিলি গ্রাম।
এর বেশীভাগ অংশ জলীয় হওয়ায় শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। যদি আবহাওয়ার কারণে শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে যায় সেটিও পূরণ করতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বৈশ্বিক আবহাওয়ার কারণে তাল গাছ সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আসলে তালগাছ দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে এটি দুর্যোগ সহনশীল একটি গাছ। তাল গাছ বৃদ্ধি করা যায় এজন্য নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।